Skip to main content

জাতি হিসেবে আজাদির বা গোলামীর জিঞ্জিরা থেকে মুক্তি

 যুদ্ধ হচ্ছে এমন এক সত্য যাকে অস্বীকার করলে আপনি গোলামে পরিণত হবেন।

জাতি হিসেবে আজাদির বা গোলামীর জিঞ্জিরা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের কোন পদক্ষেপ আছে কী? অনেকে এই প্রশ্নের উত্তরে ভাববেন সামরিক বাজেট বৃদ্ধি। অস্ত্র কেনা। কিন্তু না। কেনা অস্ত্র যে আপনাকে মুক্ত করতে পারে না তার উদাহরণ হচ্ছে সৌদি বনাম ইরান । বর্তমানে দুই দেশের পার্থক্য হচ্ছে কেউ কিনে বড় হতে চেয়েছে কেউ বানিয়ে। দুই দেশই কিন্তু টাকা খরচ করেছে। এখন দেখেন কারটা সত্যিকার অর্থে কাজে লাগছে। এবার অনেকে ভাবতে পারেন সরকারের উচিৎ সামরিক কারখানা দেয়া। এটা আরেক ভুল। সরকার না বেসরকারি উদ্যোগে প্রযুক্তি সর্বদা এগিয়ে থাকে। তার উদাহরণ হচ্ছে সোভিয়েত বনাম আমেরিকা। এমনকি চীন পর্যন্ত বর্তমানে সামরিক প্রযুক্তি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিচ্ছে। রাশিয়া তো বটেই। এই সবকিছুর চেয়ে বড় প্রস্তুতি হচ্ছে সাপ্লাই চেইন। মনে করেন বাংলাদেশ একটি যুদ্ধে গেল। আমেরিকা সেইটা পছন্দ করলো না কিংবা যুদ্ধে যাবার অনুমতি দিল না। তখন আমরা বললাম আজাদি আজাদি যুদ্ধে গেলাম। আমেরিকা বলবে আপনাদের আজাদি ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সম্মান জানাই। তবে যেহেতু আমারা নিজেদের ব্যক্তি স্বাধীনতায়ও বিশ্বাসী, আমাদের ডলার ছুঁতে পারবেন না আজকে থেকে। পরদিন বাংলাদেশের সব ব্যবসায়ীরা তেড়ে আসবে আপনার দিকে। তার কিছুদিন পরে বাইকাররা আপনার বিরুদ্ধে দেশের ভিতরেই যুদ্ধ শুরু করে দিবে। তখন কি বিদেশ সামলাবেন? দেশই তো সামলাতে পারবেন না। যদি তেল কিনেও রাখেন, যুদ্ধের মাঝে কীভাবে যন্ত্র-পাতি, গাড়ি, পার্টস ইত্যাদি কিনবেন? জি, নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা থাকতে হবে। এবারে বোঝা গেল কেন ইরান সাহসী? সে কারো তেল গ্যাস কিনে? সে কি বিদেশ থেকে অস্ত্র কিনে? না, বরং গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন পর্যন্ত নিজেরা বানাতে চেষ্টা চালাচ্ছে। তাহলে কেন অন্যদের পাত্তা দিবে? রাস্তার মিছিলে লাফালে আর সমালোচনা করলে আজাদি আসবে না। বিশ্বাস না হলে একটু ভাবেন। সত্যিকার অর্থে আজাদি পেতে মাথা খাটাতে হবে। আপনারা যারা আমার তুলনায় ২০ বছর ছোট এগিয়ে যাচ্ছেন। কারণ এই বিষয়গুলো আপনারা আমার আগে জানেন। আশা করি সামনের বিশ বছর আপনি এই জ্ঞান কাজে লাগাবেন। তাই এখন থেকে স্লোগানে গলা, আর গেমে মন লাগানোর চাইতে বরং উদ্ভাবনে মাথা লাগান। একজন সফল ব্যক্তি হওয়ার জন্য, সফল উদ্ভাবনী ব্যবসা করার জন্য এবং সফল দেশের নাগরিক হবার জন্য। Mohaimin Patwary, CFA

আজকে একদিনে তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ১০% কমেছে। তার কারণ? কারণ ট্রাম্পের পোস্ট। এখানেই অর্থনীতির খেলা। ট্রাম্প জানে সে এই পোস্ট করবে। তার আগে সে আলোচনা করে নিয়েছে। বিশেষ একটি মহল ঠিক এই মুহূর্ত গুলোকে কাজে লাগায়। মনে আছে একদা এলন মাস্ক ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে লড়াই শুরু করে। এর পর টেসলার share সর্বোচ্চ পতন ঘটল। মাস্ক কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না খুব সম্ভবত ইচ্ছা করে এমন কাজ করে share কিনতে লাগলো। আর বর্তমানে দাম বেড়ে সে অতীতের যেই কোন সময়ের তুলনায় ধনী। এখন তার মনে চাইলে সেল করে ক্যাশ করবে। তারপরে বলবে আমি ইরানের সাথে আছি। দেখবেন তার বিরুদ্ধে ট্রাম্প আরেকটা বক্তব্য দিবে এবং বিচারের আওতায় আনার হুমকি দিবে। তখন share পড়বে। আর মাস্ক কিনে শেষ করে অনলাইনে ইজরাইলের পক্ষে একটু ডোনেশন দিবে। ট্রাম্প ধন্যবাদ দিবে মাঝখান দিয়ে বিলিয়ন ডলারের আয় হবে। একইভাবে ট্রাম্প একবার বলে বানিজ্য যুদ্ধ। আরেকবার বলে বানিজ্য চুক্তি। সাথে সাথে share বাজারের উত্থান পতন চলতে থাকে আর কেউ চাইলে এই সুযোগে টাকা বিনিয়োগ করতে থাকে। ৪৮ ঘণ্টা হুমকি দেবার পর তেলের দাম বেড়ে গেছে। বলা তো যায় না যে কেউ আগে তেল কিনে এই হুমকি দিয়েছে কিনা। তারপরে তেল বিক্রি করে বলল আমরা কথা বলছি। সাথে সাথে কম দামে আবার কিনে বলবে কথা বলতে আর আগ্রহী না। তারপরে আবার বিক্রি। কোটি কোটি টাকা প্রতি ঘণ্টায় বানানো যায় এভাবে। মজার না বিষয়টা? Mohaimin Patwary, CFA

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...