Skip to main content

আমেরিকা গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে

 


আমেরিকা যে গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে এটা অনেকেই মানতে চায় না।

কেউ বলে অতিরঞ্জন করে বলতেছি , কেউ বলে এতো সহজে আমেরিকা পতন হবে না। কিন্তু ব্যাপারটা শুধু আমার মতামত না; যেসব প্রমাণ এখন তৈরি হচ্ছে, সেগুলো এই গৃহ যুদ্ধকেই নির্দেশ করতেছে। এই লিখায় পতনের কিছু প্রমাণ আর এই পতন কেন মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেটা নিয়ে আলোচনা করবো। অনেকে প্রশ্ন করেন, ইয়াহিয়া ভাই আপনি বারবার আমেরিকার পতন নিয়ে কেন কথা বলেন? বাংলাদেশের সমস্যা নিয়ে বলেন না কেন? উত্তর খুব সহজ। দেখেন আমাদের অনেক সমস্যা আছে, ঠিক আছে। কিন্তু এই সমস্যাগুলোর একটা বড় অংশের শিকড় যুক্ত সেই আমেরিকার নীতির সাথে। তারা মিডল ইস্ট, আফ্রিকা থেকে ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে, মানসিকতা নিয়ে গেছে, narrative নিয়ে গেছে। আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙেছে তারপর থেকে আমরা নিজেদের সমস্যাও আর ঠিকভাবে দেখতে পারি না। তাই বড় ছবিটা বুঝতে হইলে, আপনার বুঝতে হবে আমেরিকা এখন কোন পথের দিকে যাচ্ছে। সবচেয়ে সহজ জিনিসটা দিয়ে শুরু করি গ্রোসারি। আমেরিকায় গ্রোসারির দাম ২০১৭ সালের পর থেকে এখন সবচেয়ে বেশি। মিডল ক্লাস পরিবার একটা সাধারণ বাজার করতেই এখন মাসে ১০০০ ডলারের বেশি খরচ করে। কিন্তু তাদের বেতন বাড়ে না। এই অবস্থায় বারবারা ওয়াল্টার (The Next Civil War প্রজেক্ট) বলতেছে মানুষ রাজনীতি বোঝে না, পলিসি বোঝে না, কিন্তু গ্রোসারির দাম বুঝে। যখন বাজার করতে পারা যায় না, তখন frustration থেকে social unrest তৈরি হয়। আর এগুলার ফলাফল মিসট্রাস্ট, অপরাধ, কনফ্লিক্ট। আর এটাই এখন আমেরিকার বাস্তবতা। দ্বিতীয় নির্দেশনা jobs। চাকরি যাচ্ছে, কোম্পানি বন্ধ হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলসের মতো শহর ডেজার্ট হয়ে যাইতেছে। আট-নয়টা টেক জায়ান্ট ছাড়া বাকি কোম্পানিগুলোর অবস্থা ভালো না। নাকে’s, Wingz-এর মতো chainগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, স্টারবাক্সও profit struggle করছে। লস অ্যাঞ্জেলসের ডাউনটাউন এলাকায় ৩৫% এর বেশি বাণিজ্যিক এলাকা এখন খালি পড়ে আছে। একসময় হলিউডের মুভিতে যেই লস অ্যাঞ্জেলসকে nightlife হিসেবে দেখানো হইতো, সেখানেই আজ পর্যটনের নাই । গত দুই বছরে শুধু ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছে ৫ লাখের বেশি মানুষ। কারণ তারা খরচ আর মিলাইতে পারতেছে না। তৃতীয় সংকেত স্টক মার্কেটের ওভারভ্যালুয়েশন। আমেরিকার economy যেটার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেটার ভিতেই এখন ফাটল দেখা যাচ্ছে। ২০০৮ সালের ক্রাইসিস কে ঠিকঠাক predict করেছিলেন সেই মাইকেল ব্যুরি এবার NVIDIA আর Palantir-এর বিরুদ্ধে বিশাল বেট করছে। সে কখনো এত বড় বেট দেয় নাই। পিটার থিল-এর মতো সেরা টেক ইনভেস্টরও সম্পূর্ণভাবে স্টক বিক্রি করে বের হয়ে গেছে। SoftBank-ও তাদের investment প্রায় পুরোটা cash-out করছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা মূলত এই আট-দশটা কোম্পানির স্টক