Skip to main content

'দাদা খেয়ে এসচেন না খাবেন'

 


পাপ বাপেরেও ছাড়েনা। আগেও 'দাদা খেয়ে এসচেন না খাবেন'/ একটা ইলিশ মাছ ১৬ পিস করে কাটুন দাদা' নিয়ে ট্রল করা হতো।

আর এখন ১৬০টাকা দিয়ে ১০ পিস মাংসের টুকরা থেকে শুরু করে ১০০ টাকায় মাছের শুধু মাথা আর লেজ কেনার প্যাকেজ চালু হয়েছে। পুরো ঢাকা শহর ভর্তি অদক্ষ চাকরিজীবি। বারো মাস পর পর দুই আনা ইনক্রিমেন্ট, অথচ ষোল আনা মুদ্রাস্ফীতি। সুতরাং কেরানীদের এই শহরে লাইফস্টাইল দিন দিন পেছাবে। আসলে যুগ যুগ ধরেই স্লোলি পিছিয়েছে, সেটা এখন দিনকে দিন প্রকটভাবে চোখে ধরা পড়বে। যেমন একশ বছর আগে কেরানীভিত্তিক যে কলকাতা শুরু হয়েছিলো - কালচার আছে, ভাব আছে, শিক্ষা আছে কিন্তু বেতন ছাড়া আর কোন পয়সা নেই, হিসেব করে চলা (কিপটামি) ছাড়া গতি নেই - ধীরে ধীরে ঢাকাও সেই শহরে পরিনত হবে। ত্রিশ বছর আগেও গ্রামের সবচেয়ে গরীব ঘরেও হুটহাট মেহমান এলে উঠানে হেঁটে বেড়ানো যেকোন একটা রাতা মোরগ জবাই করা হতো। সাথে পুকুরের মাছ, হাঁস, গাছের ডাব, তাল, খেজুরের রস, চালের পিঠা। জিরো কস্টিং এ মেহমানদারী। ৯০'স এ কাজের বুয়ারাও নিয়মিত স্বর্নের গয়না কিনতো। সবচেয়ে গরীব কেরানীটাও শহরের শেষ সীমায় চার কাঠা জমি কিনে ফেলতো। আর এখন এক টুকরা জমিতে ৩৬ টা ফ্ল্যাট, দুপুরে দুই ঘন্টা লিফট অফ, দুই বাড়ির মাঝখানে আর স্যাতস্যাতে সিড়িতে স্তুপ করা ময়লা। ডেংগু। এভারেজ বিদ্যা আর সস্তা চাকরী করে আলগা ভাব দানো'র দিন শেষ। বরং এখন সবকিছু গ্রাফ অনুযায়ী এগোলে খুব বেশী দেরী নেই যে ইট পাথরের এই শহরে, কোন খাঁচা সদৃশ ফ্লাটে গেস্ট চলে আসলে 'ভাইয়া বসেন স্বপ্ন থেকে ২০০ গ্রাম গরুর মাংস আনছি পুরোটাই খাবেন কিন্তু' - ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে চালু হয়ে যাবে। নতুন প্রজন্ম নিজেদের মতো জীবন শুরু করবে, ১৮ বছর পেরোলেই লিভ টুগেদার শুরু করবে, পার্ট টাইম জব, সুগার ড্যাডি, সুগার মাম্মী, বসের সাথে ট্রিপ - সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ধর্ম কমবে, রবীন্দ্রনাথ বাড়বে। গংগার দুই পার একসাথে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে। লিখেছেন: Kazi Tahsin Ahmed

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...