Skip to main content

একজন ছেলে তার বাবার চেয়ে শক্তিশালী হওয়ার দুইটা পথ

 


আমি অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় প্যারেন্টিং কোচ ও লেখক Sharny and Julius Kieser–এর কিছু ধারণা, টেকনিক খুব কার্যকর পেয়েছি। তারা মূলত gentle parenting, mindful discipline এবং kids' behaviour নিয়ে কাজ করেন।

তাদের মতে, একজন ছেলে তার বাবার চেয়ে শক্তিশালী হওয়ার দুইটা পথ আছে। প্রথম পথটা শুরু হয় প্রায় ১৪ বছর বয়সে। এই বয়সে ছেলে দরজা জোরে ধাক্কা দেয়, কথা শোনে না, আপনার বলা সীমা একের পর এক ভেঙে চলে। আপনি বলেন, চলো বাইরে যাই বা একটু দৌড়াই, মাথা ঠান্ডা হবে। সে সাথে সাথে বলে, যাবো না। এখানেই পুরো খেলাটা বদলায়। কারণ তার “যাবো না” বলার পর আপনি থেমে যান। ভাবেন এখন জোর করলে ঝামেলা হবে, অশান্তি বাড়বে, আজকে বাদই দেই। আর আপনি না চাইতেই আপনার বাবাসুলভ কর্তৃত্ব তার হাতে দিয়ে দিলেন। সে মনে মনে ভাবতে শুরু করে, "বাবা আমাকে থামাইতে পারে না। বাবা আমাকে ভয় পায়।" এই চিন্তাটা ছেলের মাথায় খুব গভীরভাবে ঢুকে যায়। তারপর সে দুইভাবে বড় হতে পারে। এক ধরনের ছেলে সারাজীবন “শক্ত” হওয়ার অভিনয় করে। রাগী, আক্রমণাত্মক, সবকিছুতেই চেঁচামেচি করে। কারণ এসব করে সে নিজেকে বোঝায়, আমি দুর্বল না। আরেক ধরনের ছেলে বড় হয় বাবার মতোই। কঠিন পরিস্থিতি দেখলেই পিছু হটে, সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়, নিজের ভবিষ্যৎও অন্যের হাতে ছেড়ে দেয়। দুই দিকেই সমস্যা একটাও তার ভিতরে কোনো সত্যিকারের শক্তি তৈরি করে না। এখন আসি দ্বিতীয় পথের কথা। এখানে বাবা পিছু হটে না। সীমা যেটা সেট করা আছে, সেটা অনুযায়ীই বাবা কাজ করে। ছেলে রাগ করলে, দরজা ধাক্কা দিলে, মুখ ঘুরিয়ে নিলেও বাবা স্থিরভাবে বলে, "চলো, এখনই যাচ্ছি। এটা আলোচনা করার বিষয় না। হ্যাঁ, কখনো কখনো তাকে টেনে তুলতে হবে। মাঝেমধ্যে সে খারাপ আচরণও করবে। কিন্তু ছেলেকে বুঝাতে হবে রাগ দেখিয়ে সে সবাইকে ভয় দেখাতে পারে না। দুনিয়ায় এমন একজন মানুষ আছে যাকে সে ভয় দেখাইতে পারবে বা, আর সেই মানুষটা হইলো তার বাবা। এটা জরুরি কেন? কারণ বাবা যদি পিছু হটে, তখন পুরো এই ঝামেলা সামলাই তে হয় মাকে। আর মায়ের কাজ ছেলের হরমোনজনিত ঝড়ের সাথে যুদ্ধ করা না। তাই বাবাই সেই দেয়াল যেটার সামনে ছেলে ধাক্কা দেয় আর শিখে কিভাবে নিজেকে কন্ট্রোল করতে হয়। এরপর সময় যায়। ছেলে বড় হয়, ট্রেনিং করে, শরীর বানায়, ফোকাস শিখে। কোনো একদিন ২৪ বা ২৫ বছর বয়সে সে আপনাকে হারায়। পাঞ্জা খেলায় জিতে যায়, জিমে আপনার চেয়ে বেশি ওজন তুলতে পারে, দৌড়ে আপনাকে ছাড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে সে আপনাকে হারাইলেও এবার কিন্তু বিষয়টা ভিন্ন। এটা রাগের জয় না, বেয়াদবি না। এটা তার নিজের সিদ্ধান্ত, শ্রম, ডিসিপ্লিন আর বছরের পর বছর ট্রেনিংয়ের ফল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে যখন আপনাকে হারিয়ে দেয়, তখন আপনাকে ছোট মনে করে না। বরং বেশি রেসপেক্ট করে। কারণ সে জানে, আপনি তার সামনে সেই দেয়াল ছিলেন যেটা পেরোনোর মতো শক্তি তৈরি করতেই তাকে এত দিন চেষ্টা করতে হইছে। এই শক্তি সে চেঁচামেচি বা রাগ দিয়ে পায়নি। সে নিজে বানিয়েছে। এই জন্যই সে নিজেকেও সম্মান করে। কারণ সে জানে তার শক্তি বাস্তব, অভিনয় না। তাই এই ক্ষেত্রে ছেলে বাবাকে হারায় দিলে সেটা বাবার হার না। বরং এটা প্রমাণ করে যে বাবা ঠিকমতো নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই ছেলে আজ শক্তিশালী। এই পথটাই আসল, যেখানে দিনশেষে বাবা আর ছেলে দুইজনের জয় হয়
y.amin

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...