Skip to main content

আমাদের স্বপ্ন আসলে ফেরাউনের




আমাদের স্বপ্ন আসলে ফেরাউনের। আমরা চাই তার মত বিলাসিতায় থাকবো, ক্ষমতাবান হবো, কথায় কথায় হুকুম করবো। থাকবে এক গাদা কর্মচারী ও অনেক গুলো সুন্দরী স্ত্রী। মুখে বলি সুন্নত পালন করতে বেশী বিয়ে করবো কিন্তু বাস্তবে কোন অসহায় নারী বিয়ে করতে চাই না। যেই নারী বৃদ্ধা ও বিধবা তাকে বিয়ে করতে চায় না কোন যুবক, যেই নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে, যে দারিদ্র্যের সর্ব নিম্ন সীমায় বসবাস করছে কিংবা তালাক প্রাপ্ত হয়ে একাধিক সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে তাদেরকে বিয়ে করার স্বপ্ন নিয়ে আমরা সুন্নতের কথা বলি না। বরং ফেরাউনের মত এক ঝাঁক কচি সুন্দরী রমণী নিয়ে ভোগ বিলাস করবো সেই স্বপ্ন লালন করি, মাঝখানে সুন্নতের নামে নিজের স্বপ্নের উপর পবিত্রতা প্রদান করি। সেজন্যই দেখি তরুণী নারী প্রতারিত হচ্ছে কিংবা সে এসে বয়স্ক নারীর অধিকার হরণ করছে। এর নাম কি ইসলাম? সেজন্যই আজ অমুসলিমরা ইসলামের সৌন্দর্য দেখতে পায় না। পারবে কীভাবে? আমরা তো আসলে ইসলাম পালন করতে চাই না, ব্যবহার করতে চাই। কখনও ব্যবসা করতে, কখনও নারী ভোগ করতে, কখনও সম্মান কুড়াতে। সেজন্য ইনসাফের গুরুত্ব নেই, অসহায়ের প্রতি ভালবাসা নেই, বরং পুঁজিবাদী স্বপ্নের উপর সুন্নতী জবান নিয়ে আমরা বাঁচি।

সবমিলিয়ে যেই ইসলাম ছিল কারো জন্য ত্যাগের নাম, সেই ইসলামই আমাদের কাছে হয়ে গেছে পুঁজির নাম। মোহাইমিন পাটোয়ারী

 বাংলাদেশে যেই ভবন ও স্থাপনা সুদ মুক্ত উপায়ে নির্মিত হয় তা হচ্ছে মসজিদ মাদ্রাসা। সেজন্য দেখবেন এগুলোর বছরর পর বছর ধরে একটু একটু করে আগায়। আল্লাহ না করুক যদি এই জায়গায় সুদের চর্চা শুরু হয়, দেখবেন তারাও ধান্দা করবে কত কম টাকা বিনিয়োগে কত বেশি রিটার্ন তোলা যায়।

তখন তারা উপরে চাকচিক্যময় এবং ভিতরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করে হিংস্র ভাবে দানের টাকা তোলা শুরু করবে। এদের অনেকে দেউলিয়া হবে। সেই জায়গায় নতুন গ্রোথ মসজিদ হবে। সেগুলোর খবর ছাপানো হবে। পত্রিকায় তখন রিলিজিয়াস ইকনোমি নামে খুব প্রশংসা সহ খবর ছাপবে ইত্যাদি। সেজন্যই আপনি দেখবেন বহু ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপতি দেউলিয়া হয়ে গেলেও মসজিদ বা মাদ্রাসা দেউলিয়া হয় না। বছরের পর বছর টিকে থাকে। তার কারণ সুদ। মসজিদ মাদ্রাসাতে যদি এই সংস্কৃতি প্রবেশ করলে ওয়াজ নসীহাতে সারাদিন কেবল মসজিদে দানের কথা বলবে। মুসল্লিদেরকে তখন দেখা হবে টাকার মেশিন হিসেবে। কীভাবে কার থেকে কোন উপায়ে টাকা বের করা যায় এই ধান্দা চলতে থাকবে সবদিকে (বর্তমানে আমাদের সমাজে অন্য সকল ক্ষেত্রে এই প্রভাব দেখতে পারেন কিনা বলেন)। এক কথায় সুদের প্রবেশ ঘটলে মসজিদ, মাদ্রাসা আর ধর্ম প্রতিষ্ঠান থাকবে না বরং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। ঋণ নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান তুলে সুদাসল পরিশোধ করে লাভ তোলা হবে ধান্দা। সুদ কেবল অর্থনৈতিক ভাবেই নয়, সামাজিক ভাবেও ক্ষতিকর। সেজন্যই বর্তমান সমাজে যেই অসুস্থ পুঁজিবাদী প্রভাব দেখতে পান তা আসলে সুদের প্রতিফলন। সেজন্যই আপনারা সারাক্ষণ দেখেন আশে পাশের সবাই কে কীভাবে টাকা তুলবে সারাক্ষণ এই ধান্দা করতে থাকে। সবাই তো দৌড়ের উপর আছে। আমরা সবাই আসলে টাকার মেশিন হয়ে গেছি। তাছাড়া আর কোন উপায় নেই। সুদের প্রবেশ ঘটলে ধর্ম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন কমার্শিয়াল হয়ে যেতে বাধ্য তেমনি একটি সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রও। সেজন্যই বলি, আমরা আল্লাহর আইন ভঙ্গ করি একটা কিন্তু এর প্রভাব হয় একশটা। মোহাইমিন পাটোয়ারী

----------------------------------------

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...