Skip to main content

খাজনার বাজারের প্রধান চৌকিদার

 ১৯৫০ সালের দিকে দুনিয়ার মোটর যান উৎপাদনের ৮০% হতো আমেরিকাতে।

সেই সময় চীন কোরিয়াতে মানুষ সাইকেল চালিয়ে কর্মক্ষেত্রে যেতো আর মালয়শিয়া, ভারত ছিল একেবারে পিছিয়ে। কিন্তু দিনে দিনে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। আমেরিকা প্রথম ধাক্কা খায় জাপানের থেকে। ১৯৭০ এর দিকে যখন তেলের দাম বেড়ে যায়, তখন আমেরিকা লক্ষ্য করলো তারা আগে যেরকম বড় বড় গাড়ি বানাতো তাতে পোষাচ্ছে না। জাপানের গাড়ি সেই তুলনায় অনেক দক্ষ। এর পরবর্তীত ইতিহাস আরও করুণ। আমেরিকা ছোট গাড়ি বানাতে গিয়ে দেখলো জাপানের সাথে দামে মানে মেলানো যাচ্ছে না। সেই থেকে সারা দুনিয়া জুড়ে জাপানের গাড়ির বিস্তার ঘটতে থাকে খোদ আমেরিকাতেও। টয়োটা, নিসান, মিটসুবিটসি, হোন্ডা হয়ে যায় বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত ব্র্যান্ড। এর পরবর্তীতে কোরিয়ার উত্থান বিশ্ব বাজারে নতুন নতুন নামের সাথে আমাদের পরিচিত করে। কিয়া, হুন্ডাই, জেনেসিস এর গাড়ি বাজারে আস্তে থাকে। এভাবে লো এবং মিড রেঞ্জ থেকে আমেরিকান গাড়ি হারিয়ে যায়। কিন্তু আরামদায়ক গাড়ি? এখানেও আমেরিকার অবস্থা মৃয়মান। লেক্সাস এখন সবচেয়ে রিলায়েবল ব্র্যান্ড (জাপান)। মার্সিডিস (জার্মানি) ও বিএমডাব্লিউ (জার্মানি) বিশ্ব জোড়া প্রাথমিক লাক্সারির জন্য বিখ্যাত। অতি দামি গাড়ির জগতে আছে ফেরারি (ইতালি), ল্যাম্বুরগিনি(ইতালি) , রোলস রয়েস (ইংল্যান্ড) ইত্যাদি। আবার কম দামের মধ্যে বেশ বিখ্যাত ভক্সওয়াগন (জার্মানি)। এক কথায় আমেরিকা ইঞ্জিন গাড়িতে পিছিয়ে গেছে। বর্তামানে বিশ্বের এক নাম্বার বিক্রেতা হচ্ছে টয়োটা, তারপরে জার্মানির ভক্সওয়াগন, তারপরে কোরিয়ার হুন্ডাই। সব মিলিয়ে প্রথম দশটি কোম্পানির মধ্যে মাত্র দুইটি আমেরিকান এবং চারটি জাপানিজ। বিশ্বব্যাপী মোট গাড়ি উৎপাদনের ১০% আমেরিকা করে। যা ৭০ বছর আগে ছিল ৮০%। এর কারণ কী? কারণ এশিয়ার যেই সাপ্লাই চেইন, কাজের দক্ষতা এবং দ্রুত মার্কেটের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারার সক্ষমতা তা আমেরিকা পারে নাই। বর্তমানে মার্কিন গাড়ির ৪০% পার্টস মাত্র নিজেদের উৎপাদিত বাকই সব আমদানি। সেই তুলনায় এশিয়াতে মার্কেট ইন্টেগ্রেটেট। ফলে তারা খুব দ্রুত সিধান্ত নিয়ে কম খরচে উৎপাদন করে ফেলতে পারে। এখানে লেবার কষ্ট মূল ইস্যু না। মূল ইস্যু দক্ষতা, সাপ্লাই চেইন ও ব্যবসার পরিধিতে। তো যাই হোক, বর্তমানে গাড়ির জগতে দুইটি বড় পরিবর্তন আসছে একটা হচ্ছে ইভি আরেকটি হচ্ছে ড্রাইভারবিহীন গাড়ি। এই দুই ক্ষেত্রে সে আগাবে আশা করেছিল আমেরিকা। সেই অনুযায়ী গবেষণা চালাচ্ছিল। টেসলা হয়ে উঠছিল এই শতাব্দীর ফোর্ড কার। কিন্তু বিধি বাম। এবারেও প্রথম পাঁচটি ইভি গাড়ি কোম্পানির মধ্যে তিনটি চীনের। তার কারণ? কারণ তারা ব্যাটারি, মোটর ইত্যাদি উৎপাদনে আগের থেকেই শীর্ষে। তাই খুব দ্রুত এই শিল্পে মুকুট অর্জন করে ফেলেছে। এমনকি বিশ্বসেরা ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা BYD একটি ব্যাটারি কোম্পানি ছিল আগে। আর টেসলা নিজেও চীন থেকে ব্যাটারি কিনে। সব মিলিয়ে আমেরিকা বুঝেছে যে ফেয়ার মার্কেট পলিসিতে সে পারবে না। তাই এত বছর ধরে মুক্ত বাজারের গান গাওয়া দেশটি এখন নিজেই খাজনার বাজারের প্রধান চৌকিদার হয়ে গেছে। m patwary

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...