Skip to main content

সহমর্মিতা লুকিয়ে রাখবেন না

 


অতীত আমাদের হয়ত অনেক কিছু শেখায়, কিন্তু কিছু স্মৃতি এমন হয় যেগুলো ভুলে থাকতে না পারলে আমাদের জীবন চলার পথটা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

জীবনে এমন অনেক অভিজ্ঞতা থাকে, যেগুলো ভুলে থাকা সহজ নয়। বারবার মনে পড়া কষ্টের স্মৃতি, সম্পর্কের ব্যর্থতা, প্রিয়জন হারানো, প্রিয়জনের বিশ্বাসভঙ্গ, জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত কিংবা বড় কোনো ভুল—এসব স্মৃতি আমাদের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণা সৃষ্টি করে। কিন্তু বারবার সেই অতীতকে মনে করে চলা আমাদের বর্তমানকে বিষাক্ত করে তোলে এবং ভবিষ্যতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক মানসিক প্রস্তুতি, নিজের প্রতি সহানুভূতি, ও ফোকাস বদলানোর সাহস। মস্তিষ্কে জমে থাকা কষ্টদায়ক স্মৃতিগুলোকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে রাখতে হলে জানতে হবে কীভাবে নিজের চিন্তার দিকটা পরিবর্তন করা যায়, কীভাবে আত্মউন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া যায়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও অতীত ভুলে গিয়ে নতুন করে শুরু করার প্রতি রয়েছে অনুপ্রেরণা। ক্ষমা, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাসের চর্চা একজন মানুষকে নতুন জীবনের পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। অতীতের ভার ফেলে দিয়ে যদি আপনি নতুনভাবে বাঁচতে চান, তাহলে এখনই সঠিক সময় নিজেকে পুনরুদ্ধার করার। অতীতকে পেছনে রেখে নতুনভাবে জীবন শুরু করুন। মনে সাহস রাখুন, নিজের সাথে যুদ্ধ করে শান্তি খুঁজে পাওয়ার এই যাত্রায় আপনি একা নন।

সহমর্মিতা কি দুর্বলতা? অনেকেই মনে করেন, সহমর্মিতা বা অন্যের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীলতা যেন একধরনের দুর্বলতা। ভাবেন, যারা বেশি অনুভূতিপ্রবণ বা অন্যের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করতে পারেন, তারা হয়ত খুব নরম মনের মানুষ — সহজেই ভেঙে পড়েন, বাস্তবতা সামলাতে পারেন না। কিন্তু আদৌ কি তাই? সহমর্মিতা হলো এক গভীর মানসিক শক্তি, যা আমাদেরকে মানবিক করে তোলে। এটি শুধু কারো জন্য দুঃখবোধ করা নয় — বরং বুঝতে পারা, অনুভব করতে পারা এবং প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা রাখা। একজন সহমর্মী ব্যক্তি যখন অন্যের যন্ত্রণায় সাড়া দেন, তখন তারা কেবল সহানুভূতিশীলই নন, বরং আত্মসচেতন, সংবেদনশীল এবং মানসিকভাবে সাহসী। কারণ, সহমর্মিতা দেখাতে হলে নিজের কমফোর্ট জোন ছেড়ে অন্যের কষ্টে সাড়া দিতে হয়। আজকের দ্রুতগতির প্রতিযোগিতামূলক দুনিয়ায় সহমর্মিতা অনেক সময় ভুলভাবে ‘সফটনেস’ বা ‘নেতিবাচক আবেগ’ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সহমর্মিতা অফিস, পরিবার, এমনকি সমাজেও সুসম্পর্ক গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি নেতৃত্ব, পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমস্যা সমাধানে সহায়ক। তাই সহমর্মিতা কখনোই দুর্বলতা নয় — বরং এটি একজন মানুষের ভেতরের সবচেয়ে বড় শক্তির প্রকাশ। যারা সত্যিকারের সহমর্মী, তারা জানেন কখন অনুভব করতে হয়, কখন শক্ত থাকতে হয়, আর কখন এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়াতে হয়। আপনি কি সহমর্মিতা দেখাতে ভয় পান? ভাবেন লোকে আপনাকে দুর্বল ভাববে? সহমর্মিতা লুকিয়ে রাখবেন না — বরং গর্বের সঙ্গে জড়িয়ে নিন, কারণ এটাই আপনাকে একজন পূর্ণ মানুষ করে তোলে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...