একাকিত্ব কাটিয়ে উঠবেন কীভাবে? অনেক মানুষের ভিড়ে থাকার পরেও আমাদের মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি ভীষণ একা। আমাদের আশেপাশে পরিবার, আত্মীয়স্বজন সবাই আছে, কিন্তু তবুও আমরা Lonely ফিল করি। এই Loneliness-এর সর্বপ্রথম প্রভাব পড়ে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর। কারণ, মানুষ সামাজিক জীব বা Social Beings, যেখানে আমরা কখনই একা থাকতে পারি না। আমাদের এই একাকিত্ব মূলত আসে আমাদের মন থেকে, "It is a state of mind", যেখানে আমাদের মন একা বোধ করে। এটি হতে পারে অতিরিক্ত Workload-এর কারণে, যখন আমরা অতিরিক্ত কাজের চাপে থাকি, তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই Social Gatherings গুলো Avoid করে একা থাকতে চাই। এছাড়াও, অনেকের মধ্যে Negative Evaluation-এর ভয়, Judgement-এর ভয় কাজ করে, যার ফলে সে কারো সাথে মিশতে যাওয়ার বদলে একাই থাকতে চায়। কিন্তু, এই একাকিত্বকে আমাদের সঙ্গী হতে দেয়া যাবে না। আমাদেরকে অন্যের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা যেমন অন্যের মতো হতে পারবো না, তেমনি অন্য কেউ ও আমাদের মতো হতে পারবে না। সবাই যার যার মতো Unique, এবং এই ব্যাপারটি মেনে নিয়েই আমাদের জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।
Social Media Addiction!
Social Media Addiction আমাদের বর্তমান সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা, যা Teenager-দের মধ্যে বেশি লক্ষণীয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই Addiction এতই বেড়ে যায়, যে তখন মানুষ নিজেদেরকে Isolate করে ফেলে, এবং অনেক সময়েই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অনেকেই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা দেখে তাই বিশ্বাস করে বসে। ফলে দেখা যায় তাদের জীবন সম্পর্কে অনেক Unrealistic Expectation তৈরি হয়, মা-বাবার কাছ থেকে এমন কিছু চেয়ে বসে যা তাদের সাধ্যেরও বাইরে। এর ফলস্বরূপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও মনোমালিন্য অনেক বেড়ে যায়।
টিনেজারদের মধ্যে এই সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে ঘুমের সমস্যা, পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়া, সম্পর্ক নষ্টের প্রবণতাও বেড়ে যায়।
প্যানিক ডিসঅর্ডার কি?
প্যানিক ডিসঅর্ডার একটি Anxiety অথবা উদ্বেগ জনিত মানসিক সমস্যা, যা সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের আগে প্যানিক অ্যাটাক সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
যখন কোনো ব্যক্তির প্যানিক অ্যাটাক হয়, তখন তিনি হঠাৎ করেই মাত্রাতিরিক্ত ভয় পেয়ে যান অথবা তিনি অস্বস্তি অনুভব করতে থাকেন। এরকম অবস্থায় তার মধ্যে কিছু শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয় যেমন: হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট হওয়া বা দম বন্ধ হয়ে আসা অথবা শরীর কাঁপতে থাকা ইত্যাদি।
অনেক সময় মানুষ তার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার ভয় পায়, বা মনে করে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এমনকি অনেক সময় মানুষ মারা যাওয়ার ভয়ও পেয়ে থাকেন। এসব কারণে দেখা যায় তারা অনেক বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং এই উত্তেজনা কয়েক মিনিটের মধ্যে চরম অবস্থায় পৌঁছে যায়। এই অবস্থা ১০ মিনিটের মত স্থায়ী হতে পারে, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলো কী?
ডিপ্রেশন এমন একটি শব্দ, যা আমরা প্রতিনিয়তই এখন শুনে থাকি এবং ব্যবহার করে থাকি। কারো ঘন ঘন মন খারাপ হচ্ছে বা কিছু ভালো লাগছে না বলেই কিন্তু সে Depression-এ আছে, এই কথা আমরা বলতে পারি না। ডিপ্রেশন Term-টি কিন্তু Sad এর প্রতিশব্দ নয়। কিছু উল্লেখযোগ্য লক্ষণ রয়েছে যা দেখে আমরা Detect করতে পারি কেউ Depression-এ আছে কি না!
