গত একশো বছরে মুসলমানদের জন্য এমন বড় সুযোগ আর কখনো আসেনি। ইউরোপ-আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে, আফ্রিকার উথান, মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক শক্তি ও মুসলিম দেশের দ্রুত উন্নয়ন এই সব মিলিয়ে মুসলিম উম্মাহর জন্য তিনটা বড় সুযোগ তৈরি হইছে। এগুলো বুঝতে না পারলে আমরা ঐ সুযোগ হারাবো। প্রথমে জিও-পলিটিক্যাল শিফট। আফ্রিকার উথান হইতেছে, জনসংখ্যা বাড়তেছে এমনকি অনেক জায়গায় মুসলিম জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়তেছে; নাইজেরিয়ার মতো দেশ ভবিষ্যতে গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক প্লেয়ারে পরিণত হইতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে কাতার, সৌদি আরব আর ইউএই তিনটাই নিজেদের আলাদা পথ ধরে আগাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য ঠিক রেখে তারা এমন এক অবস্থান তৈরি করতেছে, যেখানে প্রত্যেকেরই নিজস্ব পরিচয় ও প্রভাব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। সিরিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মিশ্র বাহ্যিক প্রভাবের পরও এক ধরনের মুসলিম এজেন্ডা উঠে আসতেছে। এসব মুসলমানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থান খুলে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত- অর্থনীতি ও উৎপাদন অর্থাৎ ফাইন্যান্স নিয়ন্ত্রণ। ইতিহাস আমাদের বার বার দেখাইছে বিদেশি কোলোনিয়াল-ইনস্টিটিউশন আর ঋণ কিভাবে দেশের অর্থনীতিকে ভেঙে দিতে পারে। (উদাহরণ: সুদান, পাকিস্তান)। তাই মুসলমানদের নিজস্ব সার্ভেন ফান্ড, কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। ছোট ছোট ফান্ড থেকে শুরু করে বৃহৎ কনসোর্টিয়াম তৈরি করা যাতে পলিসি প্রভাবিত করা যায় এবং স্বয়ংসম্পন্ন অর্থনীতি গড়া যায়। স্থানীয় উৎপাদন যেমনঃ টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, খাবার, কনজিউমার গুডস এগুলোতে Muslim ব্র্যান্ড বাড়াইতে হবে, যেন আমদানির উপর অন্য দেশের নির্ভরতা কমে। তৃতীয়ত- স্ট্র্যাটেজিক নেটওয়ার্কিং ও ইনভেস্টমেন্ট। মুসলমানরা অনেক উদার, দানশীল কিন্তু তারা সেটা স্ট্র্যাটেজিকভাবে কাজে লাগায়না। যাকাত-দানকে যদি স্ট্র্যাটেজিক উদ্দেশ্যে (রিসার্চ, মিডিয়া, লিগ্যাল, পলিটিকাল লবিং, কমিউনিটি বিল্ডিং) ব্যবহার করা যায়, তবে মুসলমানরা আরও ভালো করতে পারবে। আমি বলতেছিনা যাকাত আপনি এখানে দেন বা ওইখানে দেন। এটা বলার কাজ আলেম-ওলামাদের। কিন্তু আমাদেরও বুঝতে শিখতে হবে কিভাবে collectively যাকাত দিয়ে আমরা মুসলিম বিশ্বকে আমরা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবো। জিউ সম্প্রদায় যেভাবে lawyer, পলিটিশিয়ান, মিডিয়া নেটওয়ার্ক পরিচর্যা করে, আমাদেরও এমন স্ট্র্যাটেজিক communication তৈরি করা প্রয়োজন। মিডিয়া, আইন, রাজনীতি, পুলিশ, একাডেমিয়া সব জায়গায় ভালো-কৌশলগত সম্পর্ক রাখতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে তিনটা বড় চ্যালেঞ্জ আছে। এগুলো থেকে বের হইতে না পারলে লাভ নাই। প্রথমটা হইলো: সাইকোলজিক্যাল ডিকলোনাইজেশন। অর্থাৎ আমরা কোন না কোন ভাবে নিজেদেরকে আগের সেই উপনিবেশের মধ্যে এখনোও রাখছি। আমরা এখনো নিজের দেশের উৎপাদন, ইতিহাস, সম্পদকে ছোট করে দেখি। এই মানসিকতা বদলাইতে না পারলে আগানো কঠিন। দ্বিতীয়টা হইলো: আখলাক ও এক্সিলেন্স। আমাদের কোরআন-হাদিস শেখানো হইলেও আখলাক অনেক ক্ষেত্রে ঠিক নাই; এহসান ও পারফেকশন প্র্যাকটিস না করলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হবে না। তৃতীয়টা হইলো: “বড় ছবি” বা greater good এর ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তোলা। মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য সবসময়ই থাকবে, মাজহাব, রাজনৈতিক মত, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, এমনকি কমিউনিটির ভেতরের ছোটখাটো সিদ্ধান্ত নিয়েও। এগুলো স্বাভাবিক। ইতিহাসেও এমন ছিল, আর ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু যেসব জাতি নিজেদের ভেতরের মতবিরোধকে “strategic strength” বানাইতে পারে, তারাই টিকে যায়। আর যারা ছোটখাটো ঘটনায় ভেঙে পড়ে, তারা সংখ্যায় বড় হইলেও প্রভাবশালী হইতে পারে না। তাই কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা ঠিক করতে হবে। ব্যক্তিগত মত, দলীয় অবস্থান বা মতবিরোধের চেয়ে বড় হইলো উম্মাহর নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্ঞান, নিজেদের narrative তৈরি করা, এবং পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। তাই সেই অনুযায়ী আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে। দিন শেষে বিজয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে আমার আপনার পক্ষ থেকে আসে না। কিন্তু মুসলমানদের জন্য এই যে সুযোগ সেই সুযোগের সদ্যব্যবহার করতে হবে আবার এট দা সেইম টাইম চ্যালেঞ্জগুলো ওভারকাম করার চেষ্টা করতে হবে। আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে আল্লাহ অবশ্যই আমাদেরকে হেদায়েত দিবেন আর আমরা যদি চেষ্টা না করি তাহলে আমরা ফাসেক হিসেবে মারা যাব। আল্লাহ আমাদেরকে হেদায়েত দান করুক, আমিন
yahia.amin

Comments
Post a Comment