Skip to main content

“টাকা বাঁচানো”


 এখনকার সময়ে “টাকা রোজগার” যতটা কঠিন, “টাকা বাঁচানো” তার চেয়েও কঠিন।

সবাই বলছে “এটা হালাল”, “রিস্ক নাই”, “রিটার্ন গ্যারান্টিড!” কারন তারা আপনার আমার ইমোশনের জায়গাটা বুঝে গেছে। এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই যে ঢাকা শহরে এখন মানুষের জীবন অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ কঠিন হয়ে গেছে। জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিন বাড়তেছে, প্রচুর মানুষ চাকরি হারাইছে, অনেকের পরিবারে হঠাৎ করে অসুখ-বিসুখ যেমন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এসব খরচে সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। মানুষের জীবনযাত্রার খরচ এমনভাবে বেড়েছে যে স্কুলের বেতন থেকে শুরু করে বাজারের ঝুড়ি সবকিছুর দাম এখন অনেক বেশি। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, এই সময়েই মানুষ সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ভুল করে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ইনভেস্টমেন্ট স্কিম, হালাল বিজনেস”, রিয়েল এস্টেট অফার বা ক্রিপ্টো প্রজেক্ট এর কথা শুনছেন নিশ্চয়ই? কিন্তু, প্রশ্ন হলো আপনার টাকা সত্যিই নিরাপদ তো? বাংলাদেশে তো চোর-বাটপাড়ের অভাব নাই আপনার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাবে এমন লোকের ভিড় লেগে আছে। এই সুযোগটাই নেয় তারা। একদিকে হতাশ মানুষ মুক্তির পথ খোঁজে, আরেকদিকে কিছু “শিয়াল” আর “হায়েনা” নকল ব্যবসার নামে ফাঁদ পাতে। যেমনঃ নকল সোনা। এখন দেশে নকল সোনার ব্যবসা কি ভয়ংকরভাবে যে বাড়ছে, আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। মানুষ ভাবে, “সোনা ভালো ইনভেস্টমেন্ট”, কিন্তু সে বুঝেই না, তারা যেটা কিনতেছে সেটা পিতল! তারপর আরও আছে “হালাল ইনভেস্টমেন্ট” ট্র্যাপ। গত কয়েক বছরে সবাইকে শেখানো হইছে, “ব্যাংকে টাকা রাখলে হারাম, হালাল ইনভেস্টমেন্ট করো তাইলেই টাকা “safe” এই সুযোগে অনেকেই “জান্নাতে যাও হালাল কোম্পানি” খুলে বসছে। এই কোম্পানিগুলো প্রথম বছর আপনাকে ২০% রিটার্ন দেয়, দ্বিতীয় বছরও দেয় তৃতীয় বছর পুরো টাকা উধাও। কারণ এত হাই রিটার্ন সাসটেইনেবল না। বাস্তবে কোনো হালাল বা নৈতিক ব্যবসা পাঁচ বছর ধরে ১৫% এর বেশি দিতে পারে না। আপনি যদি ২০%-২৫% রিটার্নের লোভে টাকা দেন, তাহলে আপনি নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারতেছেন। ⭕ কেন এমন ফাঁদে পড়ি আমরা? সবচেয়ে বড় কারণ হলো, চাপের মধ্যে ভুল সিদ্ধান্ত। যখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন মানুষ ভয়, লোভ আর তাড়াহুড়োর মধ্যে পড়ে যায়। “দ্রুত কিছু করতে হবে” এই মানসিকতা থেকেই ভুল ইনভেস্টমেন্ট হয়। “অবাস্তব প্রতিশ্রুতি”র লোভ। কেউ বলে, বছরে ২৫% রিটার্ন! কেউ বলে, এক বছরেই মূলধন দ্বিগুণ! কিন্তু বাস্তবে কোনো টেকসই, নৈতিক ও স্বচ্ছ ব্যবসা এমন রিটার্ন ধারাবাহিকভাবে দিতে পারে না। আরেকটা ভুল হলো- যোগ্যতা যাচাই না করা। অনেকে ভাবে “হালাল” মানেই “ঝুঁকিমুক্ত”, কিন্তু আসলে একজন অদক্ষ বা অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া মানে নিজের ইনভেস্টমেন্টকে জুয়া খেলার হাতে তুলে দেওয়া। ✅ তাহলে কী করবেন? বিনিয়োগ করার আগে ৩ টা কথা মনে রাখুন- সেফটি মার্জিন রাখুনঃ সবাই যখন হুড়োহুড়ি করে কিনছে, আপনি থামুন। বাজার যখন পড়ে যায়, তখন বুঝে কিনুন। লোন করে রিটার্নের লোভে সবকিছু একসাথে হাতছাড়া করবেন না। ইমোশন বাদ দিনঃ ইনভেস্টমেন্ট কখনোই আবেগের জায়গা নয়। বন্ধুর পরামর্শ, হঠাৎ অনুপ্রেরণা বা “ফিল গুড” আইডিয়ায় টাকা ঢালবেন না। খোঁজ খবর নিনঃ আপনি যে সেক্টরে ইনভেস্ট করছেন, সেটা আপনি নিজে বুঝেন তো? না বুঝে টাকা দিলে, সেটা ইনভেস্টমেন্ট নয়, ডোনেশন! বেঞ্জামিন গ্রাহামের The Intelligent Investor বইয়ে একটা লাইন আছে, “একজন ইনভেস্টরের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো সে নিজে।” এই কথাটা শতভাগ সত্য। আমরা নিজেরাই নিজের লোভ, ভয় আর অজ্ঞতায় পড়ে ক্ষতি করি। বাংলাদেশে এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে বাবা কষ্ট করে বিশাল ব্যবসা বানায়, কিন্তু ছেলে অযোগ্যতার কারণে কয়েক বছরের মধ্যে সব শেষ করে ফেলে। কারণ সেই ছেলে টাকার ভ্যালু কখনও শেখে নাই, সে রিস্ক বোঝে না, আর ইনভেস্টমেন্টের বেসিক জানে না। তাই আপনি ইনভেস্ট করার আগে শুধু একটা জিনিস মনে রাখবেন জ্ঞানের অভাবে নয়, অনেক সময় আচরণের ভুলেই মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়
y .amin

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...