Skip to main content

চেইন রিয়্যাকশন

 


ধরুন, আমি একটি পাপ করেছি। আমি কারো মনে কষ্ট দিয়েছি। ফলে এটা ঐ ব্যক্তির উপর প্রভাবে ফেলেছে এবং তার আশে পাশের মানুষজনও এর কারণে প্রভাবিত হয়েছে। অথবা, কোনো একটা ভালো কাজ সে করতে পারত কিন্তু মন খারাপ থাকার কারণে করেনি।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, আমার অন্যায়ের কারণে একটি চেইন রিয়্যাকশন হয়ে গেলো। আমার কাজটি শুধু একটি জীবনে প্রভাবে ফেলেনি, এটি আরো বহু সংখ্যক জীবনকে প্রভাবিত করেছে নেতিকবাচকভাবে। কিয়ামতের দিন আমি দেখবো আমার একটি পাপ আরো কত ঘটনার সাথে যুক্ত হয়ে আছে। যা আমি ভাবতেও পারিনি। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর আগে আমি বুঝতেও পারিনি যে কত ক্ষতি আমি করে ফেলেছি। "ওয়াও! এটা তো বিশাল ক্ষতি! কি দিয়ে এর ক্ষতিপূরণ করবো!" তাহলে, আমি আমার পাপকে একটি ছোট্ট ভুল হিসেবে দেখি না। আমি জানি, এর রয়েছে বহুমুখী প্রভাব। আর তাই এখনই, দুনিয়াতে থাকতেই আমি এমনসব ভালো ভালো কাজ করে যেতে চাই যার রয়েছে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব। যেন কিয়ামতের দিন আমার পাপগুলোর বহুমুখী প্রভাবের ক্ষতিপূরণ করা যায়। এজন্যই আমরা এমনসব পুণ্যের কাজ করার জন্য এতবেশি অনুপ্রাণিত যেগুলো আমাদের মৃত্যুর পরেও টিকে থাকবে। - নোমান আলী খানের আলোচনা অবলম্বনে

⛔ বিবাহিত❓ সংসারে অশান্তি। তালাক দিয়ে সব মিটমাট করে ফেলতে ইচ্ছা করে! ⛔ অবিবাহিত❓ সারাক্ষণ বিয়ের ভাবনায় দিন কাটে। সঙ্গীকে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর! ⛔ ধনী❓ একটু শান্তি আর সুখের খোঁজ কোথা থেকে পাওয়া যায়, তা ভাবতে ভাবতে বিষন্নতায় ডুবে থাকা! ⛔ গরীব❓ আরও বেশি অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে ফেরা! ⛔ শিশু❓ কবে যে বড় হবো? সবাই ছোট-ছোট বলে! ⛔ প্রাপ্তবয়স্ক❓ ইশ্! সেই শৈশবটাকে যদি আবার ফিরে পেতাম! ⛔ সন্তানপ্রাপ্ত❓ এইগুলোর যন্ত্রণায় জীবনটা শেষ হয়ে গেল। একটাও মানুষ হলো না। যাদের সন্তান নেই তারাই ভালো আছে! ⛔ নিঃসন্তান❓ আল্লাহ্, পৃথিবীর যেকোন কিছুর বিনিময়ে আমাকে সন্তান দাও! ⛔ চাকুরীজীবি❓ দিনভর এত খাটুনি আর ভালো লাগে না! ⛔ বেকার❓ কবে যে একটা চাকুরী হবে! ⛔ সেলিব্রেটি❓ মুখ লুকাতে ব্যস্ত! ⛔ সাধারণ ব্যাক্তি❓ সেলিব্রেটি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর! 🔰 এই জগতে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া মানুষের এই অসীম ইচ্ছা, চাহিদা আর অপূর্ণতাকে দমানোর কোনো শক্তি নেই। 👉 কাজেই আসুন, যে যেই অবস্থানে আছি "আলহামদুলিল্লাহ" বলে, সেখান থেকেই নিজের মনের সর্বোচ্চ প্রশান্তিটা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি,ইন্শাআল্লাহ 🤲

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...