Skip to main content

প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে কোমল পানীয়


 কোমল পানীয় জিনিসটাই বর্জনীয়। এর মধ্যে কোন ভ্যালু নেই। বিশ্ব জুড়ে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয় কোমল পানীয়র বিজ্ঞাপনের পিছনে। তার কারণ একটাই। চাহিদা তৈরি করা। সেজন্যই দেখবেন অল্প কয় টাকায় উৎপাদন করে এগুলো মোটা অংকের লাভে বিক্রি করা সম্ভব হয়।

আমি ১৮ বছর যাবত এগুলো বাদে ভালো আছি। আপনিও থাকবেন। সবাই থাকবে। সত্যি কথা বলতে আমাদের দেশের শরবর, ফলের রস, লাচ্ছি, মাঠা, দই বহু গুণ পরিবেশ বান্ধব, পুষ্টিকর এবং দেশের অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর। আপনি গাছের ফল খেলে প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয় না। গরুর দুধ, ডাবের পানি বা লেবুর শরবতে কোন ক্ষতিকারক কেমিক্যাল নেই। নদী নালার পানি বা বাতাস নষ্ট হয় না এর দ্বারা। আপনার শরীর থাকে ভালো, অতিরিক্ত মেদ চর্বি জমে না, নেশা লাগে না, পৌরষত্ব হরমোন কমে না। অর্থনৈতিকভাবে দেশের কৃষকরা উপকৃত হয়। এর জন্য মডেলদের নাচানাচি করতে হয় না, বাদ্য বাজাতে হয় না, ক্রিকেট ফুটবল ম্যাচ নিয়ে মাতামাতি করতে হয় না। সবশেষে এগুলো বিক্রি করে কেউ হাজার কোটি টাকা পুঞ্জিভূত করে না। অল্প কথায় সুন্দর সুন্দর মডেল দেখিয়ে, বাদ্য বাজিয়ে ও খেলাধুলা স্পন্সর করিয়ে আমাদের ছাগল বানানো হচ্ছে। তাই ঘাস খাইয়ে আমাদের দুধ দুইয়ে মোটা অংকের মুনাফা কামাচ্ছে তারা। এগুলো থেকে একশ হাত দূরে থেকে প্রাকৃতিক উপাদান গ্রহণ করাটাই হচ্ছে কাম্য। একটা ছেড়ে আরেকটার মাঝে বিকল্প খোঁজা কাম্য না।
প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে কোমল পানীয় আমেরিকা, আইসল্যান্ড এবং ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা ২৯৩৫ জন পুরুষের উপর সম্মিলিত গবেষণা করে প্রমাণ করেন যারা প্রতিদিন এক গ্লাস কোমল পানীয় খান তাদের শুক্রাণুর ঘনত্ব প্রতি ml এ ১ কোটি ৩০ লাখ পরিমাণ কমে গেছে। কেবল তাই না অর্থাৎ পুরো শরীরে মোট শুক্রাণুর পরিমাণ কমেছে ২ কোটি ৮০ লাখ পরিমাণ, তাদের তুলনায় যারা কোমল পানীয় খান নাই। এর পাশাপাশি শুক্রাণুর চলাচল ক্ষমতা কমে গেছে ৩ দশমিক ছয় ভাগ। এই শুক্রাণুর চলাচল ক্ষমতার উপর ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়া নির্ভর করে। অর্থাৎ,এগুলো পান করার সাথে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা হারানো সরাসরি জড়িত। সবশেষে, তারা রক্ত পরীক্ষা করে দেখলেন রক্তের মাঝে যৌন হরমোনের ইম্ব্যালেন্স দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই সকল সমস্যার উৎস কি কেবল কোমল পানীয়? নাকি অন্যান্য স্বভাব জড়িত আছে? এইটা পরীক্ষা করতে তারা সব রকমের বহিরাগত উপাদান চেক করলেন এবং আবিষ্কার করলেন কোমল পানীয়ই দায়ী প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার জন্য। (গবেষণা লিংক কমেন্টে) এইতো গেল প্রজন ক্ষমতার কথা এবারে স্বাস্থ্যগত বিষয় আলোচনা করা যাক। এক গ্লাস কোমল পানীয়তে প্রায় ৯ চা চামচ চিনি থাকে। আপনি কল্পনা করতে পারেন ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য তা কতটা ভয়ংকর? প্রশ্ন হচ্ছে এতো চিনই যদি এখানে থাকে, আমাদের কাছে এগুলো এত মিষ্টি লাগে না কেন? তার কারণ হচ্ছে এতে প্রচুর কার্বন ডাই অক্সাইড থাকে। কার্বন ডাই অক্সাইড আমাদের জিহ্বাতে মিষ্টি স্বাদ অনুভূত হতে দেয় না। তাছাড়া কোমল পানীয়তে আছে টক স্বাদের ফসফরিক এসিড ও সাইট্রিক এসিড। সেজন্য আমরা অনেক বেশী চিনি দিয়ে কোমল পানীয়কে মিষ্টি করি। এর ফলেও বিষয়টি অনুভূত হয় না। চিনি আপনার মেদ চর্বি বৃদ্ধি করে, হার্টের ও ডায়াবেটিকের জন্য ক্ষতিকর তা আপনারা জানেন। কিন্তু তার চেয়ে বর্ব ব্যাপার কি জানেন? চিনি মস্তিষ্কে ডোপানিম নিঃসরণ করে। ফলে তাই আপনি এটি বার বার খেতে চান এবং নেশা অনুভব করেন। সবশেষে কোমল পানীয়তে প্রচুর পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। এক কাপ চা এবং এক গ্লাস মজো, কোলা বা পেপসি প্রায় সমান ক্যাফেইন ধারণ করে। ক্যাফেইনও নেশা উদ্রেককারী এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সব মিলিয়ে কোমল পানীয় শরীরে এতটা ক্ষতিকর যে এগুলোর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য সচেতনতার জায়গা থেকেই দাঁড়নো উচিত। বিশ্বাস করবন কিনা জানি না, তারপরেও বলি - এগুলো খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। সত্য সত্যই এগুলো বাদে খুব ভালো থাকবেন। তাই বিকল্প না খুঁজে বর্জন করার চেষ্টা করুন।

