Skip to main content

রেসকিউর গল্প

 


একটি প্রাণীর চোখে লুকিয়ে থাকে এমন এক গভীর ভাষা, যা শব্দের প্রয়োজন ছাড়াই হৃদয়ের গভীরে ছুঁয়ে যায়। সেই চোখের চাহনিতে যেন জমা থাকে এক পৃথিবী ভরা অনুভূতি—কখনো আশ্রয়ের নীরব আকুতি, কখনো নিঃশর্ত ভালোবাসার উষ্ণতা, আবার কখনো অন্তরকে ভেঙে দেওয়ার মতো নিঃশব্দ কষ্টের আর্তনাদ।

সেই চোখের গভীরে আপনি খুঁজে পাবেন পরম বিশ্বাস, এক অনাবিল স্নেহের আশ্বাস, যা আপনাকে মুহূর্তেই পরিবর্তন করে দিতে পারে। কখনো এই চাহনি আপনার মনকে হাসিতে ভরিয়ে তুলবে, আবার কখনো এতটাই মমতায় ভিজিয়ে দেবে যে, চোখের কোণে অশ্রু জমে উঠবে। এটা কোনো সাধারণ ভাষা নয়, বরং এমন এক নীরব সংলাপ, যেখানে প্রাণীর অনুভূতি আর মানুষের হৃদয় এক সুরে বাঁধা পড়ে। এই চোখের ভাষায় কোনো মিথ্যা নেই, নেই কোনো শর্ত বা প্রত্যাশা। এতে শুধু ভালোবাসার এক নিখুঁত রূপ দেখা যায়—যা কেবল দেওয়া হয়, কখনো চাওয়ার জন্য নয়। এমন চাহনির সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজেকে আর একা মনে করতে পারে না; বরং অনুভব করে, এই নির্ভেজাল সম্পর্কের বন্ধন পৃথিবীর যেকোনো শব্দের চেয়ে শক্তিশালী।

পোষা কুকুর বা বিড়ালটিকে কখনো ফেলে যাবেন না। ওরা শুধু পোষা প্রাণী নয়, ওরা আপনার পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওরা আপনাকে নিঃশর্ত ভালোবাসা দেয়, আপনার প্রতিটি আনন্দে সঙ্গী হয়, আর আপনার দুঃখের সময় নীরবে পাশে দাঁড়ায়। পরিবারের একজন সদস্যকে ফেলে দিলে যেমন সেই শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না, তেমনি ওদের জন্যও আপনার অভাব অজস্র ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ওদের চোখে শুধু একটি প্রত্যাশা—আপনার ভালোবাসা আর সুরক্ষা। তাই পোষা প্রাণীকে কখনো শখের বসে নয়, হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ থেকে গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, আপনার একটি সিদ্ধান্ত তাদের পুরো জীবনের গল্প বদলে দিতে পারে।

~রেসকিউর গল্প~ বিক্রির জন্য সাদা বকের ছানা নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর বাজারে বসেছিলেন বিক্রেতা। দেখে মায়া হয় ওই বাজারের ফল বিক্রেতা আতাউর রহমানের। কেউ কিনে খেয়ে ফেলতে পারে—এ আশঙ্কায় আগেভাগে গিয়ে ছানাটি কিনে নেন আতাউর। উড়তে পারত না ছানাটি। আতাউরের ইচ্ছে ছিল, বাড়ি গিয়ে কিছুটা শুশ্রূষা করে উড়তে পারলেই ছেড়ে দেবেন। কিন্তু ধীরে ধীরে বকের ছানাটি তার পরিবারের স্থায়ী সদস্য বনে গেছে। সারাদিন উঠানে ঘুরে বেড়ায়। আতাউর মাঝেমধ্যে তার ফলের দোকানে নিয়ে যান ছানাটিকে। সেটিকে ঘিরে আশেপাশের দোকানি এবং ক্রেতাদের কৌতূহল চোখে পড়ার মতো। আতাউর বলেন, ‘প্রায় পাঁচ মাস আগের ঘটনা। বাজারে গিয়ে ফলের দোকান কেবল খুলেছি। হুট করে দেখি একজন বকের ছানাটি নিয়ে বসে আছে ক্রেতার আশায়। মায়া হলো। সেটি কিনে নিলাম। বাড়ি ফেরার সময় ১০০ টাকার মাছ কিনে নিলাম ছানাটিকে খাওয়াব বলে। বাড়ি ফেরার পর ছানাটি দেখে আমার সন্তানদের সেকি উল্লাস!’ তিনি বলেন, ছানাটি এখন তার পরিবারের সদস্য। বাড়ি ছেড়ে যায় না পাখিটি। বাড়িতে থাকা প্রত্যেক সদস্যকে পাখিটি চেনে। তাই গাছে থাকলেও ইচ্ছা হলেই এটি তার ঘরের বারান্দায় উড়ে আসে। সবচেয়ে বেশি সখ্য তার (আতাউর) সঙ্গে। একদম ছোট বয়সে কিনে এনে মাছ খাইয়ে ছানাটিকে বড় করছেন তিনি। দোকানে আসার সময় প্রায়ই আতাউরের সঙ্গে পাখিটি দোকানে যাত্রা করে। দোকানের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। বকটি রাতে তাদের ঘরের ভেতরেই থাকে। একদিন আতাউর ফলের দোকানে বকটিকে রেখে বাইরে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে এক ব্যক্তি কৌতূহলবশত দোকানের ফল ধরতে গেলেই বকটি তেড়ে আসে। আতাউর ফিরে এলে বক ছানাটি উড়ে গিয়ে তার কোলে বসে পড়ে।

collected

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...