Skip to main content

প্রযুক্তি খাতকে বেসরকারি পর্যায়ে নিয়ে আসা

 


চীন এমন কিছু পেরেছে যা গেম চেঞ্জিং - প্রযুক্তি খাতকে বেসরকারি পর্যায়ে নিয়ে আসা। ব্যাখ্যা করা যাক বিষয়টি কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়নশীল দেশের সাথে উন্নত দেশের পার্থক্য হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়ন হয় সরকারি। এই যেমন ভারতের কথা চিন্তা করেন। তারা কোন কিছু নতুন করে আবিষ্কার করতে পারে না। বরং বিদেশের জিনিস নিজেরা বানানোর চেষ্টা করে আর তারপরেও যত বড় বড় প্রযুক্তি অর্জন আছে তার সব মূলত সরকারি। একটি দেশের নাগরিক এবং কর্পোরেশনের মূল ধারা উদ্ভাবনে নিয়োজিত করতে পারছে না। কেবল ভারত না। বিশ্বের ১০০ টি উন্নয়নশীল দেশের ১০০ টি তেই এই সমস্যা। এমনকি রাশিয়াতেও। এইটা একটা ক্রিটিকাল ব্লক যা অনেকে অতিক্রম করতে পারে নাই। সেই জায়গা চীন অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এন্ড্রয়েডের বিকল্প, মাইক্রোসফটের বিকল্প তৈরি করেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান - হুয়া ওয়েই। উন্নত চিপ ডিজাইন করছে শাওমি। Ev তে বিশ্বসেরা কোম্পানি byd প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। ড্রোনে বিশ্বের সেরা কোম্পানি প্রাইভেট। এআই তে আমেরিকার বিকল্প বলতে আছে ডিপসিক তাও বেসরকারি। আছে বিশ্ব সেরা ব্যাটারি নির্মাটা CATL যেই সকল খাতে এখনও বেসরকারি উদ্যোগ আসে নাই সেখানেও শত শত উদ্যোক্তা কাজ করছে। অনেকে টাকা ঢালছে। এক কথায় সরকারের আর কিছু করা লাগছে না। ইঞ্জিন নিজেই চলতে শুরু করেছে। বাহিরের রাষ্ট্র যদি আক্রমণ করে কেউ কেনার দিকে কিংবা বিদেশের দিকে তাকাবে না। নিজেরা নিজেদের যা যা প্রয়োজন তা বানানো শুরু করে দিবে এবং সেই ইন্ডাস্ট্রি দেশে তৈরি হয়ে গেছে। এইটা এক অনন্য অর্জন যা আমেরিকা এবং পশ্চিমের সর্বোন্নত দেশগুলোর ছিল। এই অর্জনের পরে চীন তাদের সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে। এখন আপনি এই জাতিকে স্যাংশন মারেন কিংবা সরকার নিজে ফালতু হয় খুব বেশি সমস্যা হবে না। জনগন নিজেরাই এক্টিভ হয়ে গেছে। বর্তমানে মিসাইল, সামরিক প্রযুক্তি ইত্যাদিও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলোকে দিয়ে নির্মাণ করছে। সরকার কোনদিন উদ্ভাবনে ও দক্ষতায় প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সমান হতে পারে না। এই জন্যই এই খাত যে কার্যকর করতে পারে সেই এগিয়ে থাকে। তার পাশাপশি সরকারের উপর নির্ভর করলে তার খেয়াল খুশির উপর আমরা নির্ভরশীল হয়ে যাই। জাতি হিসেবে জনগন হিসেবে আমরা স্বাধীন ও শক্তিশালী হতে পারি না। এই জিনিসটা ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে। জি, ইসলাম বলেছে সরকারের উপর নির্ভর না করে ব্যাক্তি উদ্যোগে সমাধান করতে। সেজন্যই কর ভ্যাট ইসলামের দৃষ্টিতে জুলুম। ইসলাম নিয়ে যত জানছি ততই দেখছি এইটা আধুনিক। এগুলো আবেগী কথা না। মজার ব্যাপার কি জানেন? চীনে যেই সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল সেগুলোকেও প্রাইভেটাইজেশন করা হচ্ছে এবং এই বছর নীতিমালা এসেছে যে সামনে প্রাইভেট সেক্টরকে আরো বড় এবং শক্তিশালী করা হবে। অর্থাৎ সরকার নিজেকে ব্যবসা থেকে গুটিয়ে আনছে। আমেরিকা কর মওকুফ নীতি আনছে। এগুলোই তো ইসলাম। এই বুঝ যদি মাও সেতুং এর থাকতো আজকে চীন ২০ বছর এগিয়ে যেতো। তবে সমস্যা কি জানেন? আমাদেরকে বুঝটা শিখিয়ে দেওয়া আছে কিন্তু আমাদের ভালো লাগে না। মসজিদে আলোচনা করা হয় না। সরকার তো পাত্তাও দেয় না। আমরা কেবল অতীত সিস্টেমের অন্ধ অনুকরণ করে বড় হবার স্বপ্ন দেখি কিন্তু বাস্তবে দিন শেষে যেখানে ছিলাম সেখানেই থেকে যাই। Mohaimin Patwary

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...