price যখন পুরো S&P500 কে represent করে, তখন সাধারণ মানুষের pension fund আর 401K fund সেই স্টকেই heavily invest হয়। কিন্তু যখন correction আসবে এটা 20% না, 50% পর্যন্ত হিট করতে পারে। আর মিডল ক্লাস তখন collapse করবে। যেটা হবে, সেটা “economic correction” না বরং একটা psychological shockwave। আর সেখান থেকেই শুরু হবে civil conflict. বাবার শেষ সঞ্চয়, মায়ের স্বাস্থ্য insurance সবকিছু যদি স্টকের সাথে বেঁধে দেওয়া হয়, তখন একটা crash মানেই হাজার হাজার পরিবার অন্ধকারে নেমে যাবে। এখানেই “triangle of conflict” দেখা যায়, যেখানে ট্রাম্প একপাশে, মামদানি আর সাধারণ মানুষ আরেকপাশে, আর পেছনে আছে ইলন মাস্ক। প্রত্যেকের দিকে আলাদা চাপ দেওয়া হচ্ছে। সোসাইটিকে আল্ট্রা-রাইট আর আল্ট্রা-লেফট দুই দিকে extreme করে ভেঙে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। এটাকে বলে “pendulum break”। সমাজকে যদি ছিঁড়ে ফেলতে হয়, তাহলে তাকে দুই extreme এর মধ্যে আটকে দিতে হবে যাতে মাঝের ground একসময় আর টিকতে না পারে। তখন surveillance system ঢোকানো যায়, private prison business বাড়ানো যায়, mental health crisis কে business model বানানো যায়। এটা conspiracy না এটা publicly explained economic strategy। আমেরিকার deep structure এটা openly বলছে “more unrest means more business.” তারপর আপনি লক্ষ্য করেন আমেরিকা, ইউরোপের moral collapse করতেছে। ধর্ম, পরিবার, মানসিক স্বাস্থ্য, addiction সব index এখন record level-এ। “OnlyFans” এখন top profitable company। বাবা মেয়ের ঝগড়া public হয়ে social media-তে আসে কারণ online prostitution এখন normal earning source হিসেবে present করা হচ্ছে। ফোর্ডের সিইও আর ইলন মাস্ক দুইজনই publicভাবে admit করছে আমেরিকায় highly paid skill workers পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ আর অধিক পরিশ্রমী কাজ শিখতে চাচ্ছে না। একদিকে immigration-কে ঘৃণা করা হচ্ছে, অন্যদিকে কাজের জায়গায় মানুষই পাওয়া যাচ্ছে না। mental health, addiction, depression ক্রমেই নতুন বারতেছে। এই collapse আর ঠিক করা যাবে না এটা structural। কিছু ছোট community থাকবে নিশ্চয়ই। কিন্তু আমেরিকা আর কোনোদিন family-oriented stable society হিসেবে ফিরবে না। মানুষের বিশ্বাস ভেঙে গেছে media, law, corporation সবকিছু নিয়েই এখন distrust। এটাই civil war-এর মূল আগুন। তাহলে মুসলমানদের কী করা উচিত? প্রথম কাজ ফেরাউন কে চিনতে হবে। ফেরাউনকে যদি আপনি “ভালো মানুষ ভাবা” শুরু করেন, তাইলে কেউ আর মূসার পথ ধরবে না। আজকের ফেরাউন হলো সেই corporate structure, যে value কে বিক্রি করে profit বানায়। তাই তাদের পতন বুঝা জরুরি যাতে তাদের মতো ভুল আমরা না করি। মুসলিমদের যদি আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে আমেরিকার পতন দেখতে হবে “ঘৃণা দিয়ে” না বরং “শিক্ষা দিয়ে।” যেন বোঝা যায় কোন পথে হাঁটলে পতন নিশ্চিত হয়, আর কোন পথে হাঁটলে উম্মাহ উঠে দাঁড়াইতে পারবে। কারণ ফেরাউনকে না চিনলে, কেউ কখনও মূসার পাশে দাঁড়াইতে পাড়বে না।yahia amin

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...