✅ প্রথমত, ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকা একজন মানুষ প্রায় প্রতিদিনই Helpless বা Hopeless Feelings নিয়ে থাকবে। তার কোন কাজের প্রতি আগ্রহ আসবে না, সবসময়েই কাজের প্রতি অনিচ্ছা থাকবে। নিজের যত রকমের পছন্দের কাজ রয়েছে, তা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়া। একটা সময় পরে কাজগুলো একদমই না করা হল ডিপ্রেশনের মারাত্মক লক্ষণ।
✅ দ্বিতীয়ত, কোন কারণ ছাড়াই দেহের ওজন বেড়ে যায় বা কমে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে যায়, ঘুম অনেক কমে যায় অথবা বেড়ে যায়।
✅ তৃতীয়ত, Depression এর একটি প্রধান লক্ষণ হচ্ছে অস্থিরতা। সে সারাক্ষণ অস্থির থাকে, যা দেখেও বোঝা যায় সে অবসাদ্গ্রস্থ কি না! এরা খুব সহজেই মেজাজ হারিয়ে ফেলে।
এছাড়াও, তাদের কাজের গতি কমে আসে, মনোযোগ হারাতে থাকে, এই লক্ষণ গুলো কারো মাঝে পরিলক্ষিত হলেও আমরা তাদের সরাসরি Depression-এর রোগী বানিয়ে ফেলবো না, বরং তাদের সাথে কথা বলে তাদের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করবো এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিতে বলবো।
বিবাহ বিচ্ছেদ!
ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ, এটি এমন একটি শব্দ, যেটা শোনা মাত্রই আমাদের মনে দুঃখ, বিস্ময় সহ এক ধরনের অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে। সম্পর্কের বিবাহ বিচ্ছেদ একটি কষ্টকর অভিজ্ঞতা, যা উভয় পক্ষের জন্যই যথেষ্ট কঠিন। আবার আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে যদি দেখা হয়, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আমাদের Negative মতামত ই বেশি থাকে। কেউ ডিভোর্স নিয়েছে শুনলে আমরা মনে অজান্তেই তাদের Judge করা শুরু করে দেই। দোষারোপ করতে থাকি।
দোষ যারই হোক না কেন, সম্পর্ক ভঙ্গ হওয়াটা একটা Trauma, যা উভয় পক্ষেরই কম বেশি হয়ে থাকে। আমাদের বুঝতে হবে, একটা সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়া মানেই জীবনের শেষ নয়, এই Situation থেকে বের হয়ে সবকিছু নতুন ভাবে শুরু করা সম্ভব। তাই এই Phase থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমাদের পরিবারের মানুষদের সাথে Communicate করতে হবে, প্রয়োজনীয় সাপোর্ট Seek করতে হবে।
সুখী দাম্পত্যের মূলমন্ত্র!
সুখী এবং সুস্থ-সুন্দর দাম্পত্য জীবনে কে না চায়? আমাদের সবারই আকাঙ্ক্ষা থাকে দাম্পত্য জীবন ঝামেলাহীন ভাবে কাটিয়ে দেয়ার। কিন্তু, তার জন্য কি কি করা উচিত তা আমরা অনেকেই হয়ত জানি না, বা বুঝতে পারি না। আমাদের ছোট ছোট ভুল আমাদের সাংসারিক জীবনে যেমন অশান্তি আনতে পারে, তেমনি আমাদের ছোট ছোট Efforts গুলো আমাদের সম্পর্ককে সুন্দর করতে পারে।
✅ সঙ্গীকে নিয়মিত Complement দেয়া বা কোন কাজের জন্য উৎসাহ দেয়া হতে পারে এই Process-টির ছোট একটি ধাপ।
✅ সম্পর্ক সুস্থ রাখতে হলে অবশ্যই একে অপরকে জানা ও বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, মাঝে মাঝে একান্তে সময় কাটানো দরকার।
✅সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে, নিয়মিত একজন আরেকজনের সাথে Communicate করা। যেকোনো সম্পর্কে যখন Communication Gap চলে আসে, তখন তা ধীরে ধীরে ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দেয়, এবং খুব সহজেই একটা সম্পর্ককে ভঙ্গুর করে দেয়।
তাই, যখনই কোন রকমের মতের অমিল বা বাক বিতণ্ডা হবে, তখন অবশ্যই একজন আরেকজনের সাথে কথা বলে জিনিসগুলোকে সমাধান করে নিতে হবে।
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যার একটি হচ্ছে মোবাইল ফোন Addiction, যা ছোট বড় সবার মাঝেই কম বেশি দেখা যায়। কিন্তু মোবাইলে Attention দিতে গিয়ে যাতে আমরা আমাদের পরিবার বা আপনজনদের ভুলে না যাই, তার খেয়াল রাখতে হবে।
আমাদের বর্তমান বিশ্বের চিকিৎসা পদ্ধতির বেশ উন্নতি হলেও, কিছু বিষয় নিয়ে অনেক মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা এখনো রয়ে গেছে। সিজার করে বাচ্চা ডেলিভার করলে বাচ্চা দুর্বল হয়, এখনো এমনটি অনেকে মনে করে থাকেন। যা একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

Comments
Post a Comment