ফেসবুক বর্জন করা কি উচিত? - অবশ্যই উচিত। গুগল বর্জন করা কি উচিত? - অবশ্যই উচিত সেই স্বপ্ন ও চেষ্টা প্রতি মুহুর্তে বুকে ধারণ করি। তারমানে এই না যে সেই লক্ষ্য অর্জিত হবার আগ পর্যন্ত কোমল পানীও বর্জন করবো না। কোমল পানীয় বর্জন করা হোক আপনার জীবনের প্রথম পদক্ষেপ। কারণ, প্রথমত, এর দ্বারা ভালো কিছুই অর্জিত হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, এগুলোর কোন প্রয়োজন নেই। তৃতীয়ত, এরা কেবলমাত্র অন্যায়কে সমর্থনই করে নাই, তার পাশাপাশি আমাদের সদিচ্ছাকে তামাশা করেছে। আপনি যদি সবকিছু নিজে বর্জন করে আমাদেরকে উৎসাহিত করেন যে একাধিক পণ্য বর্জন করতে, আলহামদুলিল্লাহ। আপনার থেকে অবশ্যই শেখার আছে। কিন্তু আপনি যদি নিজে কোন কিছু বর্জন না করে অন্যের কাজকে প্রশ্ন বিদ্ধ করার জন্য হাউকাউ করেন, আপনার মাঝে সমস্যা আছে। কারণ, সেক্ষেত্রে আপনি এমন একটা পরিস্থিতি প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে গণহত্যা সমর্থনকারীদের সমর্থন করা ছাড়া বাঁচা সম্ভব না। সুতরাং, নিজের হালাল উপার্জন প্রতিটি উপায়ে তাদের হাতে তুলে দাও। প্রতিবাদ করে লাভ নেই। ধিক্কার জানাই এই চিন্তাকে। এই এই চিন্তাই আমাদের পরাজয়ের প্রথম পদক্ষেপ। অছচ এই কাজ করার বিনিময়ে আপনাকে কেউ ঘুষ দেয় নাই। বিনা পয়সায় তাদের দালালী করছেন। আগে নিজে পবিত্র হয়ে অন্যকে পবিত্র হওয়ার পরামর্শ দিন। যেই কাজ করতে নিজে ব্যার্থ হয়েছেন তা চালিয়ে যুক্তি খুঁজকে আপনার চেয়ে বেশী ত্যাগ করা মানুষদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। এর মাঝে সত্যিই কোন কল্যাণ নেই বরং শত্রুকে অপরাজেয় করে উপস্থাপন করে আপনি মানসিক ভাবে নিজেকে নিজে দুর্বল করছেন।
মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...