Skip to main content

প্রাণী দত্তক নেওয়া

 


কালিগঞ্জ, কুড়িগ্রামের একটি সাধারণ দিনের কথা। রাস্তার ধারে দেখা মিলল একটি ছোট্ট ঘোড়ার, যার কোমল শরীরের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশাল ভারী পাইপের বোঝা। পাইপগুলো এতই ভারী যে, তা বহন করতে গিয়ে ঘোড়াটি কাঁপছে, ক্লান্ত হয়ে হাঁপিয়ে উঠছে। তবুও, তার মালিক নির্বিকার, যেন এই দৃশ্য তার কাছে স্বাভাবিক।

আমাদের সমাজে এমন দৃশ্য নতুন কিছু নয়। যন্ত্রের যুগেও অনেক জায়গায় প্রাণীদের উপর এই অমানবিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। ছোট্ট এই ঘোড়াটি কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না, কথা বলতে পারে না। কিন্তু তার ক্লান্ত দৃষ্টি, তার নুইয়ে পড়া পা আর থেমে থেমে চলা নিঃশ্বাসগুলো যেন আর্তি জানায়—"আমাকে একটু রেহাই দিন।" আমরা মানুষ, আমাদের বিবেক আছে, হৃদয় আছে। কিন্তু সেই বিবেক আর মনুষ্যত্ব কি হারিয়ে গেছে? একজন মানুষ হয়ে কিভাবে এমন একটি দৃশ্য দেখে কেউ চোখ ফিরিয়ে নিতে পারে? এমন দৃশ্য আমাদের আত্মাকে প্রশ্ন করে—আমরা কি সত্যি মানুষ? প্রাণীদের প্রতি সদয় হওয়া শুধু মানবতার চর্চাই নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারা আমাদের জন্য কাজ করে, আমাদের বোঝা বহন করে। বিনিময়ে তাদের প্রতি আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত। একটি নিরীহ প্রাণীর প্রতি এমন নির্মম আচরণ মেনে নেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। আসুন, আমরা সবাই মিলে সচেতন হই। এই নিরীহ প্রাণীদের প্রতি সদয় আচরণ করতে শিখি। তাদের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসি। আমাদের ছোট্ট সচেতনতা আর সদয় মনোভাবই পারে তাদের জীবনে সামান্য হলেও স্বস্তি এনে দিতে। কারণ, মনুষ্যত্ব থাকলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায়।
====================================================
পোষাপ্রাণী না কিনে দত্তক নিন! পোষাপ্রাণী বেছে নেওয়ার সময় আমাদের অনেকের চোখ প্রথমেই পড়ে তাদের গায়ের রঙ, ব্রিড কিংবা কিউটনেসের দিকে। বিদেশি জাতের প্রাণীগুলোর প্রতি মানুষের আকর্ষণ যেন সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই পছন্দের ভিড়ে কি আমরা একবারও ভেবে দেখি, আমাদের দেশি প্রাণীগুলোর কী হবে? ওদের কী দোষ, শুধু দেশি বলে? আপনার ভালো লাগা কিংবা পছন্দের জায়গা থেকে বিদেশি জাতের প্রাণী পুষতেই পারেন। কিন্তু কখনো কি মনে হয়েছে, আমাদের এই পছন্দের কারণে কত প্রাণী কষ্ট পাচ্ছে? আরেকটি প্রশ্নও এসে যায়—নিজেদের শখ মেটানোর জন্য প্রাণীদের কেনা-বেচা কি আদৌ মানবিক? অনেক ব্রিডারদের ব্যবসা কীভাবে চলে জানেন? সুন্দর, কিউট কুকুর-বিড়ালছানাগুলো দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়। কিন্তু এই সুন্দর চেহারার পেছনে লুকিয়ে থাকে এক ভয়াবহ বাস্তবতা। অনেক ব্রিডাররা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মায়ের বুক থেকে ছানাগুলোকে আলাদা করে বিক্রি করে দেয়।
আমরা যদি এই পোষাপ্রাণী কেনার অভ্যাসটি বাদ দিয়ে দত্তক নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিই, তাহলে এই অমানবিক ব্যবসা থামানো সম্ভব। চারপাশে তাকালে দেখবেন, কত অসহায় কুকুর-বিড়াল রাস্তায় কষ্ট করে বেঁচে আছে। কেউ ওদের দিকে ফিরেও তাকায় না। কিছু নিষ্ঠুর মানুষের হাতেও তারা অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়। আপনি যদি একটি প্রাণীকেও দত্তক নেন, তাহলে তার পুরো জীবনটাই বদলে যাবে। কাঁটাবন বা অন্য কোনো দোকানের খাঁচায় বন্দি প্রাণীগুলোর নিষ্পাপ চোখে আপনি হয়তো কখনো ভালো করে তাকাননি। তাদের চাহনিতে কীসের অপেক্ষা লুকিয়ে আছে জানেন? ভালোবাসা। একটু যত্ন। একটু স্বাধীনতার স্বাদ। এই নিষ্ঠুরতার জাল ভাঙা সম্ভব। মনে রাখবেন, প্রাণীরা শোপিস নয়, ব্যবসার পণ্যও নয়। ওরা আমাদের মতোই জীবন্ত প্রাণ। ভালোবাসা পেতে আর ভালো থাকতে ওদেরও অধিকার আছে। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই ভালোবাসা নিশ্চিত করা। একটি প্রাণী দত্তক নেওয়া মানে কেবল তার জীবন বাঁচানো নয়, বরং এক পৃথিবী ভালোবাসা, মমতা আর দায়িত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা। আসুন, তাদের পাশে দাঁড়াই। কেনা নয়, দত্তক নিই।
collected

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...