ছোটবেলায় আমিও অনেক ধনী ছিলাম। হালকা বৃষ্টির জমে থাকা জলে, আমারও তিন-চারটে নৌকা, জাহাজ জলে ভেসে বেড়াতো। কাগজের হলে কি হবে? আকাশে আমারও বিমান উড়ে বেড়াতো। ছোটখাটো দূরত্বগুলো সুপারি পাতায় একজন আরেকজনকে টেনেই যাত্রা করতাম। প্রাসাদ,অট্টালিকা আমিও বানিয়েছিলাম। হয়তো সেগুলো মাটি বা পাটকাঠি দিয়ে তৈরি ছিল, কিন্তু একেবারেই আমার ছিল। ব্যবসা আমারও ছিল। বাড়ির উঠানে পাট কাঠি বা বাশের কঞ্চি দিয়ে খাম গেরে,উপরে মায়ের ওড়না দিয়ে ঢেকে মুদি দোকান বসাতাম। মাটি দিয়ে বাসন,কই মাছ,হাড়ি পাতিল বানিয়ে রোদে শুকাতাম। সুইমিংপুল ছিলো আমাদের বিশাল বড়ো ঘাট বাধানো পুকুর। সরু রাস্তা দিয়ে হাটার সময় লাল পোনা দেখলে পেনি জাল নিয়ে পানিতে নেমে যেতাম। তখন, আমিও বিজ্ঞানী ছিলাম। ফেলে দেওয়া পুরনো ইনজেকশনের সিরিঞ্জে জল ভরে বিভিন্ন গাছের শাখা-প্রশাখায় ইনজেকশন দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতাম। বিটিভিতে দুপুরে আমি বাবা মায়ের শত আদরের মেয়ে গান শুনলেই ভনভনিয়ে দৌড়ে এসে টিভির সামনে বসতাম মিনা কার্টুন দেখতে। চিকন গোলাকার লোহার রিং আর টায়ার গুলো চালিয়ে পিছে পিছে দৌড়ে বেড়াতাম সারা গ্রামে। শপিংয়ে আমিও যেতাম, মেলা থেকে এটা ওটা কত খেলনা,কাচের ঝিলিমিলি রকেট,ডুগডুগি,মুড়ি মুড়কি আরো কতো কি! টাকা রাখতে আস্ত ব্যাংকটাই তুলে নিয়ে আসতাম। মাটির ছিলো কিন্তু শুধুই আমার ছিলো। এখন আর কোথায় পাব সেই বড়লোকী চাল? শৈশবটাকে বড্ড বেহিসেবি খরচা করে ফেলেছিলাম। তাই আজ কাঙ্গাল।collected

Comments
Post a Comment