Skip to main content

আইটি খাতে মূল সমস্যা

 


আমি আইটি এক্সপোর্ট সেক্টরের সাথে বছর খানেক ধরে জড়িত আছি। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বেশীর ভাগ কোম্পানির অবস্থা বিদেশে কর্মী পাঠানোর আদম ব্যাপারীর মতন। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক পাঠানোর জন্য যেমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, ঠিক তেমনি, বিদেশের একটি কোম্পানির কোন কাজের জন্য লোক দরকার পড়লে সে আমাদের আইটি সেক্টরের কোম্পানিগুলোকে বলে আমার ডট নেটে দুইজন লোক লাগবে, জাভাতে একজন লোক লাগবে ইত্যাদি। সেই অনুযায়ী কোম্পানিগুলো হন্যে হয়ে লোক জোগাড় করে সাপ্লাই দেয়। আমাদের নিজস্ব কোন ব্যবসাই নাই। ধরুন কনকর্ড একটি বাড়ি নির্মাণ করবে, সে কিছু কর্মী নিবে। আপনি তার কর্মী সাপ্লাই দিলেন আর বললেন আপনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করেন। এই হচ্ছে আমাদের আইটি খাতের ব্যবসা।

যারা নিজেরা সফটওয়ার বানিয়ে বিক্রি করছে তাদের সবাই যা করে তা হচ্ছে বিদেশী একটি ওপেন সোর্স কোডকে মডিফাই। এভাবে আমরা কোনদিন পশ্চিমা রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতা থেকে বের হতে পারবো না। আর যারা ফ্রি ল্যান্সার তাদের অবস্থা আরও নাজুক। অনেকটা ধরুন রাস্তার পাশে কোদাল আর টুকরি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে দিন মজুরের কাজে বিক্রি হবার জন্য, অনেকটা তেমনি নাজুক অবস্থা। আপনারা রাগ করতে পারেন এই জন্য যে কথা গুলো খুব ডিরেক্ট এবং একপেশে হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মোটা দাগে কি আপনি অস্বীকার করতে পারবেন? কিছু ব্যতিক্রম আছে, কিছু শিল্প ও দক্ষতা আছে তা অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমাদের দেশের আইটি পণ্য আসলে বিদেশে বিক্রয় যোগ্য না। এক্সপোর্ট বলতে যা বুঝাই সেইটা হচ্ছে তাদের কোম্পানির কাজ করা আর সফটওয়ার বানানো বলতে যা বুঝাই তা হচ্ছে বিদেশের জিনিসপত্রের মডিফিকেশন। একটি দেশ এভাবে কোনদিন লিডার তো দূরে থাক, নতুন কিছু করার ক্যাপাসিটি তৈরি করতে পারে না। সমাধান কী? আইটি খাতে মূল সমস্যা হচ্ছে ডাম্পিং। এখানে বড় বড় কোম্পানি গুলো প্রচুর টাকা খরচ করে বিশ্ব সেরা পণ্য বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে। এর ফলে প্রতিযোগীরা দাঁড়াতে পারে না। সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতা ধ্বংস করে তারা দাম বাড়িয়ে মুনাফা হাসিল করে নেয়। সেই টাকা না থাকা আমাদের একটা সমস্যা। তার থেকে বড় ব্যাপার হচ্ছে আইনত ডাম্পিং অবৈধ। কারণ এখানে কৃত্তিম বাজার মূল্য রেখে প্রতযোগিতা ধ্বংস করা হয়। সেজন্য সচেতন দেশ (যেমন - চীন) ডাম্পিং আইনে গুগল সহ বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠান অনেক আগের থেকেই নিষিদ্ধ করে রেখেছে। এই চর্চা যদি অন্য কোন দেশ (যেমন বাংলাদেশ) করে তাহলে সাময়িক ভাবে আমাদের খুব নিম্ন মানের সফটওয়ার থাকবে কিন্তু ধীরে ধীরে ক্যাপাসিটি তৈরি হবে। ২০০০ সালের দিকে চীনের জাহাজ এতই নিম্ন মানের ছিলো যে মানুষ হাসতো, একসময় চাইনিজ ফোন ছিলো নাক সিটকানোর পাত্র। কিন্তু দিন বদলে গেছে না? প্রথমে একটু খারাপ থাকা সমস্যা না। অনেকে না জেনে বিরক্ত হতে পারে এই প্রস্তাবে যে উচ্চ মানের বিদেশী সফটওয়্যার বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে যেহেতু এখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডাম্পিং চলছে এইটা ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। ওপেন সোর্সে যেই ধরণের উন্নতমানের কোড পাওয়া যায় তার ফলে কষ্ট করে আর কেউ নিজে সেইটা লিখতে যায় না বলে সবার মানসিকতা থাকে ওদের দেশের জিনিস প্লাগ এবং প্লে করা। এভাবে সমস্যা হয় যে আমরা নিজস্ব ক্যাপাসিটিতে পিছিয়ে থাকি এবং অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। এই সমস্যা থেকে বের হতে না পারলে আসলেই আমাদের জন্য পরনির্ভরশীলতা কাটানো কঠিন হয়ে যাবে।m. patwary

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...