Skip to main content

রাস্তার কুকুরের লোম ওঠা

 আপনি কি কখনো এমন কোনো রাস্তার কুকুর দেখেছেন যার শরীরের অনেক জায়গায় লোম নেই, চামড়া লাল হয়ে আছে বা খোসা পড়ছে? অনেক মানুষ এটা দেখে ভাবে... হয়তো গরমের কারণে লোম পড়ছে বা এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু সত্যটা হলো, বেশিরভাগ সময় রাস্তার কুকুরের লোম উঠে যাওয়া মানে তার শরীরে কোনো না কোনো সমস্যা হয়েছে। ভালো খবর হলো, খুব সাধারণ কিছু উপায় জানলে একজন সাধারণ মানুষও এই কুকুরগুলিকে সাহায্য করতে পারেন।

রাস্তার কুকুরের লোম ওঠার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ত্বকের পরজীবী রোগ, যাকে সাধারণভাবে মেঞ্জ বা স্ক্যাবিস বলা হয়। এতে খুব ছোট ছোট মাইট বা পরজীবী কুকুরের ত্বকে বাসা বাঁধে এবং প্রচণ্ড চুলকানি সৃষ্টি করে। তখন কুকুরটি বারবার শরীর চুলকায়, দাঁত দিয়ে কামড়ায় বা মাটিতে ঘষে। এর ফলে ধীরে ধীরে সেই জায়গার লোম উঠে যায় এবং চামড়া লাল হয়ে যায় বা ক্ষত তৈরি হয়। রাস্তার কুকুরদের মধ্যে এই রোগ খুব বেশি দেখা যায় কারণ তারা অনেক কুকুরের সংস্পর্শে থাকে এবং পরিষ্কার পরিবেশে থাকতে পারে না। আরেকটি বড় কারণ হলো খাবারের অভাব বা পুষ্টির ঘাটতি। রাস্তার কুকুররা নিয়মিত ভালো খাবার পায় না। অনেক সময় তারা ডাস্টবিনের খাবার বা যা পায় তাই খেয়ে বেঁচে থাকে। এতে শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি হয়। যখন শরীরে পুষ্টির অভাব হয় তখন ত্বক দুর্বল হয়ে যায় এবং লোম ঝরে পড়তে শুরু করে। অনেক সময় শরীর খুব শুকনো দেখায় এবং নতুন লোম ঠিকভাবে গজায় না। এছাড়াও ছত্রাক বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ থেকেও কুকুরের লোম উঠতে পারে। এই রোগকে অনেক সময় রিংওয়ার্ম বলা হয়। এতে সাধারণত গোল গোল দাগের মতো জায়গায় লোম উঠে যায় এবং সেই জায়গায় খোসা বা খসখসে চামড়া দেখা যায়। রাস্তার কুকুররা নোংরা পরিবেশে থাকার কারণে সহজেই এই সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে। উকুন, ফ্লি বা টিক নামের ছোট পরজীবীগুলিও একটি বড় কারণ। এগুলো কুকুরের শরীরে লেগে থাকে এবং রক্ত খায়। এতে কুকুরের ত্বকে তীব্র চুলকানি হয়। তখন কুকুরটি বারবার চুলকাতে থাকে এবং সেই জায়গার লোম ধীরে ধীরে উঠে যায়। অনেক সময় এই কারণে ত্বকে অ্যালার্জিও তৈরি হতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে রাস্তার কুকুরকে সাহায্য করতে পারে? প্রথমত, যদি সম্ভব হয় তাহলে কুকুরটিকে কোনো ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে ভালো। কিন্তু অনেক সময় সেটা সম্ভব হয় না। তবুও কিছু সহজ উপায়ে কুকুরটির অবস্থা অনেকটা ভালো করা যায়। সবচেয়ে সহজ সাহায্য হলো ভালো খাবার দেওয়া। সপ্তাহে কয়েকবার ভাতের সাথে ডিম, মাছ বা মুরগির মাংস দিলে কুকুরের শরীর শক্তি পায় এবং ধীরে ধীরে ত্বক ও লোম ভালো হতে শুরু করে। পর্যাপ্ত পুষ্টি পেলে অনেক কুকুরের লোম আবার গজাতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, যদি কুকুরটি খুব বেশি নোংরা থাকে তাহলে মাঝে মাঝে পরিষ্কার পানি দিয়ে হালকা করে গোসল করানো যেতে পারে। এতে শরীরের ময়লা ও কিছু পরজীবী কমে যায়। তবে খুব বেশি সাবান ব্যবহার না করাই ভালো। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিয়মিত পরিষ্কার পানি দেওয়া। অনেক রাস্তার কুকুর গরমে পর্যাপ্ত পানি পায় না। শরীরে পানির অভাব থাকলেও ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে। যদি কারও পক্ষে সম্ভব হয় তাহলে কাছের কোনো পেট ক্লিনিক বা প্রাণী সেবা সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। অনেক সময় তারা রাস্তার কুকুরদের জন্য কম খরচে বা বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। সবশেষে মনে রাখতে হবে... রাস্তার কুকুরের লোম উঠে যাওয়া শুধু দেখতে খারাপ লাগার বিষয় নয়, এটি তাদের কষ্টের একটি লক্ষণ। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষও সামান্য খাবার, পরিষ্কার পানি এবং একটু যত্ন দিয়ে তাদের অনেক সাহায্য করতে পারে। ছোট ছোট এই কাজগুলোই একটি অসহায় প্রাণীর জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। রেফারেন্স ও গবেষণা: * Scott, Miller & Griffin – Muller and Kirk’s Small Animal Dermatology * Merck Veterinary Manual – Canine Mange and Skin Diseases * American Veterinary Medical Association (AVMA) – Skin diseases in dogs * Veterinary Parasitology Journal – Mange mites in dogs * World Small Animal Veterinary Association (WSAVA) – Nutrition and skin health in dogs

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...