Skip to main content

পাক - আফগান যুদ্ধ

 পাক - আফগান যুদ্ধ

আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করলে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান। এদিকে গতবার ইরানের পাশে ছিল পাকিস্তান কারণ এই দুই দেশের সীমানা এক। একজন অরক্ষিত হলে আরেক জন কাবু। এই দুই সমস্যার সমাধান কী? জি, পাকিস্তান আর আফগানিস্তানকে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লাগিয়ে দেওয়া। বাস্তবে ঠিক তাই হচ্ছে। প্রথমে ট্রাম্পের বন্ধু পাক সেনা প্রধান অসীম মুনীর আফগানে আক্রমণ শুরু করলো। অতিষ্ট হয়ে তারা পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করলো। এক কথায় একটি বলদকে বলল যা সেই ঘোড়ার পিঠে লাথি মার। তোকে আমার সেক্রেটারি বানাবি । সাথে সাথে বলদ লাফ দিল আর দুই পক্ষ মারামারি শুরু করলো যেন শান্তিতে পাশে থাকা খামারিকে রাক্ষস জবাই করতে পারে। আমার বিশ্লেষণ তাই বলে। আল্লাহ সঠিক জানেন। আপনার মতে সত্যিই কি পাকিস্থান ভুল করছে? ১৯৭১ সালের মার্চের মত। নাকি পাকিস্তান এখানে যা করার ঠিকই করছে? মোহাইমিন পাটোয়ারী

আফগানিস্তানের শক্তি পায়ের নিচে আর দুর্বলতা মাথার উপরে। পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বল ভূমির একটি হচ্ছে আফগানিস্তান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মাথার উপরের আকাশ সবার জন্য এক সমান। এই জায়গায় তাদের না আছে বিমান, না আছে ড্রোন বা হেলিকপ্টার কিংবা আকাশ প্রতিরক্ষা। একেবারে ওপেন টার্গেট। ঠিক এই কাজই করে যুগে যুগে শক্তিশালীরা। উপর থেকে কিছু বোম বাজি করে। আর নিরাপদে দেশে ফিরে গর্ব করে বেড়ায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আফগানিস্তান হচ্ছে পয়সা নষ্ট করার দেশ। ধনী ব্যাক্তিরা যেমন আজে বাজে খাতে পয়সা নষ্ট করে ঠিক তেমনি ধনী সাম্রাজ্য আফগানিস্তানে গিয়ে পয়সা নষ্ট করে আসে। এটি শক্তির একটি প্রদর্শন যে আমি এত সুপার পাওয়ার হলাম যে আফগানে গিয়ে একটু মেরে দিয়ে আসলাম। হোক কিছু অপচয় কিন্তু গ্রেট ব্রিটেন, সোভিয়েত, আমেরিকা, নাদির শাহ, সম্রাট আকবর সেই কাতারে নাম লেখলাম। কিন্তু গরীব পাকিস্তানের সমস্যা কী? ঘোড়া রোগ নাকি বড় শখ? কিছু প্রশ্নের উত্তর নেই। এই যে বামরা কিছুদিন পর পর মিছিল করে পুলিশের মার খায় এর কারণ কি? হয়তো মার না খেলে গা ব্যথা ব্যথা করে। এমন উত্তর ছাড়া ভালো কোন উত্তর যেমন নেই ঠিক তেমনি এই যুদ্ধ করে কি লাভ তার কোন উত্তর নেই। কিছুই বদলাবে না। তালেবান তার জায়গাতেই থাকবে। মাঝখানে কিছু টাকা ও জীবন খরচ হবে। আসিম মুনির সম্রাট আকবর কিংবা নাদির শাহ এর খাতায় নাম লেখাতে পারলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাও তেমন নাই। তাহলে কেন? ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা কেন? আমেরিকা থেকে এত মারা খাবার পর তার প্রতিই মুগ্ধতা কেন? ইরানে এত সমস্যা চলমান। এই মুহূর্তে কেন? ইমরান খান জেলে কেন! যেই আমেরিকার দ্বারা পাকিস্তান ড্রোন হামলার শিকার ছিল বহু বছর তার পিছে পিছে ঘুরে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার দাবী কেন? এগুলোর উত্তর একটাই হতে পারে। দাসত্ব না করলে ভালো লাগে না। গা ব্যথা ব্যথা করে। মোহাইমিন পাটোয়ারী

আফগানদের সমস্যা কি পাকিস্তান ঠিক বুঝতে পারছে না। অফিসে একজন বস থাকে যে আপনার সাথে খারাপ আচরণ করে কিন্তু আপনি তার বিরোধিতা না করে জুনিয়রদের উপর রাগ ঝাড়েন। একই ভাবে আমেরিকা শক্তিশালী সে পাকিস্তানকে ব্যবহার করবে। পাকিস্থান সব মেনে নিয়ে নিয়মিত চাটবে। কারণ প্রভু শক্তিশালী। এখন বিষয়টি মেনে নিয়ে সে তার চাইতে দরিদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রকে পিটবে বিনিময়ে তারা মেনে চলবে এটাই নিয়ম। কিন্তু সেই নীয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কেন উল্টা লাগতে আসবে। আর এই চাষা ভুশারা কেন এত বড় অফিসারদের সাথে পাংগা নিতে আসবে? সেজন্য আকাশ থেকে আমেরিকা স্টাইলে সভ্যতার কিছু বিজ ফেলে আসলো। ঠিক সাদা প্রভু তার সাথে যা করে সেই সিস্টেমের অনুকরণ। টেস্ট করে দেখছে যদি কাজে দেয়। তবে এই জাতির সম্পর্কে যতটুকু জানি এই পদ্ধতি কাজে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...