Skip to main content

মন খারাপের চক্র!

 


মন খারাপের চক্র!

অনেকে অনেক সময় বলে থাকে, আমার ইদানীং কিছু ভালো লাগে না, সবসময় মন খারাপ লাগে, কিছুই করতে ইচ্ছা করে না। এবং এর ফলে দেখা যায় যে, তারা আস্তে আস্তে নিজেদেরকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে ফেলে। তারা বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, কোন কাজে নিজেকে Involve করে না, যার কারণে হয়ত তার অনেক কাজ ও জমে যাচ্ছে, কিন্তু এই Constant মন খারাপের ফলে তাদের কোন কাজও ঠিক মত করা হয়ে উঠে না। যদি আমরা একটু চিন্তা করে দেখি, আমরা আসলে এই মন খারাপ ঠিক করার জন্য কি করছি? এক্ষেত্রে যেটা হয়, এই মন খারাপের জন্য যেই ভালো লাগার কাজ আমরা আগে করতাম, তা থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে ফেলি, আবার এই ভালো লাগার কাজগুলো থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে ফেলার ফলে দেখা যায় মন খারাপ কমার বদলে বেড়ে যায়। অর্থাৎ এটি একটি চক্রের মতো। আপনার মন খারাপ দেখেই আপনি ভালো লাগার কোন কাজ করছেন না, আবার আপনি কোন ভালো লাগার কাজ করছেন না দেখেই কিন্তু আপনার মন খারাপ। এই চক্রটা ধীরে ধীরে আমাদের মানসিক শান্তি ও শক্তিকে গ্রাস করতে থাকে। তাই মন খারাপ থেকে বের হয়ে আসতে আমাদেরকে এই চক্রটা আগে ভাঙতে হবে। এছাড়াও, মন খারাপের চক্র ভাঙ্গতে হলে আমাদের ধীরে ধীরে আমাদের শখের কাজগুলো শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে হতে পারে, হয়ত কাজগুলো করতে মন চাইবে না, বা ইচ্ছা করবে না। তখন আমরা কাজগুলো ভেঙ্গে ছোট ছোট ভাগ করে Continue করতে পারি। এতে করে আস্তে আস্তে আগ্রহ ফিরে আসবে, এবং আমরা মন খারাপের চক্র ভাঙতে ও সক্ষম হবো।

হঠাৎ রেগে গেলে কী করবেন? আমাদের এই Happening Life-এ এমন অনেক কিছুই ঘটে যা সুখকর বা প্রীতিকর নয়। অনেক Situation-ই আসে, যা আমাদের জন্য Stressful, যার উপর আমাদের Active Control ও থাকে না। তখন স্বভাবতই মেজাজ নিয়ন্ত্রণে থাকে না, আমাদের রাগ উঠে যায়। কীভাবে এই সময়গুলোতে আমাদের রাগকে ম্যানেজ করা যায়, তা জানা জরুরি, যাতে আমাদের পরবর্তীতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পরতে না হয়। এখানে আমরা "3P" রুল মেনে চলতে পারি। ◼ প্রথম P হচ্ছে Pause, যেকোনো পরিস্থিতিতে রেগে গেলে, হোক সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সর্বপ্রথম কোন রকমের React না করে যা করতে হবে তা হল Pause, তখন আমাদের নিজেদেরকে Immediately Pause করতে হবে। ◼এরপর যা আসে, তা হল Prompt, এই ধাপে আমাদের বের করতে হবে আমরা কেন রেগে যাচ্ছি, কোন ব্যাপারটি আমাদেরকে Trigger করছে তা বের করতে হবে। কোন বিষয়টি Stress-এর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তা আগে বুঝতে হবে। তাহলেই এটি নিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে। তখন আমার আস্তে আস্তে Deep Breathing করে নিজেদেরকে Stabilized করতে পারি। ◼সবশেষে আসে হচ্ছে Praise, যেখানে আমরা রাগের বশবর্তী হয়ে কোন ধরনের বড় ঝামেলাতে জড়াই নি বলে নিজেদেরকে Appreciate করতে হবে, নিজের প্রশংসা করতে হবে। এভাবে আমাদের Anger Outburst কে একটু হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...