সংসারের অশান্তি দুনিয়ার জাহান্নাম। যে জাহান্নামের অংশীদার মাত্র দুইজন। সাথে পুড়তে থাকে সন্তানেরা। কিছু অশান্তি চরম পরিণতি বা বিচ্ছেদ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়। অবশিষ্টগুলো চরম ধৈর্য্য বা গন্ডারের চামড়া বানালেই রোধ করা সম্ভব। সংসারে ঝগড়া বিবাদ করে কেউ কখনো জয়লাভ করতে পারেনি। প্রকারান্তরে হেরে যাওয়া ছাড়া। স্বামী স্ত্রী কখোনই কেউ কারো শত্রু হতে পারে না। এটা হওয়া মোটেই উচিৎ নয়। "আমি হারব না" এই মনোভাবই ধ্বংস নামিয়ে আনে সংসারে। সংসারে মাত্র দুটি মানুষই যদি একে অপরেকে শত্রু ভাবেন, তাহলে দুনিয়া সামলাবেন কী করে!! ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, দুই শত্রুর যে কোন একজনের পিছনে যদি রক্তের সম্পর্ক নামক অন্য এক বা একাদিক ইন্ধনদাতা থাকে, তবে সেখানে অশান্তির আগুনে জ্বলা ছাড়া আর কোন রাস্তা থাকে না। প্লিজ, নিজে শেষ হয়ে নিজ সন্তানদের শেষ করবেন না। এমনিতেই সামাজিক অবক্ষয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের সন্তানেরা। এর উপর বাবা মা' হয়ে আগুনে ঘি ঢালবেন না। ব্রোকেন ফ্যামিলির বাচ্চারা জানে, কষ্ট আর হাহাকার কী জিনিস!! দুই দিনের দুনিয়ায় কবরে যাওয়া পর্যন্ত স্বামী স্ত্রী, একে অপরের পাশে থাকবেন, বাচ্চারা বাবা মায়ের আদর ভালবাসা পাবে, এটাই তো হওয়া উচিৎ। আমি এ কথাগুলো পুঁথিগত বিদ্যা, বা মুখস্থ কিংবা কারো দেখে বলিনি। আমার সংসার জীবনে যা পালন করে চলেছি, সেটাই বলেছি। ৩০ বছরের সংসার জীবনে স্ত্রীর সাথে আমি কখনো ঝগড়া বা উচ্চস্বরে চিৎকার করে কথা বলিনি। আপনারাও পারবেন ইনশাআল্লাহ।☺️✨ ©️মাহবুব কবির মিলন স্যারের টাইলাইন থেকে🌹
----------------------------
--জুম'আর সালাত পড়তে এসেছি। অজুখানায় ঢুকে দেখি একটা বাচ্চা পানির কল ছেড়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভাবলাম.. হয়তো পানি নিয়ে খেলা করছে। একেবারেই ছোট বাচ্চা। এই বয়সের বাচ্চারা সুন্দর কিছু দেখলে খেলায় মেতে ওঠে।
কিন্তু কাছে গিয়ে দেখি সে ওযু করছে। হাত ধোয়ার সময় বলছে— এক... দুই... তিন...। এভাবে তিনবার করে নিজের ছোট্ট ছোট্ট আঙুল দিয়ে হাত-পা ধৌত করছে।
তাকে বললাম— মা শা আল্লাহ। তুমি তো ভালোই ওযু করতে জানো দেখি!
আমার কথা শুনে ভাঙা ভাঙা বুলিতে সে যা বলল তা ছিল এমন—
'ওযু করা এক্কেবারে সহজ। এতে আমার অসুবিধা হয় না কখনও। অসুবিধা হয় নামাজে দাঁড়াতে গেলে। ছোট বলে সবাই আমাকে পেছনের কাতারে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু আমি তো অন্যদের মতো দুষ্টুমি করি না। তখন বরং ওদের দুষ্টুমির কারণে আমিও নামাজ পড়তে পারি না ঠিকমতো।'
বললাম— 'তোমার আব্বুর সাথে নামাজে দাঁড়াবে। তাহলে কেউ তোমাকে পেছনে পাঠাবে না।'
বলল— 'আব্বু মারা গেছেন। প্রতিবেলা নামাজের সময় হলে আম্মু আমাকে মসজিদে পাঠান। আর বলে দেন, আব্বুর সাথে দেখা করতে চাইলে; নামাজ পড়ে তার জন্য দুআ করো। তাহলে খুব তাড়াতাড়ি আব্বুর সাথে সুন্দর একটা জায়গায় তোমার দেখা হবে।'😔
এটি কোনো গল্প নয়। বাস্তব ঘটনা। জানি না.. কে সেই মহিয়সী; যিনি এমন পবিত্র ফুলের জন্ম দিয়েছেন। সালাম তাকে।🤲🫡🌹

Comments
Post a Comment