সেরা ১০টি উপদেশ।
১. এক আল্লাহর দাস হয়ে যান, গোটা পৃথিবী আপনার দাস হয়ে যাবে। ২. "অতীত নিয়ে আক্ষেপ করবেন না, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না, রাগ হবেন না, আল্লাহর কোন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হবেন না। জীবনে সুখী হওয়ার এই ৪ মন্ত্র"। (আইদ আল কারনি নামে একজন আরব আলেম তার ৬০ বছর জীবন থেকে এই ৪ টি উপদেশ দিয়েছিলেন) ৩. আপনি আপনার জীবনে যা চান, তার জন্য সবটুকু চেষ্টা করুন, আল্লাহর উপর ভরসা করুন, ফলাফল আপনার কাছে ভালো হোক বা মন্দ হোক, সন্তুষ্ট থাকুন। অবশ্যই অবশ্যই তা থেকে ভালো কিছু আপনি পাবেন। জীবনের বিচ্ছিন্ন ডটগুলো মিলে যেদিন একটি পূর্ণ রেখায় পরিণত হবে, সেইদিন উপলব্ধি করতে পারবেন, কোনটা ভালো ছিলো কোনটা মন্দ। সব ভালোমন্দ আগেই বোঝা যায়না। (আমার সব আশা পূরণ হয়না বলেই বুঝতে পারি, আমার একজন রব আছেন, সিদ্ধান্ত তারই হাতে- আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু) ৪. একপক্ষের কথা শুনে কক্ষনো পুরো বিষয় জাজ করবেন না। একপক্ষের কাছে যা শুনবেন, তার ৫০% সত্য ধরে নিয়ে অন্যপক্ষের অনুভূতিরও ৫০% যদি আন্দাজ করে নিতে পারেন, সেইদিনই সুবিচারের কাছাকাছি যেতে পারবেন। তা যদি না পারেন, তাহলে কারও ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে যাবেন না, হয়তো অজান্তেই আপনি জুলুমের সহায়ক বনে যেতে পারবেন। "মনে রাখবেন, আপনার প্রত্যেকটি চেনা মানুষের মাঝে আরেকজন অচেনা মানুষ আছে, যাকে আপনি চিনেন না।" (একজন সালাফের বক্তব্য) ৫. আল্লাহর ভয়ে কোন কিছু থেকে বিরত থাকতে চাইলে অবশ্যই অবশ্যই আল্লাহ আপনার জন্য উপায় বের করে দিবেন। অযুহাত দিবেন না, চেষ্টা করুন। এটা আল্লাহর ওয়াদা (সূরা তালাক্ব: ২,৩)। রিযিকের জন্য হারাম পথে পা বাড়াবেন না। রিযিক পূর্বনির্ধারিত, আমরাই বেছে নিই তা হালাল হবে, না হারাম। ৬. নিজের দায়িত্ব নিয়ে, আর অন্যের হক্ব নিয়ে সচেতন হউন। অথচ আমরা এর উল্টোটাই করি, তাই কষ্ট বেশি পাই। অন্যের কাছে প্রত্যাশা কমিয়ে দিন, বিনিময়ের আশা ছাড়া উপকার করুন। জীবনে সুখী হবেন। ৭. প্রত্যেক ভালো মানুষের মাঝে কিছু ত্রুটি আছে, যেমন প্রত্যেক খারাপ মানুষের মধ্যেও কিছু ভালো গুণ থাকে। মাছির মত খুজে খুজে আবর্জনা বের করবেন না, মৌমাছির মত আবর্জনা থেকেও ফুল খুজতে শিখুন। পাঠশালা হোক বিশ্বজোড়া, তবে আদর্শ হিসেবে তাকেই গ্রহণ করবেন, যার ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ টেস্টিফাই করেছেন ("আর রাসূল সা. এর জীবনেই রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ"- আল কুরআন), তিনি ছাড়া আর প্রত্যেকটি মানুষই ত্রুটিযুক্ত। ৮. সবরের চেয়ে বড় গুণ আর নাই। শুধু সবরের উপর থাকতে পারলে আমাদের জীবনের ৯০% সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো, অথচ এটাই আমরা পারিনা। ৯. ঝুলিভর্তি জ্ঞান থেকেও তা কাজে না আসতে পারে অভিজ্ঞতার অভাবে, ৬০ বছরের অভিজ্ঞতাও সঠিক না হতে পারে জ্ঞানের অভাবে। সত্য, সঠিক জ্ঞান আর অভিজ্ঞতার নির্যাস মিলে যা অর্জিত হয়, তার নাম প্রজ্ঞা বা হিকমত। ৪০ বছরে মোটামুটি এই হিকমত পূর্ণতা পায়, তাই নবীদেরকে ৪০ এর পর নবুয়ত দেয়া হতো। সময়কে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান অর্জন করতে থাকুন। আর চারপাশের জীবন থেকে অভিজ্ঞতা। নবীওয়ালা এই সিফতটা আপনার মাঝে আসবে, অনেকের উপকার করতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ। ১০. মৃত্যুর চেয়ে বড় সত্য আর নাই। ৬০-৭০ বছরের ক্ষুদ্র জীবন, একভাবে শেষ হয়েই যাবে। বাকি রইবে অনন্তকালের যাত্রা। বুদ্ধিমান তো সে-ই, যে তার ক্ষুদ্র জীবন থেকে অসীম যাত্রার জন্য পর্যাপ্ত ইনভেস্ট করে যেতে পেরেছে। নির্বোধ সে-ই, যে এক বিন্দু পানির স্বাদ উপভোগ করতে গিয়ে একসমুদ্র জল বিনষ্ট করে ফেললো। ("সে কি পেলো, যে আল্লাহকে হারালো? সে কি হারালো, যে আল্লাহকে পেলো?")

Comments
Post a Comment