কেউ বেশি দিন কারো ‘প্রিয়’ থাকে না।. এই দুনিয়াতে বেশি দিন কেউ কারো ‘প্রিয়’ থাকেনা। কেউ না। শতভাগ উজাড় করে ভালবেসেও কারও হৃদয়ের সবটুকু জায়গা দখল করা সম্ভব হয় না। উল্টো অশান্তি আর ডিপ্রেশন আপনাকে আঘাত করবে। আপনার জীবনের প্রশান্তি নষ্ট করবে আপনারই প্রিয় মুখগুলো, যাদেরকে খুশি করতে আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। . শায়খ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহর ভাষায়, ‘‘দুনিয়াতে কেউ কারও ষোলো আনা আপন হয় না। যে স্ত্রীকে আপনি আপন ভাবছেন, সে দুই ঘণ্টা কথা শুনে, তো চার ঘণ্টা ঝগড়া করবে। যে সন্তানকে আপন ভাবছেন, সে এখন আপনার অনুগত হলেও একটু পরই অবাধ্য হয়ে যাবে। যে মাকে আপনি সবচেয়ে বেশি আপন ভাবছেন, তিনিও আপনার আরেক ভাইয়ের কানকথা শুনে (প্রভাবিত হয়ে) আপনার পর হয়ে যাবে। সুতরাং দুনিয়াতে কেউ কারও ষোলো আনা আপন হয় না। কেউ না। আমাদের এই জীবনটা স্রেফ মানুষকে খুশি রাখার একটা সংগ্রাম মাত্র। আমরা ছোটোবেলায় মা-বাবাকে খুশি করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ষোলো আনা পারিনি। বন্ধু-বান্ধবকে খুশি করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ষোলো আনা পারিনি। বিয়ের পর স্ত্রীকে খুশি করার চেষ্টা করেছি, তাও ষোলো আনা পারিনি! কর্মক্ষেত্রে, ব্যক্তিজীবনে, সবজায়গায় আমরা বেশিরভাগ (মানুষ) বারো আনাই ব্যর্থ, যদিও চার আনা সফল হই। তবে, একজনই আছেন, যাকে আপন করলে তিনি কখনো পর হন না; কখনো ছেড়ে যান না। যিনি ষোলো আনাই আপন হন, তিনি হলেন আমাদের রব, মহান আল্লাহ।’’ . ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-র ভাষায়, ‘‘আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ো না। মনে রেখো, অন্ধকারে তোমার ছায়াও তোমাকে ছেড়ে চলে যায়।’’ . [সংগৃহীত ও পরিমার্জিত]

Comments
Post a Comment