Skip to main content

“হালাল সম্পর্ক”

 


আজকাল “দ্বিতীয় বিয়ে”, “তালাক”, “হালাল সম্পর্ক” এই শব্দগুলো এমনভাবে ব্যবহার হয় যেন এগুলোর মধ্যে কোনো পবিত্রতা বা দায়িত্ববোধ নেই।

মনে এলো, করে ফেললাম; মুখে এলো, বলে ফেললাম! আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে আছি যেখানে ধর্মের নামে ভণ্ডামি, সম্পর্কের নামে ব্যবসা, আর ভালোবাসার নামে শোষণ চলছে। অনেকে বলেন দ্বিতীয় বিয়ে তো ইসলামে জায়েজ। ঠিক, কিন্তু যে বিয়ের শিকড় পরকীয়া, প্রতারণা আর কামনা, সেটা কখনোই ইসলামী না, মানবিকও না। বরং ইসলাম বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্ককে যতটা সাপোর্ট করেছে, তার সুযোগ নিয়ে অনেকেই এই পুরো বিয়ে ব্যবস্থাপনাই কঠিন করে ফেলছে। বিয়ে যদি হয়ে যায় ব্যবসা, আর ধর্ম যদি হয়ে যায় ঢাল, তাহলে সমাজের ভেতরকার পচন শুরু হয় সেখান থেকেই। বিয়ের বাজারেও এখন অনৈতিক বৈষম্য। একজন দায়িত্বশীল ছেলেকে খুঁজে পাওয়া অনেক মেয়ের স্বপ্নের মতো ব্যাপার। একজন ভালো মানুষ, যে কথা রাখবে, দায়িত্ব নেবে, সাপোর্ট দিবে, সে এখন বিরল। অন্যদিকে অনেক ছেলেই বড় হচ্ছে কিডাল্ট হয়ে। গেম, স্ক্রল, পর্ন, নেশা — এই সবকিছুর মধ্যে তাদের জীবন আটকে আছে। আর মেয়েদের শেখানো হয় settle for less কোরো না, যার ফলে বাস্তবতার সাথে নিজেদের যুদ্ধটা আরও কঠিন হয়ে যায়। তালাকের পর পুরুষরা সাধারণত আবার নতুন করে শুরু করতে পারে, কিন্তু মেয়েদের জন্য পথটা অনেক বেশি কঠিন। একলা থাকা, সমাজের কথা, বয়সের চাপ, সব মিলিয়ে অনেকে এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যেখানে নিজের মানসিক নিরাপত্তাটাই হারিয়ে যায়। কেউ ভালোবাসার নামে শোষণের ফাঁদে পড়ে, কেউ ধর্মীয় শিকারের হাতে। তবুও সব দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ে খারাপ না। যেখানে ন্যায়, সম্মতি আর দায়িত্ববোধ আছে, সেখানে সম্পর্ক টিকে যায়। যেখানে স্বামী ন্যায্যতা রক্ষা করে, স্ত্রী নিজের সীমা আর প্রয়োজন বোঝে, সেখানে সম্পর্ক টিকে থাকে, এমনকি সমাজ না বুঝলেও। আমাদের যা করা দরকার তা হলো নিজেকে প্রস্তুত করা। নিজের মানসিক পরিপক্বতা নিয়ে ভাবা। বিয়ে বা সম্পর্ককে escape route না ভেবে দায়িত্বের জায়গা হিসেবে দেখা। আর যদি সম্পর্ক ভেঙেও যায় তাহলে তাড়াহুড়া না করে নিজেকে হিল করা, সময় নেওয়া, প্রয়োজনে এক্সপার্ট কাউন্সেলিং নেওয়া জরুরি, কারণ সেই সময়ে সেই ইনভেস্টমেন্টটাই নিজের জন্য সবচেয়ে দরকারি। আমাদের সমাজে ধর্ম, নীতি আর ভালোবাসা এখন মিশে গেছে ভণ্ডামির সাথে। তবুও সম্পর্ক এখনো একটা আশ্রয় হতে পারে যদি আমরা সেটাকে আবার মানবিকতা, ন্যায় আর দায়িত্বের জায়গা থেকে দেখি। বিয়েকে শুধু জাঁকজমক আয়োজনের মোড়কে ফেলে পারস্পরিক দায়িত্ব আর সততা ভুলে না যাই।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...