Skip to main content

ছা-পোষা নিম্নমধ্যবিত্ত

 


টাকা-পয়সা মানুষ এর ভিতরে এক অদম্য আত্মবিশ্বাস তৈরী করে। এই আত্মবিশ্বাস এমন ই প্রখর যে, টাকাওয়ালা মানুষ লুংগি আর স্যান্ডোগেঞ্জি পরে শো-ডাউন দিলেও ব্যাপারটায় একটা রক্ত গরম করা ভাব থাকে।

নবম শ্রেণীতে যখন পড়তাম তখন আমাদের সাথে ফারদিন (ছদ্ম নাম) নামের এক ছেলে পড়ত। বিশাল ধনীর ছেলে এবং বিশাল বড় তার মন। তাকে দেখলেই মনে হত কোন কিছুই তাকে আটকানোর শক্তি রাখে না। আমরা ছিলাম ছা-পোষা নিম্নমধ্যবিত্ত ফ্যামিলির সন্তান। মধ্যবিত্ত বলব না কেননা আমাদের দেশের মধ্যবিত্তের সংজ্ঞায় গলদ আছে। আমাদের বাবা-মা ছিল অসফল আর ব্যর্থ। তাদের না ছিল আত্মবিশ্বাস না ছিল অনেক বড় কিছু পাবার বাসনা। আমরা লেখাপড়া করে চাকুরি জুটিয়ে সংসারের হাল ধরব এটাই আমাদের নিয়তি। আমাদের সেভাবেই নারচারিং করা হচ্ছিল। আমরা মেয়েদের পিছে ঘুরতাম না স্যারদের ভয়ে। অবশ্য ঘুরলেও তারা পাত্তা দিত না নিশ্চিত। তখন অনেক মেয়েকে দেখলেই ভাল লাগত - তবে তাদের রোমিওরা সব ছিল বাইক আর গাড়িওয়ালা ছেলেরা। ফেয়ার এনাফ। নিজেদের কাছেই ছোট ছোট লাগত। আমাদের ডানা অনেক আগেই কেটে দেওয়া হয়েছিল। মিডিওক্রিটিই যাদের নিয়তি, তাদের জন্য উড়ে বেড়ানোর চেষ্টা হয়তো বৃথা। একদিন ক্লাসে মোবাইল চেক করা হল। আমার মোবাইল নেই, তাই ভয় ও নেই। ফারদিন এর কাছে মোবাইল পাওয়া গেল ২ টা। প্রিন্সিপাল এর রুমে নিয়ে যেয়ে তাকে দেওয়া হল টিসির ধমক। তার বাবাকে ডাকা হল। আংকেল স্কুলে এলেন নিজের গাড়ি ড্রাইভ করে। একটা দামী লুংগি আর শার্ট পরিধান করে গাড়ির চাবিটা আংগুল এর ডগায় ঘোরাতে ঘোরাতে প্রিন্সিপাল এর রুমে ঢুকলেন -যেন কিছুই হয় নি। খুব একটা পজিটিভ এনার্জির ফিল পেলাম। ১০ মিনিট পর ফারদিন কে নিয়ে বের হলেন। সে আর তার বাবা হাসছে। তিনি ছেলেকে বলছেন - "মোবাইল গেলে মোবাইল আসবে। আমি আছি চিন্তা নাই। আজকে যা হয়েছে ভুলে যা " অবাক হলাম যে মানুষ এরকমও হয়। অথচ এই জায়গায় আমাদের বাবারা হয়তো ঢুকতো দাসের মত। প্রিন্সিপাল এর রুমে যেয়ে হয়তো মুখ দিয়ে কথাও বের হত না। রুম থেকে বের হয়ে হয়তো আগে আমাদের উপর ই চড়াও হতেন। আমি ভাবতাম যে কেমন লাগে ফ্যামিলির থেকে এরকম সাপোর্ট পেতে?? আমরা তো খুব কম বয়স থেকেই চাওয়াগুলো লুকাতে শিখে গিয়েছিলাম। কেননা, আমাদের ফ্যামিলির উপর বিশ্বাস আমাদের কোনকালেই ছিল না। এক্সপেকটেশন তো তার কাছেই রাখা যায় যার সক্ষমতা আছে। কেমন লাগে নিজের পরিবারকে এরকম শক্ত অবস্থায় দেখতে?? আমি তো আমাদের সাধারণ বাবাদের দেখলে পরাজিত মানুষ এর গন্ধ পাই। কোন উদ্দম নাই, স্পৃহা নাই। তাদের দেখলে নিজের প্রতি হীনম্মন্যতা জাগে, ভয় লাগে। বার বার মনে হয় যে আর যাই হই, আমি এরকম হব না। আমাকে এখান থেকে বের হতে হবে! How does it really feel to be superior! মেরুদন্ড নিয়েই যারা জন্মায় তারা কি জানে তারা কতটা ভাগ্যবান? -রুপম রহমান

NB :এই ছবিটি আমাদেরকে শেখায় যে, জীবনের লক্ষ্য অর্জনে আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। কখনো কখনো আমরা এমন কিছু লক্ষ্যকে অনুসরণ করি যা আমাদের আসল পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলে। সাফল্যের পেছনে অন্ধভাবে দৌঁড়ানোর আগে এটা নিশ্চিত করা উচিত যে সেই লক্ষ্য সত্যিই আমাদের জন্য উপযোগী এবং সঠিক পথেই আছি কিনা।
জীবনে চলার পথে, ধৈর্য ও বিবেককে সঙ্গী করে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্ধভাবে কিছু অনুসরণ করলে কখনো কখনো তা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সুতরাং, কখনও অজানার পথে অগ্রসর হওয়ার আগে ভাবুন, যাচাই করুন, তারপরই সাহসী পদক্ষেপ নিন। নিজেকে হারানোর চেয়ে পথ পরিবর্তন করা অনেক ভালো।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...