Skip to main content

বিয়ের ৫-৬ বছর পর

 


একটা মেয়েকে যখন বিয়ের আগে ছিপছিপে দেহ আর মসৃণ ও উজ্জ্বল ত্বক দেখে বিয়ে করেছিলেন; তখন তাকে ঘীরে কতশত স্বপ্ন আপনার। তাকে দেখে মনে হয়েছিলো এই মেয়ে তো রাজকন্যা। সেই রাজকন্যাকে পেলে আপনি যেনো গোটা রাজত্বই যেন জয় করে নেবেন।

অথচ বিয়ের ৫-৬ বছর পর, আপনি আপনার স্ত্রীর দিকে তাকালেন। কি দেখতে পাবেন? ছিমছিমে দেহের জায়গায় চর্বিযুক্ত একটা আনফিট দেহ, মসৃণ উজ্জ্বল ত্বকের জায়গায় খসখসে আর বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়া একটা মুখ, চঞ্চলতায় প্রাণবন্ত মানুষটার জায়গায় চিন্তাগ্রস্থ আর ব্যতিব্যস্ত এক নারী। অধিকাংশ পুরুষের তখন আর নিজের স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ কাজ করে না। তাকে তখন আর রাজকন্যা বা রাণী বলে মনে হয় না, তখন তাকে কথায় কথায় "দুই বাচ্চার মা" বলে সম্মোধন করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই যে পরিবর্তন, একটি পুরুষের মনে বিরূপ প্রভাব পড়া এটার কারণ কখনো ব্যাখ্যা করা হয়েছে? কখনো পুরুষ এই কারণটা খুঁজে দেখেছে? কিংবা অনুসন্ধান করেছে এই পরিবর্তনের পেছনে দায়ী কে বা কারা? একটা মেয়ে ২০/২২ কিংবা ২৫/২৬ বছর বয়স পর্যন্ত বাবা, মায়ের কাছে থাকার পর, যাকে দেখে আপনার রাজকন্যার মতো মনে হয়েছিল, চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল। মাত্র ৫-৬ বছরের সংসার করে সেই মেয়েটা কেন আপনার চোখে " বাচ্চার মা " হিসেবে ছোট হবে? কেন সে আপনার কাছে বাবার রাজকন্যা থেকে আপনার সংসারের রানী হতে পারল না?সমস্যাটা তাহলে কি আপনার কিংবা আপনাদের। যে মেয়েকে তার বাবা-মা , ভাই-বোন 'রাজকন্যা' হিসেবে আপনার হাতে তুলে দিয়েছিল, সেই মেয়েকে আপনি এই পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করিয়েছেন। আপনি পারেন নি হয়তো তার যত্ন নিতে, আপনি হয়তো কখনো খোঁজ নেন নি। বাসন মাজতে গিয়ে তার হাতটা আস্তে আস্তে খসখসে হয়ে গেছে। কখনো সে হাতে সামান্য মেরিল লাগিয়ে দিয়েছিলেন? আপনার সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য নয় মাস পেটে ধারণ করে সেই ছিমছিমে দেহটা চর্বিযুক্ত হয়ে গেল, তাকে নিয়ে কখনও হাঁটতে বের হয়েছিলেন? আপনি ঘুমিয়েছেন, আপনার সেই রাজকন্যা আপনার পরিবার এবং সন্তানের দেখাশোনার জন্য ঠিকমতো ঘুমাতে পারে নি। কখনো সেই মসৃণ ত্বকের যত্ন নেয়া হয়ে ওঠে নি। ‌ ঘুমানোর সময় একটু সময় নিয়ে তাকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন? তার উসকো খুসকো চুলে জট লেগে যেত, সে জট খোলার সময় সে পায় নি আপনার পরিবার আর সন্তানের পেছনে সময় ব্যয় করে। আপনি পাশে বসে আঁচড়ে দিতেন কখনো? এরপরেও পুরুষের মনে আসে তার স্ত্রী আগের মত আকর্ষনীয় নেই। তার খানিকটা বিরক্তি লাগে। কখনো হয়তো কোনো ষোড়শী মেয়েকে দেখে আফসোসও জেগে ওঠে! অতঃপর কেউ কেউ অন্য কারো দিকে ঝুঁকে পড়ে!আপনার জন্য যে নারী তার সমস্ত সৌন্দর্য কোরবানি করে দিয়েছে, আপনি যে নারীকে বাবা মায়ের আদরের কোল থেকে নিয়ে এসে অযত্নে অবহেলায় এই অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছেন। সেই নারী কিংবা তার বাবা-মা যদি আপনার দিকে আঙ্গুল তুলে কি জবাব দিবেন? কতজন নারীকে দেখেছেন তার স্বামীর বয়স্ক চেহারার দিকে তাকিয়ে অভক্তি দেখিয়েছে? ২৬ বছরের সুপুরুষ লোক যাকে বিয়ে করেছিল কোনো নারী। সারাদিন বাইরে রোদে কাজ করার পর সেই তেলতেলে চেহারা, ঘন কালো চুল-দাড়ি, সুঠাম দেহ আর পেশীবহুল শরীর কি থাকে? থাকে না। পুরুষের চেহারাতেও বয়সের ছাপ পড়ে, চুলে পাক ধরে, সারাদিন কাজের পর তার গায়েও ঘামের দুর্গন্ধ আসে। একজন স্ত্রী, সে বোন আর মায়ের মমতার জায়গাটাও তার স্বামীকে দেয়। বয়সের ছাপ পড়ে কাঁচা-পাকা চুলের লোকটার দিকে তাকিয়েও, তার কখনও অভক্তি আসে না। বড্ড ভালোবাসা আসে তার প্রতি, ভালো খাবারগুলো না খেয়ে তার জন্য রেখে দেয়। বাসায় আসলে তার পিছন পিছন লেগে থাকে কখন তার কি লাগে। ছেলে মেয়েকে শা'সন করে বলে তোদের বাবা তোদের জন্য কত কষ্ট করে, শরীরটা কেমন পড়ে গেছে। মানুষটাকে যন্ত্রণা দিস না তো। ঘুমন্ত বয়স্ক মানুষটির যেন ঘুম না ভাঙ্গে, তাই পা টিপে টিপে কাজ করে যায়। বাচ্চাদের চুপ করিয়ে রাখে। স্বামীর মলিন, ভগ্ন চেহারা দেখে স্ত্রীর চোখে ভালোবাসার জন্ম নেয়। অকৃত্রিম ভালোবাসা... একটা নারী বোঝে ভগ্নচূর্ণ এই পুরুষ, সে তো তার জন্যই ভে'ঙ্গেছে! তার জন্যই লড়াই করে শরীরের সুখ বিসর্জন দিয়েছে। সে নারী ভালোবাসে, আরও ভালোভাবে, আরও মমতায়। পুরুষ কবে বুঝবে নারীর ভগ্নদশাও তারই জন্য, তারই জন্যে উৎসর্গ! তারা কেন পারে না, সেই ভগ্নচূর্ণ মানুষটাকে একইভাবে ভালোবাসতে? যেদিন তারা বুঝবে স্ত্রী বোঝা নয় বরং আমানত, হয়তো সেদিন তাদেরও একই অনুভূতি হবে। হয়তো সেদিন একই ভাবে দু'জন মানুষ দু'জনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিবে অনায়াসে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...