বর্তমানে আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে বাহ্যিক সাফল্যগুলোই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। এই সমাজে তুলনামূলক কম দৃশ্যমান, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক প্রচেষ্টাগুলোকে অধিকাংশ সময়ই সেভাবে উৎসাহিত বা মূল্যায়ন করা হয় না, যা আসলে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার একটি দুমুখো চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে। তাই স্বাভাবিকভাবেই, যারা এই সমাজের পরিবর্তনের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করে যাচ্ছেন( যা অধিকাংশ সময়ই লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকে), তারা মনে করেন তাদের প্রচেষ্টা নানা খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তি হতে কম, এবং তারা এই ভালো কাজ করে কখনই সেলিব্রেটিদের মতন সম্মানের অংশীদার হতে পারবেন না! স্বভাবতই তাই তারা ধীরে ধীরে এসব কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, এবং কখনো কখনো বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। এদের মাঝে অনেকেই আবার নৈতিক অবক্ষয় এবং পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্বজ্ঞান বিসর্জন দিয়ে, সমাজের চোখে সফল ব্যক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন! মজার বিষয় হলো, আমরা অনেকেই লক্ষ করি না যে, বাহিরে যাকে এত আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে, আদৌ তার ভেতরে আত্মিক দীনতা ব্যতীত আর কিছু আছে কি!? এমন খ্যাতির মোহাবিষ্ট সমাজব্যবস্থা একটি সম্পূর্ণ জাতিকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট! এর ফলাফল আমরা ইতিমধ্যে দেখতেও পাচ্ছি, সারা বিশ্বজুড়ে অস্বাভাবিক দুশ্চিন্তা, বিষন্নতা এবং নানা মানসিক সমস্যার প্যানডেমিক আকারে বেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, আসলে এটি আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায়িত্ব হয়ে গেছে, যেন আমরা এই অসুস্থ সমাজের মাঝে থেকেও, প্রত্যেকেই নিজেরা একজন সৎ, দায়িত্ববান, নীতিবোধসম্পন্ন এবং সঠিক বিবেকবোধের অধিকারী একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারি। হয়তোবা এসব গুণাবলির জন্য পৃথিবীতে সবসময় যোগ্য সম্মান পাওয়া যাবে না,কিন্তু সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই সবাইকে যথাযোগ্য সম্মানে পুরস্কৃত করবেন। এখনকার সময়ে, ভণ্ডামি ও কপটতা ত্যাগ করার জন্যও সাহসের প্রয়োজন হয়! কিন্তু আমাদের সাহসী হয়ে উঠতে হবে; কারণ প্রকৃত আত্মিক প্রশান্তি অনেক বড় একটি প্রাপ্তি!
source-lifespring limited /youtube

Comments
Post a Comment