Skip to main content

কিয়ামতের দিন

 


কিয়ামতের দিন আল্লাহ একজন ব্যক্তিকে ডেকে এনে তার গুনাহ গুলো স্মরন করাবেন। একের পর এক তার গুনাহগুলো যখন তিনি মনে করাতে থাকবেন, লোকটি চেহারা কালো করে মাথা নীচু করে থাকবে। সে নিশ্চিত হয়ে যাবে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত। এরপর আল্লাহ বলবেন, তোমার সবগুলো গুনাহকে সাওয়াবে পরিবর্তন করে দেয়া হল। তুমি জান্নাতে চলে যাও।

লোকটি তখন খুশিতে বলে উঠবে, আল্লাহ আমার তো আরও গুনাহ আছে, ওগুলোতো বলা হলো না। ওগুলোও সাওয়াব দিয়ে পাল্টে দিন না ! বান্দা আর রবের এই কথোপকথনের বর্ননা দিতে আল্লাহর রাসুল (ﷺ) হেসে দিলেন। - সুনান তিরমিযি দুনিয়ার জিন্দেগীতেও আমার আপনার সামনে এরকম অনেক নিরাশ হতাশ মানুষ আসে, যারা হয়তো অসুস্থ চিকিৎসা করার টাকা নেই, হয়তো বেকার চাকরী পাচ্ছে না, ঋনগ্রস্থ ঋন শোধের উপায় নেই। এই মানুষগুলোর কষ্টগুলো পারলে দুর করে দিন। তার জন্য যেটা অসম্ভব ছিল, হয়তো আপনার জন্য খুব সহজ। আপনি ইচ্ছে করলেই হয়তো তার চাকুরীর ব্যবস্থা করতে পারবেন। আপনার নিজের বা সম্মিলিত উদ্যোগে হয়তো কারো লোন পরিশোধ বা চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এর বিনিময়ে আপনি সম্ভবত কিছুই পাবেন না তাদের কাছ থেকে। কেবল আনন্দাশ্রু মিশ্রিত একখানা কৃতজ্ঞতার হাসি হয়তো পাবেন। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর একখানা দৃশ্য হয়তো দেখার ভাগ্য জুটবে, যেখানে তার চোখের পানিই আপনাকে বুঝিয়ে দিবে সে আপনার কারনে আজ কতটা খুশি। তবে নিজেকে একটু উপরের হাদিসে বর্নিত এই লোকটির জায়গায় রেখে কল্পনা করুন তো। যদি আপনিই সেই ব্যক্তিটি হন! দুনিয়াতে আপনার এই আমলের উসিলায় যদি আপনার জন্যও একই রকম ফায়সালা হয়। সবদিক থেকে নিরাশ আপনাকে যখন সর্বোচ্চটুকু দেয়ার ঘোষনা দেয়া হবে, আপনার আনন্দ আর খুশির তীব্রতা কি আপনি নিজেই এখন অনুমান করতে পারবেন? 'যে ব্যক্তি কোন ভাইয়ের দুনিয়াবী বিপদকে দুর করে দিবে, আল্লাহ তা'আলা তার কিয়ামতের দিনের বিপদ দুর করে দিবেন।'🥰 -[সহিহ মুসলিম]🌹

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...