Skip to main content

বিষন্নতা


 বিষন্নতায় ভোগা রোগীকে যা যা বলবো না -

১. ধৈর্য ধরো সব ঠিক হয়ে যাবে ২. একটু কোথা থেকে ঘুরে আসো সব ঠিক হয়ে যাবে ৩. মাথা থেকে সব চিন্তা দূর করে ফেলো ৪. তোমার ঈমান দুর্বল তাই এমন হচ্ছে ৫. প্রতিদিন এক ঘন্টা দৌড়াও তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে ৬. মানুষের কত কষ্ট থাকে তোমার এমন কি কষ্ট ? ৭. গরিব মানুষদের দিকে একটু তাকাও মন খারাপ ঠিক হয়ে যাবে ৮. মনটা একটু শক্ত কর, এত নরম হলে কি হবে ? ৯. নামাজ আর কুরআন হলো সকল সমস্যার সমাধান। ১০. তোমাকে জিনে ধরেছে তাই এরকম হয়। বিষন্নতা একটি রোগ যার বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা করতে হয়। বিষন্নতায় ভোগা রোগীর কোন কিছুই করতে ভালো লাগেনা। আমরা যখন উপরের কথাগুলো বলি তখন বিষন্নতা ভোগ আর রোগী আরো বিষন্ন হয়ে যায়। এ সময় তার পাশে থাকা এবং তাকে চিকিৎসা করানো আমাদের কাজ।
'শুধু নামাজ পড়লেই ডিপ্রেশন দূর হয়ে যায়' এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। নামাজ পড়া, কোরআন পড়া অবশ্যই ভালো কাজ। এগুলো করার মাধ্যমে মন হালকা হয়, সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্ক ভালো হয়। কিন্তু বিষন্নতা একটা মানসিক রোগ যার চিকিৎসা করার প্রয়োজন হয়। ডায়াবেটিসের রোগীকে আপনি প্রথমে নামাজ পড়তে বলেন? হার্ট অ্যাটাক‌ হলে আমরা কি শুধুই নামাজ পড়তে বলি ? তাহলে বিষন্নতা দূরীকরণে কেন আমরা শুধু নামাজ পড়তে বলি ? কারণ বিষন্নতাকে আমরা একটা রোগ মনে করিনা । আপনার যদি কখনো বিষন্নতা হয়ে থাকে তাহলে বুঝবেন যে বিষন্নতার রোগীর কোন কিছু করতে ভালো লাগেনা। নামাজ পড়া,‌কুরআন পড়া, ব্যায়াম করা, গান শোনা, ঘুরতে যাওয়া - কোন কিছুই তার ভালো লাগেনা। তবে বিষন্নতার রোগীকে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি অবশ্যই স্রষ্টার কাছে সাহায্য চাইতে আপনি বলতে পারেন। কারণ স্রষ্টার সাহায্য ছাড়া কোন প্রকারের রোগ থেকেই মুক্তি লাভ সম্ভব নয়।dr khusal

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...