নেপাল থেকে বাংলাদেশে আসছিলাম একজন চীনা ভদ্রলোকের সাথে বিমানের বোর্ডিং এ দেখা। তিনি দেখালেন তার পাসপোর্টে পাতার পর পাতা বাংলাদেশের ভিসাতে ভর্তি। আমি অবাক হয়ে গেলাম। এতগুলো ভিসা কেনো?সে বলল চীনের নাগরিকরা বাংলাদেশে এক মাসের ফ্রি ট্যুরিস্ট ভিসা পায়। সে বাংলাদেশে থাকে। যেই মুহুর্তে এক মাস হতে লাগে তার আগে নেপালে এসে আবার বাংলাদেশে যায়। এভাবে কয়েক বছর বাংলাদেশে আছে। কিন্তু বাংলাদেশে থাকা এতটা জরুরী কেনো? সে বলল সে একজন ব্যবসায়ী বাংলাদেশে ব্যবসা করে সেই জন্যে থাকা। মাসের শেষে একদিন নেপালে এসে পরের দিনই চলে যায় বাংলাদেশে। আমি চোখ কপালে তুলে বললাম কি ব্যবসা করেন আপনি যে প্রতি মাসে একদিনের জন্যে বিমানে করে নেপালে আসেন কেবল ভিসা রিনিউ করতে। ভেবেছিলাম বিরাট কিছু শুনবো কিন্তু আমাকে অবাক করে বলল আমি রিকশার ব্যাটারি সাপ্লাই করি। এবার আরও অবাক আমি। রিকশার ব্যাটারি বিক্রি করে এত ধনী হওয়া যায়? এত লেখাপড়া করে আমি বছরে একবার বিদেশে যেতে পারলেই খুশি। পরে অনেক চিন্তা করে দুইটা জিনিস শিখলাম - ১ কোন কাজকে ছোট করে দেখতে নাই। আমি যদি রিকশার ব্যাটারি বেচি যত বড় ব্যবসায়ী হই না কেন মানুষ অনেকেই অবজ্ঞা করবে। কিন্তু একজন ব্যাক্তি এই কাজ করে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি আয় রোজকার করে গর্ব ভরে নিজের পরিচয় দিচ্ছে। আসলে কোন কাজই ছোট না। দ্বিতীয়ত যেই জিনিসটা আরো চিন্তাতে ফেলল আমাকে তা হচ্ছে আমাদের দেশ রিকশার ব্যাটারি পর্যন্ত বানাতে পারে না। কিন্তু গরীব রিকশা মেকানিক থেকে টাকা নিয়ে চীনের মানুষ ধনী হয়ে যাচ্ছে। এভাবে তারা সারা বিশ্বের অন্যতম একটি ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অনেক দিন পার হয়ে গেলো এখনও অটো রিকশা দেখলে এর ব্যাটারি, মোটর ও বডি দেখি এইটা কোন দেশে তৈরি। আর স্বপ্ন দেখি একদিন আমরাও বানাবো এবং আমাদের দেশের ব্যবসায়ী ও যুবকরা সমৃদ্ধ হবে। m.patwary
=======================================================
আজব এক গাছ ❗

Comments
Post a Comment