Skip to main content

বালতি ভর্তি করে ক্যাশ

 


নির্যাতিতদের পাশে যদি কেউ প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত থেকে থাকে সে হচ্ছে হুতি।

তাদের জীবন শান্তি পূর্ণ ছিল। হয়তো থাকতো। কিন্তু তারা নিজে যেচে পড়ে এই সংঘর্ষে পা দিয়েছে। এই পর্যন্ত যা যা করেছে তার মধ্যে আছে নৌ - অবরোধ যা বিশ্ব ব্যাপী সকল শিপিং এর খরচ বৃদ্ধি করে দিয়েছে। বলা চলে কেবল এই একটি মিলিশিয়ার কারণে আজ বাণিজ্য হচ্ছে ব্রিটিশ আমলের প্রথম যুগের মত করে - আফ্রিকা ঘুরে। আর একই কারণে অত্যচারী মিশর সরকার হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তাতে অবশ্য শত্রু টোলে নি। শত্রুর দুইটি বিষয়ে প্রশংসা না করে পারা যায় না । এক, প্রযুক্তিগত দক্ষতা । দুই, সারা বিশ্বের প্রতিরোধের মুখে নিজের অর্থনীতি ও জান মালের ক্ষতি স্বীকার করে লক্ষ্যে অবিচল থাকা। অসম্ভব লক্ষ্যে অবিচল সে। যত ক্ষতি হওয়ার হোক। এক পা সরবে না। হুতিরা বুঝে গেল বিষয়টি তাই শুরু করলো মিসাইল মারা। একের পড় এক। তাদের তৈরি মিসাইলের দাম এক একটি প্রায় ১.২ কোটি টাকা। দরিদ্র দেশের জন্য এতটুকু টাকাই অনেক। সমগ্র আরবের সর্ব দরিদ্র তারা। কিন্তু মনটা বিশাল। তাই নিজের যা আছে তা দিয়ে এগুলো তৈরি করে আল্লাহর নামে ছাড়তে থাকলো। দিনে দিনে প্রযুক্তি উন্নত হতে থাকলো এবং এক পর্যায়ে জায়গা মত ল্যান্ডিং পর্যন্ত করলো। সমস্তটা নিজেদের প্রযুক্তি। শত্রু তাতেও মাথা নত করার লোক না। কিন্তু সমস্যা বেঁধে গেল অন্য জায়গায়। যেই মিসাইলের দাম এক লাখ ডলার সেইট ঠেকাতে কম পক্ষে দশ গুণ খরচ লেগে যাচ্ছে। অর্থাৎ, একে দশ। জি আমাদের এক তার দশের সমান। সে বুঝে গেল এভাবে কাজে দিবে না। তাই সে তার বিমান বাহিনী পাঠালো তাদের বিরুদ্ধে। শুরু হলো নির্বিচার হ*। আর বড় ভাই তো প্রথম থেকেই ওস্তাদের সাথে দাস্যা মত ছিল। এবারে যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে নেমে পড়লো। তার প্রভুকে রক্ষা করা চাই। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ লড়াই করতে থাকলো আরব বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বলদের বিরুদ্ধে। বাকি আরব ভাইয়েরা পায়ের উপর পা তুলে সোফায় গা এলিয়ে বিঁড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে দেখতে থাকলো। আর বসে পা বরাবর জিহ্বা ঝুলিয়ে রাখলো। বলা যায় সারা বিশ্ব এক দরিদ্রের বিরুদ্ধে। তার জন্য কোথায় কেউ নেই। লড়াইটা নিজের স্বার্থের জন্যও। কেবল মাত্র অন্যের প্রতি হয়ে যাওয়া অন্যায় ও অবিচার বন্ধের জন্য বীরের মত ত্যাগ করে যাওয়া। বিন্দুমাত্র পরোয়া নেই। কোন অনুশোচনা নেই। তাদের ঘর বাড়িতে আসমান থেকে সভ্যতার বীজ বুম বুম করে পড়তে থাকলো। শেষ হতে থাকলো সুখের সংসার ও জীবন। কিন্তু তারপরেও এখন পর্যন্ত এক পা পিছে হটে নাই। এবং বর্তমানে সভ্য দুনিয়ার জন্য সে অন্যতম বড় খরচের স্থান। সব মিলিয়ে বলা যায় এই স্থানে পশ্চিমাদের সম্মিলিত শক্তি এখন পর্যন্ত ব্যার্থ এবং অনেক বেশী খরচ হচ্ছে বাণিজ্যে ও সামরিকভাবে। সেজন্য বাকি আরব গাইদের দুধের বাঁট ধরে মাঝে মাঝে চাপ মারে আর বালতি ভর্তি করে ক্যাশ করে মনের জ্বালা মেটায় আর ভাবে, "আমার এত অর্থ, প্রযুক্তি আর বন্ধু মিলে এই একটা পিঁপড়ার সাথে পারলাম না। তার লড়াই হচ্ছে হিরোর। সে বিশ্বে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার লড়াই করছে। আর আমার লড়াই অন্যায়ের জন্য। সবদিক থেকে আমি পরাজিত।" হতাশা চরমে উঠলে আবার গরুকে ডাকা হয় এবং আরেক বালতি দোহন করা হয় কিন্তু মনের জ্বালা মেটে না।
মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...