মার্কিন অর্থনীতিবিদ টোবি রজার্স ও জেফ্রি টাকারের এক আলোচনায় উঠে আসে এমন কিছু বিষয় যার সাথে আমি একমত না, কিন্তু তাদের এই কনসার্ন নিয়ে আলোচনাও হওয়া দরকার। তারা মনে করেন আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিশ্বে এক নতুন ধরণের অর্থনৈতিক শোষণব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। যেটাকে তারা বলেন “জৈব উপনিবেশবাদ” (Biological Colonialism) উনাদের মতে, অতীতের উপনিবেশ দখল এখন রূপ নিয়েছে মানবদেহ, চিকিৎসা ও টিকার মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে। গত প্রায় ৫০০ বছর ধরে যেসব দেশ ধনী হয়েছে, তাদের পদ্ধতি ছিল মোটামুটি একই। তারা জাহাজ বানাত, সৈন্য আর অস্ত্র নিয়ে নতুন মহাদেশে যেত আর সেসব দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিত। সোনা লুট করত, মানুষকে দাস বানিয়ে জোরপূর্বক কাজ করা তো। এইভাবেই ইউরোপ ধনী হলো, যুক্তরাজ্য ধনী হলো। এটাই ছিল দীর্ঘ উপনিবেশ শোষণের ধারাবাহিকতা। এরপর শুরু হলো নতুন ধরনের শোষণনীতি। অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ আর আমেরিকার রাজনৈতিক–সামরিক প্রভাব ব্যবহার করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কম দামে শ্রম দিতে বাধ্য করা। অর্থাৎ ৫০০ বছর ধরে ধনী হওয়ার প্রধান পথ ছিল অন্যকে শোষণ করা।সমস্যা হলো, একসময় এসে দখল করার মতো নতুন ভূমি আর অবশিষ্ট রইল না। তখন ক্ষমতাধর গোষ্ঠী বুঝল, টাকার উৎস এখন নিজেদের দেশ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত সমাজ। তাই শোষণের লক্ষ্যবস্তু হলো নিজেদের জনগণ। কিন্তু কীভাবে? জেফরির যুক্তি অনুযায়ী, Iatrogenic injury হলো এই নতুন পদ্ধতি।চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষকে আজীবন ক্রনিক অসুস্থতায় ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব। একজন অসুস্থ মানুষ মানে চিকিৎসা, ওষুধ, পরীক্ষা, হাসপাতালে ভর্তি আর সেই অর্থ যায় ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে। জেফরির তথ্যমতে, অটিজম আছে এমন একটি শিশুর আজীবন চিকিৎসা খরচ হতে পারে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ ডলার। এই অর্থ শেষ পর্যন্ত যায় ওষুধ কোম্পানি, হাসপাতাল ও এলিট গোষ্ঠীর দিকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির এক নারীকে উল্লেখ করেন। COVID টিকা নেওয়ার পর তার হৃদযন্ত্রে প্রদাহ (মায়োকার্ডাইটিস) হয়। এখন তাকে নিয়মিত কার্ডিওলজিস্টের কাছে যেতে হয়, মাঝে মাঝে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, আর তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সবসময় ঝুঁকিতে থাকে। আগামী ৫–১০ বছরে তার চিকিৎসা খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ২০ লাখ ডলার। যদি এই নারীকে অতীতের মতো কোনো দক্ষিণ আমেরিকার সোনার খনিতে জোর করে কাজ করানো হতো, তাহলে তার কাছ থেকে হয়তো সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার সমমূল্যের শ্রম আদায় করা যেত। কিন্তু এখন তাকে অসুস্থ করে রেখে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত বের করে নেওয়া যায়। এই অর্থ আসে ইনস্যুরেন্স, সরকার, পরিবার, এমনকি বাড়ি বন্ধক পর্যন্ত রেখে। শেষ পর্যন্ত সম্পদ শেষ হয় রোগীর পরিবারে, আর লাভ যায় ওষুধ কোম্পানি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে। জেফরির মতে, আমরা আজ যে সামাজিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে আছি, তার মূল কারণ হলো আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা যা এখন এক ধরনের শোষণব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা আর অটিজম বৃদ্ধির মাধ্যমে, আর COVID মহামারি সেই ব্যবস্থাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। জেফরি যে “জৈব উপনিবেশবাদ” (biological colonialism) যুক্তির কথা বলেন, তার মূল কথা। যা Toby Rogers (Political Economist) ব্যাখ্যা করেছেন। এটা এমন একটা মতামত যার সাথে অনেকেই agree করে আবার অনেকেই agree করে না। এখন কথা হইলো আপনি কি মনে করেন? আপনি কি তাদের সাথে একমত? বা এর কোন কিছু কী আপনার চোখে পড়েছে?

Comments
Post a Comment