Skip to main content

একেকজনের ধাক্কাটা একেকরকম


 জীবনের কোন না কোন সময়ে একটা বড় ধাক্কা আসে।

একেকজনের ধাক্কাটা একেকরকম। কারো পরীক্ষায় ফেল করার ধাক্কা! কারো বেকারত্বের ধাক্কা! কারো মনের মানুষটিকে না পাওয়ার ধাক্কা! কারো ডিভোর্সের ধাক্কা! কারো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ধাক্কা! কারো আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা! কারো প্রিয় কোন মানুষের মৃত্যুর ধাক্কা! 🌹 কারো জীবনে যখন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কাটা আসে, তখন তার মধ্যে চরম একটা হতাশা কাজ করে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। দিশেহারা হয়ে পড়ে, কী করবে বুঝে ওঠতে পারে না। সবমিলিয়ে জীবনের প্রতি অনেকটা অনীহা চলে আসে। আর তখনই কিন্তু সে নেতিবাচক চিন্তা করে, ভুল কাজ করে। পূর্বে যেটিকে সে ঘৃণা করত, এখন সেটাকে সে আকড়ে ধরে স্বস্তি খোঁজে। জীবনে হাত দিয়ে ছুঁয়ে না দেখা ছেলেটিও সিগারেট-মদে আসক্ত হয়ে পড়ে, নানা ধরনের অবৈধ কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। কেউ কেউ তো আত্মাহুতি দেয়! 🌹 আমাদের জীবনটা সুখ-দুঃখের সমষ্টি। এ জীবনে শুধু দুঃখ থাকবে, তা নয়। শুধুই সুখ থাকবে, তাও নয়। সুখ-দুঃখের সমন্বয়েই আমাদের জীবনটা গড়া। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে একটার পর একটা ধাক্কা আসবে। এসব ধাক্কায় আমরা কষ্ট পাব, তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করব, টপটপ করে চোখের পানি ফেলব, সবই ঠিক আছে। কিন্তু কোনভাবেই ভেঙে পড়া যাবে না, অনৈতিক কাজ করা যাবে না, জীবনের প্রতি অনীহা আসতে দেয়া যাবে না। যত কষ্টই হোক, আমাদের এই বলে মনকে বোঝাতে হবে যে, ধাক্কাটা আমার জীবনেরই একটা অংশ। এই ধাক্কা সামলে ওঠতে পারলে সামনের দিনগুলোতে আমি অবশ্যই ভালো একটা প্রতিদান পাব। একটা ধাক্কা কাটিয়ে ওঠতে পারলে ভবিষ্যতের অনেকগুলো ধাক্কা আসার পথটা রুদ্ধ হয়ে যাবে। দুঃখের পরেই তো জীবনে সুখ আসে। দুঃখ আছে বলেই তো সুখ এতটা উপভোগ্য! আমার জীবন তো শেষ হয়ে যায়নি। আমার তো সামনের দিনগুলোতেও ভালো কিছু করার সুযোগ আছে। 🌹 যত যা-ই ঘটুক, তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হওয়া উচিত তোমার জীবন। সবচেয়ে প্রায়োরিটি দেয়া উচিত তোমার জীবনকে। আগে তোমার জীবন, পরে অন্যকিছু। তুমি জীবনে বেঁচে থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে। ফেলে আসা দিনের ক্ষতিটাও পুষিয়ে নিতে পারবে। তাহলে কেন তুমি একটা ধাক্কা সামলে ওঠার কোনপ্রকার চেষ্টা না করে পরাজয় বরণ করবে? কেন তুমি একটা ধাক্কা সামলে ওঠার চিন্তা না করে অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়াবে? কেন তুমি নিজের হাতে জীবনটাকে শেষ করে দেবে? তুমি যদি বেঁচেই না থাক, তোমার তো সব সম্ভাবনার পথটাই বন্ধ হয়ে যাবে! তুমি তো নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগটিও দিলে না, তুমি আসলে কী? কী অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে ছিল তোমার মাঝে? সকল সমস্যা সমাধানের মালিক একমাত্র মহান রাব্বুল আলামিন🤲 যখনই কোনো সমস্যায় পড়বেন সিজদায় লুটিয়ে পড়ুন মহান রবের দরবারে🤲☺️

১.বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়দের যখন সারা বিশ্বের মানুষের সামনে তাদের পারফরমেন্সের পুরষ্কার দেওয়া হয় তখন তাদের আনন্দ অনুভূতিটা আমরা সকলেই অনুধাবন করতে পারি। অন্তরে সেই খেয়ালটাও করুনতো যখন কিয়ামতের দিন সমগ্র মানবজাতির সামনে আল্লাহ্ আপনাকে আপনার নেক আমলের পুরষ্কার দিবেন, তখন আপনার আনন্দ অনুভূতিটা কেমন হবে ? ২. আপনি যে খেলোয়াড়ের ভক্ত তার জার্সি পরছেন, তার স্টাইলে চুল রেখেছেন, তার দেশের পতাকা টানাচ্ছেন, তার আনন্দে খুশি এবং তার কষ্টে দুঃখী হচ্ছেন। কিন্তু আপনি যাকে এত ভালবাসছেন এত গুরুত্ব দিচ্ছেন সে আপনাকে চিনেইনা। কোনদিন আপনার সুখ দুঃখের খবর নিবেনা, সাহায্য করবেনা। অথচ আমার আপনার দয়াল নবী মায়ার নবীর (সঃ) প্রতি সামান্যতম ভালবাসা প্রদর্শন করলেও তিনি আপনাকে ছাড়া বেহেশতে যাবেনা। প্রিয় নবী (সঃ) কে কতটুকু ভালবাসেন একবার চিন্তা করে দেখুন☺️ আল্লাহ তায়া’লা যেন আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করেন আমিন🥰🤲

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...