Skip to main content

যার মরণ আছে যেখানে

 


(আমার আব্বা বলতেন : "যার মরণ আছে যেখানে নাও ভাড়া কইরা যায় সেখানে " গ্রাম্য প্রবাদ )

------------ ৫ জন যাত্রীসহ যেই OceanGate মিনি সাবমেরিনটা (submersible) ধ্বংস হয়েছে - কোনো কোনো এক্সপার্টরা নাকি প্রথম দিনেই নিজেদের মাঝে এই আশংকা প্রকাশ করেছিলেন। হারিয়ে যাবার পর OceanGate-এর সন্ধান পাবার আগ পর্যন্ত অনেকেই ইমোশনাল কিছু লেখা লেখি করেছেন, যেখানে কেউ কেউ বলেছেন, সেই ৫ জন হয়তো এতোক্ষণে আফসোস করছে কেনো এই ভ্রমনে এলাম! কিংবা হয়তো তারা একে অপরের সাথে ঝগড়া মারামারি করছে, একজন আরেনজনকে দোষারোপ করছে! কেউ লিখেছেন তারা অনেক ধনী, তারা হয়তো তাদের সমস্ত সম্পদের বিনিময়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে! কিন্তু এখন জানা গেছে এটা ছিলো catastrophic implosion, যা ঘটেছে মাত্র ২০ মিলি সেকেন্ডে! অর্থাৎ আমরা একবার চোখের পলক ফেলতে যতটুকু সময় নিয়ে থাকি - সেই সময়ের মাঝেই। অর্থাৎ সেই ৫ জনের কেউ ধারনা, কল্পনা বা চিন্তা করার সুযোগটাই পায়নি যে, এখুনি চোখের পলকে তাদের মৃত‍্যু হবে! এই বিষয়টাই আমাকে নাড়া দিয়েছে। আমরা অনেকেই মনে করি থাকি যে, জীবনের কোনো একটা সময় তওবা করে নেবো, অনেক কান্না কাটি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবো, বৃদ্ধ বয়সে হাজ্জে গিয়ে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নেবো এবং তারপর থেকে আর কোনো গুনাহ করবো না। কিন্তু কখন কিভাবে মৃত্যু হয়ে যাবে তা আমাদের ধারণার বাইরে। বিশেষ করে যখুনি কোনো গুনাহের কাজে থাকবেন, ভয় পাবেন এটা ভেবে যে, এখুনি মৃত্যু হতে পারে! গুনাহে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মৃত্যু হওয়া কতোই না আফসোসের! বরং আমাদের উচিত অধিকাংশ সময় আল্লাহর স্বরণে লিপ্ত থাকা। যাদের ঠোঁট ও জিহবা সবসময় আল্লার যিকিরে নিয়জিত থাকে তারা উত্তম মৃত্যুর সৌভাগ্য পেয়ে থাকেন! চাইলে সর্বদা আসতাগফিরুল্লাহ (أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ‎‎) পাঠ করতে থাকতে পারি। তাছাড়া তাসবিহ (سُبْحَانَ اللّٰهِ), তাহমিদ ( ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ), তাহলিল (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) ও তাকবির (اللّٰهُ أَكْبَر) পড়তে থাকতে পারি। উত্তম মৃত্যুর আশা রাখতে হয়, রবের নিকট সর্বোত্তম মৃত্যু চাইতে হয়।
এই সাবমেরিনটা আমাদের কি সুন্দর,ভয়ংকর সত্য একটা জিনিস চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় দিয়ে গেলো। পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান,সবচেয়ে ক্ষমতাবান জিনিস টাকা এই ছোট্ট সাবমেরিনটার ভিতরে মূল্যহীন। তাদের সামনে যদি অপশন রাখা হয়,সারা জীবনের সব অর্জিত সম্পদ,নাকি উপরে ভেসে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে বুক ভরা তাজা বাতাস। তারা এক সেকেন্ডও চিন্তা না করে বাতাস বেছে নিবে। সামান্য বাতাসের কাছেও টাকা মূল্যহীন। অর্থ বা টাকা জীবনের সবকিছু নয়,, জীবনে বেঁচে থাকার জন্য অট্টালিকা নয়, সুখ ও শান্তি কুঁড়ো ঘরেও বিদ্যমান থাকে।

COLLECTED

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...