প্রফেসর মবিন খান আর নেই। উনার বয়স হয়েছিলো, ডাক এসেছে চলে গেছেন। কিন্তু উনার কর্ম আর জীবন কাছে থেকে দেখার এক বিরল সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো। তরুণদের কাছে এই কর্মবীরকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার। উনি এক হাতে বাংলাদেশে হেপাটোলজি সাবজেক্টকে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েই শুধু যান নাই, সেইটাকে বিশ্বমানের কাছে নিয়ে গেছেন। উনার যেই বিরল প্রতিভা এই অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে তুলেছিলো তা হচ্ছে, উনার নেটওয়ার্কিং ক্ষমতা আর প্ল্যানিং। উনি চার বছর পরের পরিকল্পনা টায়ে টায়ে করে রাখতেন। উনি জানতেন ঠিক কোথায় সুইট স্পট, কাকে কীভাবে ডিল করতে হবে। উনি পটেনশিয়াল আইডেন্টিফাই করতে পারতেন। কে কোথায় যেতে পারে সেটা উনার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ শক্তি দিয়ে বুঝে যেতেন। একটা উদাহরণ দেই। আমার তখন ফার্মাসিউটিক্যালসের ভেরি আর্লি ক্যারিয়ার। তখনো বি এস এম এম ইউ নাম হয়নি পিজি হাসপাতালের। উনাকে ভিজিট করতে গেছি। ওটাই আমার উনার সাথে প্রথম এনকাউন্টার। ফেরত আসার সময় খেয়াল করলাম উনি পেছন পেছন আসছেন। উনার দরজার সামনে জুতা খুলে ঢুকতে হতো। একটা ছোট টুল ছিলো বসে জুতাটা আবার পরার জন্য। আমি টুলে বসছি, এমন সময় আমাকে যুগপৎ বিস্মিত এবং হতবিহ্বল করে আমার জুতাটা হাত দিয়ে এগিয়ে দিলেন। আমি হারেরেরে করে উঠতে উঠতে উনার কাজ শেষ। এইটা ছিলো উনার খুব ক্যালকুলেটিভ মুভ। নেক্সট জেনারেশনের কাছে উনার সাবমিশনের প্রতীক। আজকের তারুণ্যকে আমি যদি শুধু একটা উপদেশ দিতে পারি, তা হচ্ছে ভবিষ্যতের কাছে অবনত হতে শেখা। সবসময় জানবেন, আজকের তারুণ্য আপনাকে অতিক্রম করে যাবেই। আর সেটাতেই আপনার সাফল্য। প্রফেসর মবিন খানের জন্য শোক না করে উনার কর্ম আর জীবন থেকে শিক্ষা নেই, উনি যেই অসাধারণ মেধায় এক মশাল জ্বালিয়ে গেছিলেন তা যেন আরো সামনে নিয়ে যেতে পারি। অসীমের পথে আপনার অনন্ত যাত্রা শুভ হোক প্রফেসর মবিন খান।
written by pinaki bhatt...

Comments
Post a Comment