Skip to main content

বিছানায় বিড়ালের সাথে ঘুমানো

 


বিড়ালপ্রেমীদের বিছানায় বিড়ালের সাথে ঘুমানোর চিত্রটা এমনই। মানুষ মনে মনে ভাবে, "এই যন্ত্রণা আর কতো!", কিন্তু সেই যন্ত্রণাও ভালবাসার অংশ হয়ে যায়। যেমন ধরুনঃ

১. "আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু বিছানাটা আমার!" বিড়ালদের এই পজিশন দেখেই মনে হয় তারা মনে মনে বলছে: "তুমি আমার সঙ্গী, তাই আমি তোমার পাশে থাকব। কিন্তু বিছানার সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গাটা আমার, তুমি যেখানে খুশি শুতে পার!" বিড়ালরা তাদের প্রিয় মানুষের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে, কিন্তু একই সঙ্গে তাদের নিজের জায়গা এবং আরামও অগ্রাধিকার পায়। ২. "তোমার আরামের চেয়ে আমার আরাম বড়!" বিড়ালেরা একেবারে সেলফিশ হতে পারে, কিন্তু সেটা খুবই কিউট ভাবে। তারা বিছানায় তাদের শরীর এমনভাবে মেলে ধরে যে আপনি ঘুমানোর জন্য জায়গা খুঁজতে বাধ্য হন। এটা তাদের "নিজস্ব ক্ষমতা" প্রদর্শনের মতো। ৩. "তোমার গায়ের গন্ধ আমাকে শান্তি দেয়" বিড়ালরা তাদের মালিকের গায়ের গন্ধকে সুরক্ষার প্রতীক মনে করে। তাই তারা এমন জায়গায় শোয় যেখানে আপনার গায়ের গন্ধ বেশি থাকে—যেমন আপনার বালিশ বা পা। এটা তাদের কাছে খুবই আরামদায়ক মনে হয়। ৪. "আমার ঘুমটা বাধাগ্রস্ত হলে তুমি বিপদে পড়বে!" বিড়ালদের ঘুম খুব সংবেদনশীল। তারা দিনে ১২-১৬ ঘণ্টা ঘুমায়। কিন্তু যদি তাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে, তবে তারা বিরক্ত হয়ে আপনাকে আলতো করে কামড় দিতে পারে বা মজার মিউ মিউ শব্দ করে প্রতিবাদ জানাতে পারে। ৫. বিড়ালের ঘুমানোর পজিশন মানে তাদের ইমোশন * কুণ্ডলী পাকিয়ে শোয়া: তারা তখন খুবই নিরাপদ এবং আরামে থাকে। * পায়ের ওপর শোয়া: তারা আপনাকে সুরক্ষিত রাখতে চায় বা নিজে সুরক্ষিত অনুভব করে। * পেট ওপরে তুলে শোয়া: এটা তাদের চূড়ান্ত বিশ্বাস এবং আরামের চিহ্ন। ৬. বিড়াল মনে করে, তারা আপনার বস! বিড়ালদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের "রাজকীয় মনোভাব" কাজ করে। এই ছবিতে মানুষ বিছানার এক কোণায় পড়ে আছে আর বিড়াল পুরো জায়গা দখল করে ঘুমাচ্ছে—এটাই বলে দেয় যে তারা নিজেদের সবার ওপরে মনে করে। ৭. "তোমার দিন কেমন গেছে, আমি কিন্তু এখানে আছি!" বিড়ালরা জানে কখন তাদের মালিক ক্লান্ত বা মন খারাপ। তারা তখন আরও বেশি কাছে এসে শুয়ে পড়ে। এভাবে তারা তাদের ভালোবাসা আর সান্ত্বনা প্রকাশ করে। ৮. বিড়ালের স্লিপ সাইকেল মানুষের মতো নয় বিড়ালরা ঘুমায় "পলি-ফেসিক সাইকেলে," যা দিনে অনেকবার ঘুমানোর সুযোগ দেয়। তবে তারা ঘুমের মাঝেও তাদের চারপাশে কী হচ্ছে, সেটা টের পায়। তাই মানুষ ঘুমাতে গিয়ে একটু নড়াচড়া করলেই তারা চোখ মেলে তাকিয়ে দেখবে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...