Skip to main content

"স্যার", "স্যার", "স্যার"

 


"স্যার", "স্যার", "স্যার"...

আচ্ছা, বাঙালির স্যার শব্দটা শুনতে এতো ভালো লাগে কেন? স্যার সম্বোধন শোনার জন্য এত পাগল হয়ে যায় কেন! আসলে, এর পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণটা কী? ভাবুন তো, প্রায় ২০০ বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ শোষিত হয়ে আসছে। তারা দেখেছে, যারা তাদের শোষণ করছে, তারা বেশ উন্নত, আরামদায়ক জীবনযাপন করছে। এই শোষণ আর বৈষম্য আমাদের মনোজগতে গভীর একটা সংকট তৈরি করেছে। আমরা প্রায় অজান্তেই বিশ্বাস করে ফেলেছি যে- ব্রিটিশদের জীবনযাপন, তাদের ব্যবহার, আচার-আচরণ সব যেন এক অসাধ্য স্বপ্নের মতো। শুধু আমাদের মধ্যেই নয়, আফ্রিকার মানুষও এই একই সমস্যায় ভুগছে। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন তাঁর বিখ্যাত বই "The Muqaddimah"-এ বলেছিলেন, “পরাজিতরা সব সময় বিজয়ীদের আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, জীবনধারা অনুকরণ করতে চায়।” আমাদের মধ্যেও এ ধারণা ঢুকে গেছে—আমরা নিজেদের মনে মনে ‘নিচু জাত’ ভাবি, আর এই ভাবনা থেকেই নিজেকে উঁচুতে তোলার এক ধরনের সংগ্রাম চালাই। আর এই সংগ্রামে "স্যার" শব্দটার গুরুত্ব তো বুঝতেই পারছেন! যদিও আমরা "ছোটলোকি" থেকে আসছি, কিন্তু আমাদের ভাব এমন যেন আমরা বড়লোক হয়ে গেছি। "স্যার" বলাটা যেন বুঝিয়ে দেয়, আমরা সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশিই গুরুত্বপূর্ণ! এই সমস্যার সমাধান কী? আসলে সমাধান হতে পারে দু'ভাবে—দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী। 🌟 দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে যা যা দরকার: ১. আমাদের সাফল্যের সুযোগ বাড়াতে হবে। ২. প্যারেন্টিং বা অভিভাবকত্বের মান উন্নত করতে হবে। ৩. গড় জীবনমান উন্নয়ন জরুরি এবং ৪. জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 🌟 আর স্বল্পমেয়াদী সমাধান হতে পারে- ১. 'বড়দের সম্মান আর ছোটদের স্নেহ' এই মূলনীতি জাগিয়ে তোলা ২. "স্যার"-এর মতো অপ্রয়োজনীয় শ্রেণিবিভাজন দূর করা। ৩. মানুষ যেন মানুষ হিসেবেই একে অপরকে সম্মান করে। মজার ব্যাপার কি জানেন? "স্যার" শুনতে যারা এত পাগল, তাদের হালকা করে একটু প্যাদানীর ব্যবস্থা রাখলে খুব মন্দ হয় না। 🤫 😁 আরেকটা মজার ব্যাপার হলো- আর শুধু বাঙালিই না, আফ্রিকাতেও মানুষজনের এই "স্যার" সম্বোধন ব্যাপক জনপ্রিয়। তাহলে আমরা কি বুঝলাম? শোষিত জাতিগুলোর মনস্তাত্ত্বিক সংকট প্রায় সর্বজনীন! 😏

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...