Skip to main content

গভীর চিন্তা ভাবনা

 


সূরা আল-আরাফে একটি সুন্দর আয়াত আছে আর আমি চাই আপনারা এটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

"তারা কি কখনো আসমান ও পৃথিবীর বিস্ময় আর আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সবকিছুর প্রতি চিন্তা ভাবনা করেনি?" (আল-আরাফ 7:185) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোন ধরনের চিন্তাভাবনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন? --- আমি আপনাদিকে একটি উদাহরণ দিচ্ছি। সূরা নমলের একটি আয়াত আছে এবং বাই-দ্য-ওয়ে নমল অর্থ "একটি পিঁপড়া"। কারণ আন-নমলের মধ্যে; একটি পিঁপড়ার গল্প আছে যে অন্য পিঁপড়াদের চিৎকার করে বলে -- "হে পিঁপড়া! তাড়াতাড়ি তোমাদের ঘরে যাও যাতে সোলায়মান ও তার বাহিনী অজান্তে তোমাদের পিষ্ট না করে।" আপনি কিভাবে এরূপ একটি আয়াত নিয়ে গভীর ভাবনা চিন্তা করতে পারেন? এই আয়াতটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং এটি আরবীতে পড়ুন -- কারণ এই আয়াতে লুকিয়ে থাকা অবিশ্বাস্য, আশ্চর্য ইনফর্মেশন এর প্রতি কোনো অনুবাদই সুবিচার করতে পারে না। "قَالَتْ نَمْلَةٌ" এর থেকে আমরা জানতে পারি যে এটি ছিল এক স্ত্রী পিঁপড়া "أَدْخُلُواْ مَسَاكِنَكُمْ" যার অর্থ "তোমরা ঘরে ফিরে যাও" দ্বারা আমরা জানতে পারি যে এই পিঁপড়াটি সেই পিঁপড়াদের দলভুক্ত যারা উড়তে পারে না, শুধু পালিয়ে যেতে পারে।‬‎ কিন্তু পিঁপড়া কি উড়তে পারে? হ্যাঁ, তারা পারে -- আপনি যদি "হাইমেনোপেট্রা" অধ্যয়ন করে থাকেন যেটি কীটপতঙ্গের অধ্যয়ন; আপনি জানেন যে পিঁপড়ার একটি উপনিবেশে চারটি orders রয়েছে। অর্ডারগুলির মধ্যে তিনটি ডানাযুক্ত পিঁপড়া রয়েছে তবে আপনি সাধারণত তাদের দেখতে পান না কারণ তারা কখনই তাদের বাসা থেকে বের হয় না (বর্ষাকাল ছাড়া)। এবং শুধুমাত্র যে পিঁপড়াগুলো বের হয় তারা সবাই স্ত্রী এবং তাদের কারোরই ডানা নেই। তাই তাদের কাছে উড়ে যাওয়ার বিকল্প ছিল না এইভাবে পিঁপড়া চিৎকার করে বলেছিল "তাড়াতাড়ি ঘরে যাও" কারণ তারা কেবল তাদের উপনিবেশে ফিরে পালাতে পারে। তারপর পিঁপড়া বলে "لَا يَحْطِمَنَّكُمْ" যার অনুবাদ করা হয়েছে "সুতরাং তারা তোমাদিকে পিষে ফেলবে না" কিন্তু ... এটি শুধুমাত্র একটি দৃশ্য-ভিত্তিক অনুবাদ। তবে এর আক্ষরিক অনুবাদ হবে "সুতরাং তারা তোমাদেরকে না ভেঙে ফেলে"। কিন্তু, আপনি কিভাবে একটি পিঁপড়াকে ভাঙ্গতে পারেন? আবারও; আমি আপনার সাথে "দ্য জার্নাল অফ হাইমেনোপেট্রা 2016" থেকে আমার কাজ শেয়ার করছি যাতে পিঁপড়ার জনসংখ্যার মধ্যে... "The Leaf-Cutter Ant" নামে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতি আছে যেটি ... তার শরীরে একধরনের "exoskeleton" তৈরি করেছে এবং আমি আপনাকে The Nature ম্যাগাজিনের 2020 সংস্করণের একটি অংশ পড়ে শোনাচ্ছি... "যদিও অনেক পোকামাকড়ের একটি বাহ্যিক খোলস থাকে যাকে Exoskeleton বলা হয় কিন্তু লিফ-কাটার পিঁপড়ার মধ্যে, আমরা এমন কিছু প্রত্যক্ষ করছি যা আগে কখনো দেখিনি। বায়ো-ক্রিস্টাল দিয়ে তৈরি একধরনের প্রতিরক্ষামূলক শেল যা শুধুমাত্র মাইক্রোস্কোপের নীচে পর্যবেক্ষণ করা যায়। যদি পিঁপড়ার গায়ে ভারী কিছু পড়ে, তাহলে প্রথমে,তার শরীরের পরিবর্তে -- তার বায়ো-ক্রিস্টাল কাচ ভেঙে যাবে" নেচার ম্যাগাজিন (পাতা কাটার পিঁপড়ার মধ্যে জৈব-খনিজ আর্মার 2020) لَا يَحْطِمَنَّكُمْ এর সঠিক সংজ্ঞা “তারা যেন তোমাদিকে ভেঙে না ফেলে" লক্ষ্য করুন যে শুধুমাত্র একটা আয়াতে "গভীর চিন্তা ভাবনা" করার মাধ্যমে আমাদের চোখের সামনে কত বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। এখন কল্পনা করুন, যদি আমরা আল-কুরআনের আয়াতে আয়াতে, শব্দে শব্দে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করি- তাহলে আমাদের চোখের সামনে আরও কত বিস্ময় উন্মোচিত হবে। এটাও ছিল একটা কারণ যে আবু বকর ইবনে আরাবি তার "আল-কানুন আত-তাওয়েল" গ্রন্থে লিখেছেন যে কুরআনে প্রায় 77,000 জ্ঞানের শাখা লুকিয়ে আছে। এটাও একটা কারণ যে ইবনে-আব্বাস (রা.) একবার বলেছিলেন যে আমি যদি আমার উটের দড়ি হারিয়ে ফেলি; আমি কুরআনে লুকিয়ে থাকা জ্ঞান দিয়ে তা খুঁজে পেতে পারি (আল-ইলতেকান ভ. 2 পৃ. 126)

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...