Skip to main content

কিটির গল্প

 


~কিটির গল্প~

জান্নাত জুবায়ের সময়টা ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪। হঠাৎ আমার মনে হল, একটা বিড়াল পুষি। আম্মু এতে সায় দিলেও আব্বু প্রথমে রাজি ছিল না। তবুও, সিদ্ধান্ত নিলাম যে বাসায় একটা বিড়াল নিয়ে আসব। কিছুদিন পর, আমার এক ছাত্র আমাকে একটি ছোট্ট বিড়াল উপহার দিল। তার নাম রাখলাম "কিটি"। শুরুর দিকে কিটিকে ধরতে আমার বেশ ভয় করত। আম্মু আর ভাইয়া মিলে তাকে খাওয়াত এবং ভাইয়ার সাথে সে ঘুমাতো। ধীরে ধীরে আমার ভয়টা কেটে গেল। আমি তার দেখাশোনা শুরু করলাম। এক সময় কিটির প্রতি আমার মায়া বাড়তে লাগল। কিটি খুব দ্রুত আমাদের পরিবারের সবার প্রিয় সদস্যে পরিণত হলো। প্রতিদিন বাইরে গিয়ে খেলাধুলা করত কিটি। তার নাম ধরে ডাকলেই সে দৌড়ে ফিরে আসত। সারাদিন আমার পেছনে পেছনে ঘুরত। তার সুন্দর সুন্দর ছবি আর ভিডিও মাঝে মাঝে আমি স্টোরি দিতাম। তবে মাঝে মাঝে সে আমাকে বিরক্তও করত। তখন আমি আম্মুকে ডাকতাম, কারণ আম্মুকে সে বেশ ভয় পেত। আর কিছুক্ষণ পরই তাকে কোলে নিয়ে আদর করতাম। কিটির সঙ্গে লুকোচুরি খেলা আর ছোট্ট ছোট্ট দুষ্টুমিগুলো আমার জীবনে এক অন্য রকম আনন্দ এনে দিয়েছিল। ওর প্রতি যে মায়া তৈরি হয়েছিল, তা টাকায় মাপা অসম্ভব। কিন্তু সেই সুখের দিনগুলো বেশিদিন টিকল না। ২ নভেম্বর, ২০২৪-এ কিটি প্রতিদিনের মতো বাইরে খেলতে গেল। তবে সে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম, কিন্তু তাকে কোথাও পাইনি। আজও বিশ্বাস করতে পারি না, কিটিকে এত তাড়াতাড়ি হারিয়ে ফেলব। কিটির অভাব প্রতিদিন অনুভব করি। ও যেন আমার হারিয়ে যাওয়া নীল প্রজাপতি, যার প্রতি ভালোবাসা কখনও ম্লান হবে না। যেখানেই থাকিস কিটি, ভালো থাকিস। তুই চিরকাল আমার স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে থাকবি।
====================================================
শীতে দরজার সামনে থাকা অসহায় প্রাণীদের জন্য আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। প্রথমত, তাদের কখনোই তাড়িয়ে দেবেন না। এই প্রাণীগুলো ঠান্ডায় কষ্ট পাচ্ছে এবং একটু উষ্ণ আশ্রয়ের জন্য আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। পুরনো কম্বল, পরিত্যক্ত বস্ত্র, বা একটি কাগজের বক্স দিয়েই আপনি তাদের জন্য নিরাপদ একটি আশ্রয় তৈরি করতে পারেন। সামান্য খাবার বা পানি দিলেও তারা নতুনভাবে বাঁচার শক্তি পাবে। আশ্রয় দেওয়ার সময় অবশ্যই জায়গাটি পরিষ্কার ও সুরক্ষিত রাখার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি, অন্যদেরও এই ধরনের মানবিক কাজে উৎসাহিত করুন। আপনার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের এই কাজে অংশ নিতে বলুন। ছোট ছোট উদ্যোগে আমরা অনেক প্রাণীর জীবন রক্ষা করতে পারি। ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে আমরা শীতের এই কঠিন সময়গুলোকে তাদের জন্য সহজ করে তুলতে পারি।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...