Skip to main content

হান্নাননামা

 


হান্নাননামা পর্ব : ৫.১ - (ক'ট্টর ইসলাম বি'দ্বেষ)

--------------- ১। শেখ আব্দুল হান্নানের ইসলামি/ধর্মপ্রাণ মুসলিম বিমানসেনা এবং অফিসারদের প্রতি বি'দ্বেষমূলক আচরণ এবং দাঁড়ি-হিজাবের প্রতি চুল'কানি উনার শাসনামলের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত একটা বিষয়। দাঁড়িওয়ালা লোক তো পারতপক্ষে উনি সহ্য করতে পারতেন না বললেই চলে। বিমান বাহিনীতে ইসলাম পালনে বড়সড় একটা বাধা আসে ২০২১/২২ সালের একটা খুবই তুচ্ছ, সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ফেসবুকে জনৈক আলেম তার মাদ্রাসার জন্য সাহায্য-আর্থিক অনুদান চেয়ে একটি পোস্ট করেন যেখানে বিমান বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য ব্যক্তিগতভাবে কিছু আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করেন। কোনভাবে এ ব্যাপারটা বিমান বাহিনী গোয়েন্দাদের নজরে পড়ে যায়। সেসময়ে আওয়ামী ফ্যা'সিবাদী আমলের জ'ঙ্গি নাটক ও মৌ'লবাদ নি'ধনের রমরমা ব্যবসা ছিল তুংগে। ভারতপন্থী আওয়ামী প্রভুদের সন্তুষ্ট করার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে সদ্যনিযুক্ত 'র' ক্লিয়ারেন্স পাওয়া হান্নান সাহেব এই সুযোগটা তুখোড়ভাবে কাজে লাগান। ২। ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটি থেকে এক এক করে ১৫ জন বিমান বাহিনীর সদস্যকে জ'ঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত সন্দেহে উঠিয়ে নেয় বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিট। টানা ৭ দিন ধরে ইস'রায়ে'লী কায়েদায় অব'র্ণনীয় নি'র্যাতন চালানো হয় তাদের উপর। পুরো সাতটি দিন শুধুমাত্র অন্তর্বাস পরিয়ে রাখা হয় তাদের। সাথে চলে নারকীয় শারীরিক আর মানসিক নি'র্যাতন। রাতে তো ঘুমাতে দেয়া হতই না, উলটো জিজ্ঞাসাবাদের নামে ভোর ৩টা-৪টা পর্যন্ত চলত পাশবিক মারধর। এমনকি নামাজটা পর্যন্ত তাদেরকে আদায় করতে হয়েছে ঠান্ডা মেঝের উপর, শুধুমাত্র ‘অন্তর্বাস’ পরিহিত অবস্থায়! ৩। এতকিছু করেও শেষমেশ তাদের কাছ থেকে দেশ বি'রোধী কোন কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ৭ দিন পর বিমান সদর গোয়েন্দা পরিদপ্তরের আদেশে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের। এর ঠিক ৩ দিন পর, অক্টোবরের ২৮ তারিখ তাদেরকে আবার উঠিয়ে নেয়া হয়। আদেশদাতা স্বয়ং বাহিনী প্রধান, এয়ার চীফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান। কিন্ত এবারও তুমুল নি'র্যাতনের পর তাদের কাছে অপ'রাধী সাব্যস্ত হওয়ার মত দেশবি'রোধী তেমন কোন কিছুই পাওয়া যায় না। পরবর্তিতে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের লক্ষ্যে নভেম্বরের ১৪ তারিখ থেকে তাদেরকে একজন একজন করে কু'খ্যাত ‘আয়নাঘরে’ প্রেরণ করে ইসলাম বিদ্বে'ষী শেখ হান্নান। সেখানে তাদের জানানো হয়, বিমান বাহিনী প্রধান যেভাবে চাইছেন সেভাবে স্বীকারোক্তি না দিলে হয়ত তাদের চিরতরে পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যেতে হতে পারে। ৪। জু'লুম নি'র্যাতনের পর আয়নাঘর থেকে নিয়ে এসে শেখ হান্নানের নির্দেশে তাদের জায়গা হয় বিমান বাহিনীর সেলে, যেটা আসলে আয়নাঘর থেকেও বড্ড কঠিন। ৪.৫’/৭.