Skip to main content

মতিউর রহমানের মেয়ে

 


মতিউর রহমানের মেয়ের ব্যবহার দেখে আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, কেউ কোটি টাকা দিয়েও মেয়ের ভালবাসা পায় না, আবার কেউ কেবল মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে বলে "তোর জন্য দোয়া রইলো" এর বিনিময়েই জীবন ভর সেবা পায়।

টাকা দিয়ে আসলে ভালবাসা কেনা যায় না। সেজন্য পরিবারকে খুশি করতে হারাম উপায়ে টাকা কামাই করে লাভ নেই। বরং এক্ষেত্রে বিপদের দিনে না পরিবারকে সাথে পাবেন। না আল্লাহকে। একটি বার চিন্তা করুন যেই মানুষদেরকে খুশি করতে মতিউর এত অন্যায় করেছে তারাই আজ তার শত্রু। তার চেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে আল্লাহর জাহান্নাম তার জন্য অপেক্ষা করছে (যদি না আল্লাহ ক্ষমা করেন), কী পেল এই লোকটা জীবনে?

তার চেয়ে বরং অল্প টাকায় সৎ ভাবে চলে যদি কিছু সুসন্তান রেখে যেতো কতোই না সুন্দর জীবন হতো। কত নিশ্চিন্তে মরতে পারতো। কত মানুষ তার জন্য দোয়া করতো!

=========================================================

ছোট থেকেই আমাদের বাসার কেউ খেলা দেখতো না। সত্যি কথা বলতে ঘরে টিভিই ছিল না। তাই বলে কি আমরা ব্যার্থ হয়ে গেছি?

না, বরং তিন ভাই বোন অনেক শিক্ষিত হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। আমার বড় বোন বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স থেকে গ্রাজুয়েট করে ২০১২ সালে আমেরিকা পাড়ি জমান। সেখানে জগদ্বিখ্যাত কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিকেল সাইন্সের উপর মাস্টার্স করে একটি বহুজাতিক ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। আমার ভাই বর্তমানে সরকারী মেডিকেলে অধ্যয়নরত আছে। আর আমি এই নিয়ে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (IBA, NHH, Mannheim) পড়াশুনার পাশপাশি একটি প্রফেশনাল ডিগ্রী (CFA) পাশ করেছি। একবার ভাবুন তো - খেলা না দেখে কি ক্ষতি হয়েছে আমাদের পরিবারে? এই কথা সত্য যে এর ফলে স্কুল কলেজে অনেক আড্ডায় মিশতে পারতাম না। কিন্তু তাতে বরং লাভ হয়েছে। কারণ এর ফলে তাদের সাথেই মেশার সুযোগ হয়েছে যারা ভালো কাজে ব্যস্ত। তার চেয়ে বেশী যেই উপকার হয়েছে তা হলো আমি মানুষের সাথে সেই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম যা সব মানুষের জীবনের সাথে প্রাসঙ্গিক। এর ফলে বিভিন্ন দেশের ও এলাকার মানুষের সাথে মিশতে ও তাদের বুঝতে সহজ হয়েছে। সেজন্য নিজের সন্তানের জন্যও আমি চাই সে খেলা না দেখুক। আপনিও এই পথ ধরেন। দেখবেন, জীবন আরও সুন্দর বৈ অন্য কিছু হবে না ইনশাআল্লাহ। BY Mr patwary

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...