Skip to main content

এআই কি কৃষককে রিপ্লেস করতে পারবে?

 


এআই কি কৃষককে রিপ্লেস করতে পারবে?

ধরা যাক, আপনি বাংলাদেশের একজন কৃষক। আপনি সারাদিন মাঠে কাজ করতেছেন, পানি দিচ্ছেন, ফসলের যত্ন নিচ্ছেন। আপনি কি ভাবছেন এআই কখনো আপনাকে রিপ্লেস করতে পারবে কি না? উত্তর হইলো না, পারবে না। এআই আপনাকে সহায়তা করতে পারে, আপনার কাজকে আরও এফিশিয়েন্ট করতে পারে। কিন্তু মাটি উর্বর করা, ফসল চাষ করা, মাছ ধরা এসব কাজ মানুষের "হাত" ছাড়া সম্ভব না। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি চাকরি হারিয়ে যাবে। ৮ কোটি পরিবার, ৮ কোটি মানুষের জীবনে ফ্রাস্ট্রেশন, মেন্টাল হেলথ প্রবলেম, সোশ্যাল ক্রাইসিস সবই বেড়ে যাবে। কিন্তু এই হিসাব শুধু টেক সেক্টরেরই। বাস্তবতা হলো, মাটির কাজ, মাছ ধরা, হিউম্যান টাচের কাজ এসব ক্ষেত্র এখনও মানুষকেই প্রয়োজন। মানুষ এখনও চিন্তা করছে স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি, বিসিএস, সিএসসি এই রুটেই। কিন্তু পৃথিবী একই সাথে সামনের দিকে এবং পিছনের দিকে যাচ্ছে। যেমনঃ মানুষ আবার স্বর্ণ কিনছে, ফার্মল্যান্ড কিনছে, রিয়েল এস্টেটে ইনভেস্ট করতেছে। এআই দ্রুত কাজ করতেছে, কিন্তু রোবট সেই তুলনায় upgrade হচ্ছে না । ইলন মাস্ক বলেছেন, মানুষের হাত বানানো এত জটিল, যে রোবট বা এআই সহজে রিপ্লেস করতে পারবে না। তাই এআই পুরো মানুষকে রিপ্লেস করবে না; বরং মানুষকে সহায়তা করবে, কাজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াবে। বড় কোম্পানি যেমন মাইক্রোসফট বা অ্যামাজন কোটি কোটি ডলার খরচ করতেছে, যাতে কম মানুষ দিয়ে বেশি কাজ করানো যায়। প্রফিট বাড়তেছে, চাকরি কমতেছে। কিন্তু আপনি কি এআই আছে বলে বাহিরে ঘুরতে যাওয়া বাদ দিয়ে দিচ্ছেন? না, এগুলা যেমন কখনই কমবেনা তেমনই মানুষের চাহিদা খাবার, বাসা, ঘর, ট্যুরিজম এগুলো কখনো কমবে না। তিনটা সেক্টর এমন আছে যেখানে মানুষের চাহিদা সব সময়ই থাকবে। ১. এগ্রিকালচার এবং ফিশিং: পৃথিবীর ৬০% চাষযোগ্য জমি এখনও ব্যবহার হয়নি। আফ্রিকায় ৯০% জমি এখনো কেও ধরেও নাই। এই সেক্টরে কোটি কোটি জব তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের মাটি বিশ্বের সবচেয়ে উর্বর, কিন্তু ফার্মিংকে আমরা অনেক নিচু পেশা হিসেবে দেখি। অতচ ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষিত মানুষরাই কৃষি কাজ করতেছে। ২. হিউম্যান টাচ ইন্ডাস্ট্রি: যেখানে মানুষের হাতের কাজ লাগে। যেমনঃ কেয়ারগিভার, নার্স, শেফ, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, শিক্ষক এসব জব দীর্ঘদিন টিকে থাকবে। এনভিডিয়ার সিইও বলেছেন, ভবিষ্যতে প্লাম্বাররা মিলিয়নিয়ার হবে। রোবট বা এআই এখানে মানুষের স্থান নিতে পারবে না, পারলেও অনেক সময় লাগবে। ৩. ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি: গল্প লেখা, সিনেমা, আর্ট, কমিউনিকেশন, সেলস এই সব কাজ যেখানে হিউম্যান কমিউনিকেশন স্কিল দরকার, সেগুলো এআই খুব কমই রিপ্লেস করতে পারবে। তাই আমাদের উচিত দুই দিকেই প্রস্তুত থাকা। একদিকে এআই শিখে ব্যবহার করা, আরেকদিকে রিয়েল এস্টেট এ ইনভেস্ট করা।অনেকের চাকরি চলে যাবে এটা ঠিক, কিন্তু পৃথিবী থেমে থাকবে না। যারা বুঝতে পারবে কিভাবে এআইকে ব্যবহার করে নিজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে হয় এবং কিভাবে নন-টেক দুনিয়ায় রিয়েল ভ্যালু তৈরি করতে হয়, ভবিষ্যৎ তারাই ভালো করতে পারবে

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...