Skip to main content

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে

 


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে কিছু অন্ধ লিগার এর সাথে বেশ তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে গেছিলাম৷

বগুড়ায়, একটা পাঠচক্রে গিয়েছিলাম৷ সেখানে ২০/২৫ জন ছিলেন, বিভিন্ন পেশার মানুষ। সবাই সন্মানিত আরেকজন এর অপেক্ষায় ছিলেন। দিনটি ছিল ২০২০ এর ২০ শে ফেব্রুয়ারী। তিনি এসে আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করলেন, ২১ শে ফেব্রুয়ারী নিয়ে। এবং প্রশ্ন রাখলেন, উপস্থিত সবাই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিয়ে কি ভাবেন? প্রায় সবাই, ঘৃণা নিয়ে বললেন, তাকে তারা ঘৃণা করেন। আমি অবাক হয়ে সবার দিকে তাকাচ্ছিলাম৷ উনাদের এই পাঠচক্রে আমি সেদিনই প্রথম গিয়েছি, সবাইকে চিনিও না ঠিকমত। সভাপতি, সন্মানিত ব্যাক্তি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন - আপনার সম্ভবত ভিন্ন বক্তব্য আছে, আপনি বলুন। আমি বললাম - আমি জিন্নাহকে সন্মান করি, উনাকে শ্রদ্ধা করি৷ উপস্থিত, শাহ সুলতান কলেজ এর একজন প্রফেসর মারমুখী ভংগী করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন - আপনি কিভাবে জিন্নাহর মত লোককে শ্রদ্ধা করেন! উত্তর দিলাম - কারন উনার কারনেই আমি নি:সংকোচে দাড়ী রাখতে পেরেছি। উনি বল্লেন- আপনি জানেন আমি কে? আপনার পড়াশোনা কি? আপনি কি করেন? আমি - আমি কেউই না, আপনি কে এটা জানাটাও আমার জন্য জরুরি না। তাতে ইতিহাস বদলাবে না। সভাপতি সবাইকে থামালেন পরিস্থিতি আরো খারাপ হবার আগেই, আমাকে যুক্তি দিয়ে বিষয়টি বলতে বললেন। আমি উপস্থিত সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম, আমরা কিসের ভিত্তিতে জিন্নাহকে বিচার করি? কার্জন হলে ১৯৪৮ সালে উনার দেয়া ভাষণে উনি যা বলেছিলেন সেটা আমরা পড়েছি, উনি বলেছেন - উর্দু, একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তান এর রাস্ট্রভাষা। সবাই শেইম শেইম করে চিৎকার করে উঠেছিল। আমরা এটাই পড়েছি, বা জানি। কিন্তু আমরা কি সেই বক্তব্যটি কি পুরোটা পড়েছি৷ নিজের কানে শুনেছি কি? ইউটিউব এ সেদিনের ভাষণ আছে, একবার সবাই শুনে দেখি৷ ইউটিউব এর ভাষণ চালু করলাম। Jinnah further declared that "Urdu, and only Urdu" embodied the spirit of Muslim nations and would remain as the state language. এরপর শেইম শেইম নাই, হাত তালির আওয়াজ। আমাদের ভুল ইতিহাস জানানো হয়েছে। এরপর আলোচনা আরো গভীরে গেল। //.\\ পাকিস্তান এ সেসময় ৫ টি প্রদেশ ছিল। সিন্ধু, পাঞ্জাব খাইবার পাখতুনওয়া বেলুচিস্তান আর বাংলা। সিন্ধিরা বেলুচ ভাষা জানেনা, বেলুচিরা বাংলা বোঝে না, বাংগালীরা পাঞ্জাবী বোঝে না, পাঞ্জাবিরা সিন্ধি বোঝে না.... কিন্তু সেসময়ের পাকিস্তান এর সকল মধ্যবিত্ত উর্দু জানত। জিন্নাহর প্রস্তাবনা ছিল - এক প্রদেশ আরেক প্রদেশ এর সাথে উর্দুতে যোগাযোগ করবে, নিজেরা নিজেদের ভাষাতেই কথা বলবে, শিখবে৷ যেন আন্ত:প্রদেশ যোগাযোগ সহজ হয়। কিন্তু এটাকে আংশিক কোট করে, লীগের চিরাচরিত স্বভাবমত আংশিক তথ্য প্রচার করে, অন্য অর্থ করে ফেলার কার্ডই খেলল৷ আমার ভাই এর রক্তে রাংগানো গান লেখা হল। আবেগে সব ভেসে গেল। অইদিক এ জিন্নাহকে আমরা ৫২ তে গুলি চালানর জন্যও পারলে দায়ী করি। পাকিস্তানকে ভারত থেকে আলাদা করে পুর্ব বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত না করলে আজকে আমরা গরু জবাই দিতে পারা, দাড়ী রাখা সম্ভব হত? আচ্ছা, যাউজ্ঞা - ৫২ সালে সালাম রফিক জব্বারের উপর গুলি চালানর অর্ডার জানি কে দিয়েছিল ভাইলোগ? প্রশ্নটার উত্তর দিয়েন পারলে কমেন্ট এ, - মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...