Skip to main content

জীবনকে চূড়ান্ত হুমকির মাঝে ফেলে উপার্জনের জন্য

 ইউরোপের উন্নত জীবনের আশায় উত্তাল সাগরে নৌকা ভাসিয়েছিল একদল বাংলাদেশি যুবক। কিন্তু সেই অলীক স্বপ্নের কাছে পৌঁছানো হয়নি তাদের।

তার আগেই নিভে গেছে ২২ টি জীবন। তাদের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে সাগরে। এই ঘটনা এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন পরপরই এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে আর আমরা স্তম্ভিত হই। ইউরোপের অলীক স্বপ্নে বিভোর হয়ে, জীবন হাতে নিয়ে এমন দুঃসাহসী অভিযানে যারা পা বাড়ায়, তারা কেউই সম্ভবত নিঃস্ব নয়। দালালের হাতে যে টাকার বান্ডিল গুঁজে দিয়ে তারা উত্তাল সাগরে জীবন ভাসায়, চাইলে ওই টাকা দিয়ে তারা দেশেই সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু ওই ছোট পেশায় যে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা যে উচ্চাভিলাষী। আমাদের স্বপ্ন যে সাধ্যের চেয়েও অনেক বড়। ইউরোপের চোখ ধাঁধানো আলোর মাঝেই যে আমরা খুঁজে ফিরি সুখের মঞ্জিল! কিন্তু আমরা এমন স্বপ্ন কেন দেখি, যে স্বপ্ন ছুঁতে গেলে হায়াতের সীমানা পাড়ি দিতে হয়! যে স্বপ্ন ছুঁতে গিয়ে নিজের লাশটাও দেশের মাটি থেকে বঞ্চিত হয়! জীবনকে চূড়ান্ত হুমকির মাঝে ফেলে উপার্জনের জন্য পা বাড়ানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি বরং প্রকারান্তরে আত্মহত্যার শামিল। মহান আল্লাহ বলেছেন, আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে দিকে ঠেলে দিও না (বাকারা ১৯৫)। এইসব ঘটনা বারবার আমাদেরকে সতর্ক করে যায়। কিন্তু আমরা সতর্ক হই না। হাই না, কারণ, উচ্চাভিলাষের রঙিন পর্দায় আমাদের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে! ভোগবাদী সভ্যতা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত এভাবেই এক অবাস্তব উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে তাড়া করে ফিরছে। যাতে আমরা খেই হারিয়ে ফেলছি। আমরা হারিয়ে ফেলছি জীবনের মানে। কিন্তু এটা মুমিনের চরিত্র নয়। মুমিন নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে পারে না। মুমিনের স্বপ্ন থাকবে, কিন্তু সে উচ্চাভিলাষী হবে না। যারা এখনো এই বিপদসংকুল পথে পা বাড়ানোর চিন্তা করছেন, ফিরে আসুন। কারণ, অবৈধ পথে ইউরোপের কথিত রঙিন জীবনের চেয়ে দেশের মাটিতে বাবা-মার স্নেহছায়ায় ঘাম ঝরানো ডালভাত অনেক তৃপ্তিদায়ক।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...