Skip to main content

জেনারেশন গ্যাপ?

 


কেন আমাদের এত জেনারেশন গ্যাপ?

"কই! আমাদের সময় তো আমরা এরকম করতাম না!" "ইশ! আমার বাবা-মা এত old- fashioned!" "এই বয়সে আমি বাসার সব রান্না করতাম!" "আব্বু-আম্মু এ যুগের মানুষ না। উনাদের সাথে কথা বলে কোন লাভ নেই!" খুবই প্রচলিত কথাগুলো, তাই না? আমরা বেশিরভাগই জীবনে কখনো কখনো কথাগুলো নিজেরাই বলেছি, অথবা শুনেছি তো অবশ্যই! মাঝে মাঝে কিন্তু সত্যিই মনে হয় দুই প্রজন্মের ফারাকটা এখন অনেক বড়! বিষয়টা নিয়ে আপনার চিন্তা আসলে কেমন? আপনি হয়তোবা শুধুই ব্যাপারটা বোঝাচ্ছেন, কিন্তু বাবা বলছে আপনি বেয়াদব বা তর্ক করছেন! কখনোবা মা শুধুই আপনার ভালোর জন্য বাধা দিচ্ছেন, কিন্তু আপনি ভাবছেন উনি আপনার জীবনটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন! এত ভুল বোঝাবুঝির পরেও, একটি গবেষণায় দেখা গেছে এখনো প্রায় ৬৮-৭২% কিশোর-কিশোরী অভিভাবকদের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়করণে অভিভাবকের যেরকম ভূমিকা আছে, সন্তানের তেমনি ভূমিকা আছে। পরিবারের সকল সদস্যদের সমন্বয়েই গড়ে তোলা সম্ভব একটি সুস্থ মানসিক পরিবেশ। এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরী - ১/ ক্রমবর্তী দুই প্রজন্মের মাঝে ফারাক অধিক দৃশ্যমান হওয়ার মূল কারণ হলো পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাব। অভিভাবকের জন্য টিনএজার সন্তানকে শাসন এবং স্নেহ করা - উভয়ই জরুরী। এতে আপনার সন্তান মন খুলে আপনার কাছে কথা বলার সুযোগ পাবে। সময় যত এগোবে, সভ্যতার বিকাশে যোগাযোগের মাধ্যমগুলোও হবে ভিন্ন - এটা উভয়কে বুঝতে হবে। যেমনি পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যকে তার মতো করে সময় দিতে হবে, তেমনি সবচেয়ে ছোট সদস্যটির হতে হবে খেলার সঙ্গী। ২/ পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব আপনাদের জেনারেশন গ্যাপ বাড়াবে। একটা সময় ছিল যখন ল্যাপটপ, ফোন সবই ছিল বিলাসিতার উপকরণ; কিন্তু এখন সমাজের নিম্নস্তরের লোকটির হাতেও শোভা পায় স্মার্টফোন। আপনার শৈশব কালের সাথে সন্তানের শৈশবের কিছুটা পার্থক্য থাকবেই - এতোটুকু আপনাকে মেনে নিতে হবে। একইভাবে সন্তানকেও বুঝতে হবে, সভ্যতার অগ্রগতির সাথে তাল মেলাতে পিতা - মাতার কষ্ট হতেই পারে। ৩/ একে অপরের প্রতি সম্মানবোধের গুরুত্ব একটি সুস্থ পরিবারের জন্য অনস্বীকার্য। "আমার বাবা-মা ক্ষ্যাত!" তাই বলে আমি তাকে সম্মান দিবো না - এটা কখনোই ঠিক না! একইভাবে, সন্তান বড় হয়ে কি হতে চায়, কিসে আগ্রহবোধ করে - এই মতামতের গুরুত্ব অভিভাবককে দিতে হবে। ৪/ সঠিক কথা বলার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করুন। অনেক সিদ্ধান্ত পিতা-মাতার দৃষ্টিকোণ থেকে বেঠিক মনে হতে পারে, কিন্তু সন্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে ভেবে দেখুন; হয়তোবা তার বয়সে আপনি একই সিদ্ধান্ত নিতেন! মনে রাখবেন ধীশক্তি এবং বিজ্ঞতা বয়সের সাথে সাথে আসে এবং চিৎকার/রাগ কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। শান্তভাবে সঠিক সময়ে বুঝান - এতে উভয়ের উপকার! সমাজের জন্য তারুণ্যের শক্তি এবং বয়স্কদের পান্ডিত্য উভয়ই জরুরী। আসুন, নতুন করে একবার চেষ্টা করে দেখি - আমরা এই প্রজন্মের বিশাল ফারাক কমাতে পারি কিনা!

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...