৫’ ফিটের একেকটা সেলে রাখা হয় তাদের, যেখানে বিছানাও সিমেন্টের, বালিশও সিমেন্টের! নাটকের এ অংশে বোর্ড অফ ইনকোয়ারির নামে বানানো মি'থ্যা, বানোয়াট স্টেটমেন্টে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে তদন্ত প্রধানের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন উইং কমান্ডার আরাফাত নামের এডমিন ব্রাঞ্চের এক পা-চা'টা অফিসার, তাদেরকে চিহ্নিত অ'পরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করার জন্য। তারপর তাদেরকে অ'পরাধী হিসেবে উপস্থিত করা হয় সামরিক আদালতে। আলোচিত এই আদালতে তাদের বিরু'দ্ধে অভি'যোগ হিসেবে যে অপরাধগুলোর কথা ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি উল্লেখ করা হয় সেগুলো হলো: 'নিয়মিত নামাজ আদায় করা', 'মসজিদে বেশি সময় অবস্থান করা', 'নিয়মিত কুরআন পড়া', 'দাঁড়ি রাখা', 'মসজিদে বসে কুরআনের আলোচনা করা', ‘বিভিন্ন ইসলামী আত্মশুদ্ধিমূলক বই সাথে রাখা’, ‘বিভিন্ন মাদ্রাসায় দান-সাদাকা করা’! ৫। শেষমেশ অন্যায়ভাবে ২০২২ সালের ২৩ মার্চ কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম একসাথে ১০ জন সদস্যকে চাকু'রীচ্যুত করে দুই বছরের স'শ্রম কা'রাদ'ণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়ে এক কাপড়ে জেলে পাঠানো হয়। আর বাকি ৫ জনকে কোন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভালোমত দো'ষী শাব্যস্ত করে জেলে পাঠাতে না পারলেও গত তিন বছর ধরে তাদেরকে কোন পদোন্নতি দেয়া হয়নি। কারণ তাদের অপরাধ - ‘মাদ্রাসায় কিছু টাকা-পয়সা দেয়া!’ ফলশ্রুতিতে বিমান বাহিনীর ওই কতিপয় সদস্যবৃন্দ এবং তাদের পরিবারবর্গের জীবন একেবারে কতছনছ হয়ে যায়। টানা দুই সপ্তাহ এক কাপড়ে অতিবাহিত করার পর পরিবারের সদস্যবৃন্দের মাধ্যমে পরিধানের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় পরিবারের কাছ থেকে পান তারা। কারণ, এর আগ পর্যন্ত আসলে তাদের পরিবারের সদস্যদের কোন ধারণাই ছিল না যে কী মা'রাত্মক জু'লুমের শিকার হয়েছেন তারা! ৬। জানা যায়, ভারতপন্থী এই বিমান প্রধানের তিন বছরের রাজত্বকালে অন্যায় ভাবে যে পরিমাণ বিমান বাহিনীর সদস্যরা চাকুরী'চ্যুত ও কারাদ'ন্ডের স্বীকার হয়েছে তা এই বাহিনীর বিগত ৫৩ বছরের ইতিহাসে আর কখনোই হয়নি। ৭। এরপর থেকেই ইসলামী যেকোন ধরনের কর্মকান্ডের উপর বিমান গোয়েন্দা ইউনিটের মাধ্যমে কঠিন নজরদারি শুরু হয়। যেকোন ধরনের ইসলামী আত্মশুদ্ধিমূলক বই থাকলেই সেগুলোকে জং'গী বই বলে চালিয়ে দেয়া, wafilife.com এর মত দেশবরেণ্য বইয়ের ওয়েবসাইট থেকে বই অর্ডার করলেও নিরাপত্তা ইউনিট কর্তৃক আলাদাভাবে নাম নোট হয়ে যাওয়া, দাঁড়ি রাখা বা রাখতে চাওয়ার মানসিকতা পোষণ করলেই অন্যরকম গো'য়েন্দা নজ'রদারিতে চলে আসা, এমনকি মসজিদে জামাত/নামাজের জন্য একটু বেশি সময় অবস্থান করলেও তাদেরকে বিশেষ পর্যবেক্ষণ দলের নজরদারিতে রাখাটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে যায়। ৮। পরবর্তীতে নিজ ক্ষমতাবলে দাঁড়ি রাখার উপর নি'ষেধা'জ্ঞা আরোপ করেন শেখ হান্নান। নিচের ১ নং ছবিটা নেয়া এই চ'রম ইসলামবি'দ্বেষী সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান হান্নানের একটা দিকনির্দেশনামূলক আদেশ থেকে। উনার বাকি সব দর্শন বা নির্দেশনা কোনটা কতটুকু পালিত হয়েছে তা নিয়ে যথেষ্ঠ গবেষণার অবকাশ আছে, তবে ছবির আলোচ্য আদেশটুকু যে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের রাষ্টীয় আইন এবং বিমান বাহিনীর আইনবলে যে কোন অফিসার/বিমানসেনা নিজ নিজ ধর্মের আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো প্র‍যাক্টিস করতে পারবেন, চাইলে উর্ধতন কমান্ডিং অফিসারের অনুমতিক্রমে দাঁড়িও রাখতে পারবেন, হিজাব পড়তে পারবেন - কোন ধরনের বৈ'ষম্য'মূলক আচরণ ছাড়াই; কিন্ত এ ব্যাপারটায় এসে উনি উনার চুল'কানি-বি'দ্বেষমূল'ক আচরণটাকে নিয়ে গেলেন অন্য এক মাত্রায়। উনি ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর নতুন করে আদেশ জারি করলেন, অফিসারদের ক্ষেত্রে গ্রুপ ক্যাপ্টেন (কর্ণেল পদমর্যাদার), আর বিমানসেনাদের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট অফিসার (জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার - জেসিও) হওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ দাঁড়ি রাখার আবেদনই করতে পারবে না। (f. নাম্বার পয়েন্ট দ্রষ্টব্য) উল্লেখযোগ্য যে, এ পর্যায়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে একজন অফিসার/বিমানসেনার প্রায় ২০-২২ বছর পেরিয়ে যায়, আবার সবাই যে ওই পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়ে পৌঁছুতে পারে তাও না। এমন একটা ঘৃণ্য, বৈষ'ম্য'মূলক আদেশ জারি করে উনি সমগ্র বিমান বাহিনীতে ধর্মপ্রাণ মুসলিম অফিসার-বিমানসেনাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ক্রমাগতই চরমভাবে আ'ঘাত করে গিয়েছেন। আর এ আদেশ বাস্তবায়নে উনার পাশে ছাপোষা উজির-নাজির-চতুষ্পদ বৈষ'ম্যকারী ইসলামবি'দ্বেষী জ'ন্তুরা তো ছিলই। এমনকি এই ব্যাপারে কোন এক ঘাঁটির দরবারে সসম্মানে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উনি সেই পয়তাল্লিশোর্ধ বিমানসেনাকে ভরা মজলিসে চরম বি'দ্রুপের সাথে প্রতিউত্তর দেন: "....না, সার্ভিসে কোন দাঁড়ি-টাড়ি চলবে না, তুমি দাঁড়ি রাখতে চাও, চাকরি ছেড়ে দাও, চাকরি ছেড়ে বাইরে চলে যাও, গিয়ে য-অ-অ-অ-ত লম্বা ইচ্ছা ত-অ-অ-অ-ত লম্বা দাঁড়ি রাখো!..." ৯। চিন্তা করা যায়, ৯০ ভাগ মুসলিমের এই বাংলাদেশে কতটা স্প'র্ধামূলক, আ'ক্রমণাত্মক কথা এটা! অহ'মিকা, আ'ত্মঅহংকার এবং নিরেট ইসলামবি'দ্বেষ কোন পর্যায়ে পৌঁছালে উনি এমন মা'রাত্ম'ক একটা কথা বলতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে উনার ধর্মীয় দৃষ্টিভংগী যাই-ই হোক না কেন, মুসলিমপ্রধান দেশের একটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাহিনীর, বাহিনী প্রধানের চেয়ারে বসে জনসম্মুখে প্রকাশ্য কিংবা গোপনে, কোনভাবেই তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম মাত্রায় আ'ঘাতমূলক কোন কথা বলতে পারেন না, এটা তার জায়গা থেকে চূড়ান্ত নেতৃস্থানীয় দায়িত্বজ্ঞা'নহীনতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি হয়ত কখনো চিন্তাও করে দেখেননি যে, তার এহেন কথাবার্তা/আচরণ সমগ্র ধর্মপ্রাণ মুসলিম, দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী বিমানসেনা/অফিসারদের মনোজগতে অত্যন্ত বিরূপ প্রভাব ফেলবে, ট্র'মার মত যা তাড়িয়ে বেড়াবে বিমান বাহিনীর ধর্মানুরাগী প্রতিটি সদস্যকে। ১০। ঢাকার বাশার ঘাঁটিতে একবার পরিদর্শনে এসে জুনিয়র পদবির (এলএসি = লিডিং এয়ারক্রাফটম্যান = ল্যান্স কর্পোরাল পদবীর সমতুল্য) এক বিমানসেনার মুখে দাঁড়ি দেখতে পেয়ে প্র'চন্ড ক্ষে'পে যান হান্নান সাহেব। হুং'কা'র দিয়ে ওঠেন, "এত জুনিয়র এয়ারম্যানের মুখে দাঁড়ি কিসের!" তিনি তাকে দাঁড়িe সব আইন মেনেই দাঁড়ি রেখেছিলেন, ধর্মের প্রতি অনুরাগী সেই বিমানসেনা