Skip to main content

সব বিড়াল কি ভ্রমণ পছন্দ করে?

 ঈদ প্রায় আমাদের দরজায় দাঁড়িয়ে। আর ঈদের ছুটিতে পরিবারসহ বাইরে ঘুরতে যাওয়া আনন্দের বিষয়। কিন্তু আপনার বাসায় যদি একটি আদরের বিড়াল থাকে তখন সিদ্ধান্তটা একটু ভেবেচিন্তে নিতে হয়... ওকে বাসায় রেখে যাবেন, নাকি সাথে নিয়ে যাবেন? যদি ৩–৪ ঘণ্টার বেশি দূরত্বে কোথাও যান এবং বিড়ালকে সাথে নিতে চান তাহলে আগে থেকেই সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া খুব জরুরি। কারণ বিড়াল পরিবেশ পরিবর্তন খুব সহজে মানিয়ে নিতে পারে না, আর ভ্রমণের চাপ তাদের জন্য স্ট্রেসফুল হতে পারে।

প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপদ ক্যারিয়ার (pet carrier)। কখনোই কোলে বা খোলা অবস্থায় গাড়িতে বিড়াল নিয়ে ভ্রমণ করবেন না। নিরাপদ, বাতাস চলাচল করে এমন শক্ত ক্যারিয়ার ব্যবহার করতে হবে। American Veterinary Medical Association পরামর্শ দেয় যে ভ্রমণের সময় পোষা প্রাণীকে সবসময় সুরক্ষিত ক্রেট বা ক্যারিয়ারে রাখতে হবে যাতে হঠাৎ ব্রেক বা দুর্ঘটনায় আঘাত না পায়। ক্যারিয়ারের ভেতরে নরম কাপড় বা ওর পরিচিত কম্বল রাখলে বিড়াল একটু স্বস্তি পায় কারণ এতে বাসার গন্ধ থাকে। দ্বিতীয় বিষয় হলো ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্য প্রস্তুতি। যদি আপনার বিড়ালের বমি প্রবণতা থাকে বা গাড়িতে উঠলে অস্থির হয়ে যায় তাহলে আগেই ভেটের সাথে কথা বলা উচিত। অনেক সময় ভেটেরিনারি ডাক্তার হালকা অ্যান্টি-নজিয়া বা শান্ত করার ওষুধ দিতে পারেন। American Society for the Prevention of Cruelty to Animals উল্লেখ করে, ভ্রমণের আগে প্রাণীকে ধীরে ধীরে গাড়ির সাথে অভ্যস্ত করানো ভালো অর্থাৎ একদিনে হঠাৎ লম্বা যাত্রা না করে আগে ছোট ছোট ট্রায়াল ট্রিপ দেওয়া। খাবার ও পানির ব্যাপারেও পরিকল্পনা দরকার। যাত্রার ঠিক আগে বেশি খাবার না দেওয়াই ভালো কারণ এতে বমি হতে পারে। রওনা দেওয়ার ৩–৪ ঘণ্টা আগে হালকা খাবার দিন। সাথে অবশ্যই পরিষ্কার পানি, ছোট বাটি এবং প্রয়োজন হলে লিটার বক্স রাখুন। যদিও ৩–৪ ঘণ্টার ট্রিপে সাধারণত লিটার দরকার হয় না, তবুও দীর্ঘ যানজট হলে প্রয়োজন হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গন্তব্যস্থলের নিরাপত্তা। আপনি যেখানে থাকবেন, সেই বাসা বা রিসোর্ট কি পেট-ফ্রেন্ডলি? জানালা-বারান্দা কি সুরক্ষিত? নতুন জায়গায় বিড়াল ভয় পেয়ে লুকিয়ে যেতে পারে বা দরজা খোলা থাকলে পালিয়ে যেতে পারে। তাই পৌঁছানোর পর প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ছোট রুমে ওকে রাখুন, ধীরে ধীরে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে দিন। তাপমাত্রাও খেয়াল রাখতে হবে। ঈদের সময় যদি গরম থাকে তাহলে গাড়ির ভেতর কখনোই এসি বন্ধ করে বিড়াল রেখে বাইরে যাবেন না। Centers for Disease Control and Prevention সতর্ক করে যে বন্ধ গাড়ির ভেতরে তাপমাত্রা খুব দ্রুত বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে যা পোষা প্রাণীর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। সবশেষে একটি বাস্তব প্রশ্ন, সব বিড়াল কি ভ্রমণ পছন্দ করে? না! অনেক বিড়ালই নিজের পরিচিত পরিবেশ ছাড়া অস্বস্তিতে থাকে। যদি আপনার বিড়াল খুব স্ট্রেসপ্রবণ হয় তাহলে বিশ্বাসযোগ্য কারও কাছে রেখে যাওয়া বা পেট সিটার নেওয়া অনেক সময় ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থাৎ, ঈদের আনন্দের সাথে যেন আপনার বিড়ালের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিও নিশ্চিত হয়... এই পরিকল্পনাই হওয়া উচিত সবার আগে। সঠিক প্রস্তুতি নিলে ৩–৪ ঘণ্টার ভ্রমণও আপনার ও আপনার আদরের বিড়ালের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...