Skip to main content

ব্যক্তিত্বকে শক্তিশালী করতে...


 ১. ব্যক্তিত্বকে শক্তিশালী করতে প্রথমেই যে জিনিসটা আপনার মধ্যে প্রয়োজন তা হলো মানুষের কথা মনোযোগ সহকারে শোনার ক্ষমতা। সামনের মানুষটার থেকে প্রতি মুহূর্তে যে কত কিছু শেখার আছে, আপনি কখনোই বুঝবেন যদি না তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন!

২. প্রতিদিন অন্তত ১ জন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করুন। মানুষ কত বৈচিত্র্যময় আপনার এখনো কোনো ধারনাই নাই এবং সম্ভবত শেষ বয়স পর্যন্ত আমাদের সে বিষয়ে আসলেই কোনো ধারণা হওয়া সম্ভবও না! ৩. আপনার চালচলনের ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিন। মোট কমিউনিকেশনের ৯৩% হয়ে থাকে আচার-আচরণের মাধ্যমে। তাই আপনি কীভাবে হাঁটছেন, কিভাবে হাত নাড়ছেন -এগুলো আপনার ব্যক্তিত্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৪. অনেক সময় দেখবেন, অনেকে মতামতের সাথে আমরা শতভাগ একমত নই, কিন্তু তার বাচনভঙ্গি এতই চমৎকার যে কথাগুলো শুনতে ভালো লাগছে। তাই ব্যক্তিত্বের জন্য বাচনভঙ্গি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৫. প্রতিদিন অবশ্যই নিজের জন্য কিছু সময় রাখুন। আপনি যা পছন্দ করেন, সেই কাজটুকু নিজের জন্য রাখা সময়টিতে করুন। এর ফলাফল আপনি নিজেই দেখতে পাবেন। ৬. সপ্তাহে অন্তত ১ টি নতুন বই পড়ার অভ্যাস করুন। সম্পূর্ণ দুনিয়া আপনি কখনোই দেখতে বা বুঝতে পারবেন না, বই আপনার সেই সীমাবদ্ধতাকে অনেকখানিই দূর করবে। ৭. প্রতিদিন কিছু কাজ করুন- - ৮ ঘন্টা ঘুমান - পরিমিত (অতিরিক্ত নয়) খাদ্য গ্রহণ করুন - মেডিটেশন করুন - পরিবারের সাথে কিছু সময় কাটান - রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় অবশ্যই সারাদিনে আপনার প্রাপ্তিগুলোকে একবার মনে করুন - একজনকে প্রতিদিন সাহায্য করুন ৮. চমৎকার ব্যক্তিত্বের প্রায় সবার মাঝে একটি গুণ খুব সাধারণ। তাদের প্রত্যেকেরই জীবনের একটি লক্ষ্য ছিল বা আছে। তাই নিজের জীবনের একটি বা একাধিক লক্ষ্য ঠিক করে, সেই লক্ষ্য মতে পরিশ্রম করুন। ৯. সবকিছুর কিছু ইতিবাচক দিক থাকে, সেই পজিটিভ দিকগুলো নিজের মাঝে ধারণ করুন। ১০. সবাইকে সম্মান করুন। ব্যক্তিত্ব তখনই শক্তিশালী বলা যায়, যখন সমাজের প্রভাবে ব্যক্তিত্ব প্রভাবিত হয় না , বরং ব্যক্তিত্বের প্রভাবে সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন হয়!
source-lifespring limited

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...