পরে দাঁড়ি কাটতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে ওই সদস্যকে দুটি অপশন দেওয়া হয় যে ১. হয় দাঁড়ি কেটে চাকুরি কর, ২. অন্যথায় দাঁড়ি নিয়ে চাকুরি থেকে চলে যাও! ১১। তার এই চরম ইসলামবি'দ্বেষী মনোভাবের কারণে আক্ষরিক অর্থেই ইতিমধ্যে যেসব অফিসার/বিমানসেনারা দাঁড়ি রেখে ফেলেছিলেন, তারা একপ্রকার আ'তং'কেই থাকতেন বলা চলে। কমান্ডাররাও যেকোন পার্টি-প্রোগ্রাম যেগুলোয় উনি বাহিনী প্রধান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, সেগুলোতে যতটা কমসম্ভব দাঁড়িওয়ালা বিমান বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করার চেষ্টা করতেন- যাতে করে বেশি একটা দাঁড়িওয়ালা লোক চীফের দৃষ্টিগোচরে না আসে কিংবা দাঁড়িওয়ালারাও যাতে আড়ালে আবডালে গা ঢাকার মতন করে থেকে অন্তত নিজেদের আত্মসম্মানটা ফকিরের মত করে হলেও রক্ষা করতে পারে। মুসলিম বাংলাদেশে কী এক অদ্ভুত, বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা! শুনলেই তো কেমন কেমন লাগে ব্যাপারটা। শুধু দাঁড়ি রাখার কারণেই কেন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আপনাকে বৈ'ষম্যের শিকার হতে হবে। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না!? কোন আইনের মধ্যেও তো তা পড়ে না... ১২। রাস্তাঘাটে বিমান বাহিনীর যেসব প্রভোস্টরা (আর্মি এমপি পুলিশের মত) ডিউটি করেন, তারাও নাকি এমনভাবে তাদের ডিউটি পোস্ট প্ল্যান করতেন যাতে করে বাহিনী প্রধানের গাড়িবহর যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে উনার চোখে কোন দাঁড়িওয়ালা প্রভোস্ট ধরা না পড়ে, মানে এতটাই তটস্থ থাকতেন তারা পুরো ব্যাপারটা নিয়ে। ভাবা যায়? ইসলামের প্রতি বি'রূপ, বি'দ্বেষী মনোভাব কতটা চ'রমে থাকলে এই তুচ্ছ বিষয়টা নিয়ে এত নাড়াচাড়া হতো সে আমলে! যেখানে বিমান বাহিনীর বহু অপারেশনাল কার্যক্রম পড়ে আছে মনোযোগ পাওয়ার আশায়। এর পিছনে কারন খুবই পরিষ্কার। দাড়ি রাখা না কি উ'গ্রবাদীতার লক্ষণ!!!! (১ নং ছবির e. নাম্বার লাইন দ্রষ্টব্য)। ১৩। দাঁড়ি নিয়ে তার প্রচুর এ'লার্জি থাকলেও মোচ নাকি তার মতে পুরুষালিতা ও বলিষ্ঠতার পরিচায়ক। (৫ নং ছবিতে দ্রষ্টব্য) এটা কি এমনি এমনিই, নাকি তার চিরাচরিত ইসলামবি'দ্বেষের জায়গা থেকে সেটা যদিও খতিয়ে দেখার অবকাশ রাখে। কারণ, ইসলামি বিধান অনুযায়ী দাঁড়ি রাখাকে উৎসাহিত এবং শুধুমাত্র মোচ রাখাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। উনি এই পুরাটার উল্টাটা তো করেছেনই, সাথে যেসব বিমানসেনারা মোচ রাখবেন তাদের জন্য উনি মাসিক ৫০০ টাকা হারে 'উৎসাহ ভাতা'র ব্যবস্থা করেছেন। (৫ নং ছবি দ্রষ্টব্য) সাধারণ দৃষ্টিতে ব্যাপারটাকে খুবই নিরীহ এবং জনকল্যাণমূলক হিতৈষী মনে হলেও আদতে ধর্মপ্রাণ বিমানসেনারা উনার এই দ্বি'মুখীচারিতায় বড়সড় একটা ধাক্কা খেয়েছেন। যে উনি দাঁড়ি পছন্দই করেন না, সেই উনিই আবার ইসলামী অনুভূতির বিপরীতমুখী শুধুমাত্র মোচ রাখায় উৎসাহিত করছেন সাথে আবার ৫০০ করে টাকাও দিচ্ছেন। এজন্যই খেয়াল করলে দেখবেন, উনার আমলে বিমান বাহিনী প্রধানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাদলের সকল সদস্য সহ প্রভোস্ট ও অন্যান্য যারা উনার নিরাপত্তা কর্তব্যে নিয়োজিত, সবাই ই বাহারি রকমের মোচের রকমফেরে সুসজ্জিত(!)।

by ilias hossain/youtube

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...