Skip to main content

বিডিআর হ ত্যা কাণ্ডের কমিশন গঠন

 


প্রথমেই বুঝতে হবে, বিডিআর হ ত্যা কাণ্ডের কমিশন গঠন হওয়ার মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত হলে মেজর সাফার করবে কে?

এক কথায় ‛ভারত’ কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, ভারত তো এর আগেও নানান দেশে তাদের কাভার্ট অপারেশন চালিয়েছে এবং ধরাও খেয়েছে। তাহলে বাংলাদেশে তাদের সমস্যাটা হচ্ছে কোথায়? সমস্যাটা বুঝতে গেলে আমাদেরকে বিগত দুইদিন সহ কয়েক মাসের সিগনিফিকেন্ট কয়েকটি ইনসিডেন্ট খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে বিগত দুইদিনে দুটো মেজর ইনসিডেন্ট ঘটেছে। প্রথমত― যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ‛অসহযোগী’ দেশ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। ডিপ্লোম্যাসির ভাষায় অসহযোগী মানে শত্রুর কাছাকাছি; তাও আবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের মত দেশ। চাট্টিখানি কথা নয়। রেড লাইন কনসিডারেশনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান যদি 20 হয়ে থাকে, তবে ভারত অলরেডি 18; অর্থাৎ যেকোনো মুহূর্তে ভারতকে ধরা হবে। দ্বিতীয়ত― সুইজারল্যান্ড তাদের দেশে ইন্ডিয়ান এন্টিটির উপর ট্যাক্স বাড়িয়েছে। ইন্ডিয়ান কম্পানি গুলিকে এখন থেকে এক্সট্রা ট্যাক্স তো দিতেই হবে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তাদের ইনকামও লিমিট করা হয়েছে (টেকনোলজি এবং পেট্রোকেমিক্যাল সেক্টরে); যেটা ভারতীয় বিজনেজম্যানদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি এবং লজ্জাজনক। কারন ট্যাক্স এক্সটেনশনের ব্যাপারটা অন্য কোনো দেশের জন্য এপ্লিক্যাবল নয়। এটা গেলো বিগত দুইদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এবার যদি আমরা মাসখানেক পেছনে ফিরে তাকাই, তাহলে কি দেখব? মাসখানেক পেছনে ফিরলে দেখা যায়, শিখ নেতা হ ত্যা নিয়ে ভারতের সাথে কানাডার ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে বিশাল কন্ট্রোভার্সি। যেখানে ভারত ডাহা ফেল করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিখ নেতাকে মা র্ডা রে র দায়ে এক্স ইন্ডিয়ান আর্মি অফিসার এবং 'র' এর হিট স্কোয়াডের সদস্য বিকাশ জাদবকে মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে রেখেছে FBI মানি লন্ডারিং, মার্ডারার হায়ার সহ নানান অপকর্মের জন্য ভারতকে ব্ল্যাকলিস্ট করেছিল ‛ফাইন্যান্সিয়াল একশন টাস্ক ফোর্সেস'- FATF কানাডার মাটিতে তাদের নাগরিক হ ত্যা নিয়ে কানাডিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে হুঁশিয়ার করে বলেন ‛Five eyes is considering and everything on the table’ এই সবকিছুকে এক জায়গায় করে ইক্যুয়েশন মেলানোর চেষ্টা করলে আমরা যেটা পাই তা হলো― RAW তার লিমিট ক্রস করে CIA বা Five Eyes এর সাথে খেলতে গিয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে ইতিমধ্যে ফাইভ আইসের হাতে তাদের বেশকিছু আন্ডারকাভার অপারেটিভ হান্ট ডাউন হয়েছে এবং সর্বোপরি ভারতের প্রেস্টিজ লুস হয়েছে। ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে তাদের রেপুটেশন হ্যাম্পার হয়েছে। ভারতকে হুট করেই ‛অসহযোগী’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এটা দীর্ঘমেয়াদি ক্যালকুলেশনের বাই প্রোডাক্ট। বিশ্বব্যাপী ভারত যখন তার লুস হওয়া টেম্পার ফিরে পেতে চেষ্টা করছে, তখন বাংলাদেশের সামনে সুবর্ন সুযোগ ছিল বিডিয়ার হ ত্যা কাণ্ডের কমিশন গঠন করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভারতকে বস্ত্র হরণ করার। আর ঠিক সেই কাজটিই বাংলাদেশ করতে পারলো না। কিন্তু কেনো করতে পারলো না? অনেকেই এটাকে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব মিস্রার আনঅফিসিয়াল ভিজিটের ইমপ্যাক্ট হিসেবেই গণ্য করছেন। মিস্রা তার দুই প্রতিনিধি সহ ক্যান্টনমেন্টে যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তারা তো বটেই, তবে তারা ছাড়াও বর্তমান সরকারের মধ্যকার একটি এন্টিটি এবং টেবিলের বাইরে থাকা বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য পলিটিক্যাল উইংয়ের রাজধানী কেন্দ্রিক সেকেন্ড লেয়ারের কিছু লোকজন এই কমিশন গঠন না করার জন্য মৌন সমর্থন দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তারা নিশচিতভাবে ভারত থেকে উপঢৌকন পাবেন। তবে ব্যাকবোনলেস এই ব্যক্তিরা জিও-পলিটিক্স খুব একটা বোঝেন না। ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলাফল হবে অত্যন্ত মারাত্মক। তাদেরকে প্রচন্ডভাবে সাফার করতে হবে, কিন্তু সেটা তারা বুঝতে পারছেন না। যাদের ভরসায় তারা এই কাজ করার সাহস দেখিয়েছেন, তাদেরকে শায়েস্তা করতেই আমেরিকা বাংলাদেশে রিপল এটাক দিয়েছিল; অর্থাৎ সিঙ্গেল শটে মাল্টিপল ড্যামেজ। সেই ড্যামেজের একটি ভিজ্যুয়াল শকওয়েভ হলো ভারতকে ‛অসহযোগী’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা। আপনারা যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে এই জঘন্য খেলা খেললেন, জাস্ট একটু ভারতের ইন্টারনাল পলিটিক্সের দিকে মাঝেমধ্যে নজর দিয়েন। চ্যালেঞ্জ করে বললাম, ভারত ২৫' সাল পার করতে পারবে না। তার আগেই মেজর আপরাইজিং ফেস করবে। ২৬' সালের মধ্যে সাউথ এশিয়ায় জিওপলিটিক্যাল আর্থকুয়াকে পুরো সিনারিও চেন্জ হয়ে যাবে। তখন আমরা আপনাদের দেখে নিব ইনশাআল্লাহ।

-সাফিন রহমান।

=================================================

স্পিরিট অফ অগাস্ট মুভমেন্ট হচ্ছে নব একাত্তরের চেতনা।

আমরা যেই চেতনা নিয়ে আন্দোলন করেছি, সেই চেতনা নিয়ে নাস্তিকরা আন্দোলন করেনি। আমাদের চেতনা একটাই: ইসলাম। "স্পিরিট অফ অগাস্ট মুভমেন্ট" বলে ধর্মবিরোধী কিছু আদর্শ সংবিধানে এবং শিক্ষার মধ্যে ঢুকানোর ষড়যন্ত্র করছে কিছু মানুষ। -আসিফ মাহতাব উতস্

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...