Skip to main content

"স্ট্রেচ মার্ক"

 "স্ট্রেচ মার্ক"

"ফাটাদাগ" 🔴 হতে পারে তা পেটে/ পিঠে/ বাহুতে/ ঘাড়ে/ উরুতে/ স্তনে।।। জানেন কি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে এখনো কতো ভ্রান্ত ধারণা আছে?? গতকাল আমার চেম্বারে একজন রোগী এসেছিলেন তার সাথে একজন মহিলা ছিলেন (উনি হলেন রোগীর জা)। রোগীর সমস্যা= তলপেটে ব্যথা। 👉চেকআপ করতে যেয়ে বললাম জা কে বাহিরে যেতে। 👉রোগীঃ না, উনি থাকুক, সমস্যা নাই। (রোগীর বয়স কম, কথা ছোটদের মতো) যাইহোক এবডোমিনাল এক্সামিনেশন করলাম। এপেন্ডিসাইটিস এর সাইন-সিম্পটম সব। আগেও একবার এমন হয়েছিল। 👉এরপর তার জা হঠাৎ করে বলে উঠলেনঃঃ এই তোমার পেটে ফাটা দাগ কেন এগুলো?? রোগী চুপ। আবারও তার জা(ভাসুরের স্ত্রী) রাগান্বিত হয়ে বললেন "বলো তোমার পেটে এগুলো কিসের দাগ, কবে থেকে এমন হয়েছে?" (উল্লেখ্য রোগীর বিয়ে হয়েছে ২মাস) পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নিচ্ছে তা আমি বুঝতে পেরেছি ১০বছরের প্রাকটিসে দেখেছি অনেকের মধ্যে এই ধারণা বিরাজ করে যে "বাচ্চা পেটে থাকার সময় অথবা বাচ্চা হওয়ার পর এমন পেটে ফাটা দাগ হয়"। 👉তাই সাথে সাথে আমি রোগীকে বললামঃ আচ্ছা আপনি কি আগের থেকে মোটা হয়েছেন মানে ওজন কি বেড়েছে? 👉রোগীঃ হ্যা আমার ওজন অনেক বাড়ছে। 👉আমিঃ আপনার ওজন বৃদ্ধির ফলে চামড়া টানটান হয়ে ফেটে গেছে (এটা কোলাজেন ও ইলাস্টিন টিস্যুর জন্য হয়ে থাকে)। 🔴রোগীর জা কে একটা ছোট্ট উদাহরণ দিলামঃঃ শুনেন বেলুন যখন প্রয়োজনের বেশি ফুলানো হয় তখন তা ফেটে যায়, কিন্তুু মানুষের পেটতো তাই ওজন বৃদ্ধির সাথে সাথে চামড়া ফেটে দাগ দাগ হয়ে যায়। 🔴এবার আসুন নিজেদের জানার জন্য আর কি কি কারণে স্ট্রেচ মার্ক হয়ঃঃ ------------------------------------------------------------------------- 📝 অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি 📝 অতিরিক্ত ওজন থেকে স্লিম হয়ে যাওয়া 📝 গর্ভধারনের পর থেকে 📝 সন্তান প্রসবের পর 📝 বয়ঃসন্ধিকাল 📝 হরমোনের পরিবর্তন 📝 স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ দীর্ঘদিন ত্বকে ব্যবহারের ফলে 📝 হরমোন থেরাপি 📝 কুসিং সিন্ড্রোম/ মারফেনস সিন্ড্রোম সচেতনতা বৃদ্ধি হতে পারে এইসব ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্তির উপায়। নিজে জানার পাশাপাশি অন্যের জানা ভুল ধারনাগুলিকে যুক্তির সাথে বুঝিয়ে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। ধন্যবাদ। © ডাঃ তানিয়া হাফিজ

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...