Skip to main content

যাকাত বিষয়ে কম ধারণা

 


যাকাত বিষয়ে আমাদের অনেকের খুব কম ধারণা আছে। আমার কমেন্ট বক্স ও ইনবক্স ভর্তি হয়ে যাচ্ছে প্রশ্ন দিয়ে। যেমন জমির উপর যাকাত আছে কিনা, বাড়ি ভাড়ার যাকাত আছে কিনা, লিজ নিলে যাকাত দিতে হবে কিনা , মুসলিম ব্যক্তি জিজিয়া দিবে কিনা, মাসে ৫৫ হাজার টাকা আয় হলে যাকাত দিতে হবে কিনা, কাপড়ের যাকাত আছে কিনা ইত্যাদি।

যাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান। একেবারে পাঁচ খুঁটির একটি।এইটা নিয়ে জানতে হবে আপনাদেরকে। একটু পড়াশোনা করুন। এই পেইজে অনেক সৎ ও বিজ্ঞ আলেম আছেন। আপনার জিজ্ঞাসা কমেন্ট বক্সে করুন তারা উত্তর দিবে ইনশাআল্লাহ। এর ফলে আপনি যেমন জানলেন আরও দশ জন মানুষ জানবে ইনশাআল্লাহ। এখানে কিছু কম প্রশ্নের উত্তর দেই (ভুল থাকলে আমাকে জানাবেন) ১। স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ির উপর যাকাত নেই। তবে আপনি যদি জমি ব্যবসায়ী, গাড়ি ব্যবসায়ী বা ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন এবং নিয়মিত এগুলো কেনা বেচা করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে এর উপর যাকাত দিতে হবে। ২। কাপড়, আসবাব সহ অন্যান্য ব্যবহার্য বস্তুর উপর জাকাত নেই তবে আপনি এগুলোর ব্যবসায়ী হয়ে থাকলে যাকাত দিতে হবে। ৩। আয়ের উপর কোন যাকাত নেই (চাকরির বেতন বা বাড়ি ভাড়া)। যাকাত গচ্ছিত সম্পদের উপর। যেমন সোনা, ডেপজিট ও ব্যবসা ইনভেন্টরি। ৪। নিসাব পরিমাণ চলতি সম্পত্তি হলে তার আড়াই শতাংশ যাকাত দেওয়া ফরজ। কিন্তু আপনি যদি ঋণগ্রস্ত হন, সেই ঋণের পরিমাণ আপনার যাকাত যোগ্য হিসেবের থেকে বাদ যাবে। নিসাবের চেয়ে কমে গেলে যাকাত ফরজ থাকবে না। আর যদি আপনি কাউকে ঋণ দেন তাহলে সেই অর্থ যাকাতযোগ্য হবে (অবশ্য যদি সেই টাকা আর ফেরত পাওয়ার আশা না থাকে তাহলে বাদ যাবে)। ৫। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করলে আপনি যদি লং টার্ম ইনভেস্টর হন কোম্পানির চলতি সম্পদ থেকে চলতি দায় বাদ দিয়ে যা থাকে তার উপর যাকাত আসবে। আর যদি আপনি কেনাবেচা করেন (ট্রেডার বা ব্রোকার হন) সমস্ত শেয়ার ভ্যালুর উপর যাকাত দিতে হবে। ৭। আপনার চাষ করা শস্যের বিশ ভাগের এক ভাগ এবং চাষ না করা শস্যের এবং সংরক্ষণ যোগ্য ফলের দশ ভাগের এক ভাগ ফল জাকাত (উশর) দিতে হবে। * কত টুকু ফসল হলে এই যাকাত দিবেন তা নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেন সবাইকে দিতে হবে। আবার জমহুর উলামায়ে মিরামের মতে ৫ ওয়াসাক (১৮ মন ৩০ কেজি, মতান্তরে ২২ মন ৩৫ কেজি, মতান্তরে ২৫ মন) হলে উশর দিতে হবে। ৮। আপনার পশু যদি বছরের অধিকাংশ সময় চারণ ভুমিতে চরে বেড়ায় এবং আপনার গরু মহিষের সংখ্যা ৩০ এর অধিক বা ছাগল ভেড়ার সংখ্যা ৪০ এর অধিক হয় তাহলে পশু দান করতে হবে। (বিস্তারিত কমেন্টে) ৯। নারীদেরকে নিজের যাকাত দিতে হবে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপার অলংকারের উপরে। আপনার হাতে টাকা না থাকলে সোনা, রুপা বিক্রি করে যাকাত দিতে হবে। স্বামী যদি সাহায্য করে তা ভিন্ন কথা। কিন্তু স্বামীর সাহায্যের অবর্তমানে যাকাত থেকে মাফ পাবেন না। সবশেষে, আমাদেরকে যাকাতের বিধান জানতে হবেই। কারণ প্রয়জনীয় জ্ঞান অর্জন করা সকল পুরুষ এবং মহিলার উপর ফরজ। আমার স্বামী যাকাত দিতো, হুজুরের থেকে হিসেব নিয়ে দিয়ে দিতাম বলে পার পাওয়ার কোন উপায় নেই। নামাজের পরে সবচেয়ে বেশী বার যেই আমলের কথা কোরানে বলেছে তা হচ্ছে যাকাত। অর্থাৎ, এইটা প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং এইটা অর্জন করা ফরজ, আপনি নারী হন কিংবা পুরুষ। ঠিকমতো যাকাত দিলে এবং সুদ না থাকলে গরিবের হাতে টাকা থাকতো, গোলাতে শস্য থাকতো, ফল, কাপড়, ফ্ল্যাট, জমি পেতো তারা, আরও পেতো স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য পশু, গাড়ি ইত্যাদি। কত সুন্দর হতো তখন ধনী দরিদ্রের সম্পর্ক এবং নিশ্চিন্ত হতো আমাদের জীবন। মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...